১১ দলের কর্মসূচি ঘোষণা
ঢাকায় মহাসমাবেশ, চার বিভাগে হবে লংমার্চ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশসহ চার বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ; ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা ও ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে রেলপথে লংমার্চ হবে। এরপর ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ। লংমার্চের পাশাপাশি রাজপথে বেশ কয়েকটি সভা হবে। সরকারকে ‘ফ্যাসিবাদী কায়দায়’ লংমার্চে বাধা না দেওয়ার অনুরোধ জানান জামায়াতের আমির। বাধা দিলে সেই লংমার্চ দ্বিগুণ শক্তি পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, বৃষ্টির মধ্যে বসে আমরা সমাবেশ করছি। এটি সরকারের জন্য একটি বার্তা। সরকার ৫ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। গ্যাস দিতে পারছে না, বিদ্যুৎ দিতে পারছে না। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদল বিরোধীদলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির ওপর হামলা চালাচ্ছে। ছাত্রলীগের মতো তারা হামলা করছে। ক্যাম্পাসগুলো কোনো অবস্থাতেই তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার নাগরিকদের অত্যাচার করছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সরকার পদে পদে বিশ্বাসঘাতকতা করে যাচ্ছে। সরকার যদি গ্যাস বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ না করে, তাহলে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। বাংলাদেশের জনগণ তাদেরকে আর কোনো সুযোগ দেবে না। সরকার গ্যাসের দাম দফায় দফায় বাড়িয়েছে। আবার বাড়ানোর পাঁয়তারা করলে গদিতে বসে থাকতে পারবেন না। তিনি বলেন, সরকার যদি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে যেন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন না দেখে।
মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে জামায়াত আমিরসহ বিরোধীদলীয় শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে একটি মিছিল সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা করে। সচিবালয়ের গেটে প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থানকালে পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয় তাদের। সচিবালয়ের সামনেও ডা. শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলাম বক্তব্য দেন। তারা জনদুর্ভোগ সম্পর্কিত সরকারের সংশ্লিষ্ট ৪ জন মন্ত্রীকে জনগণের সামনে এসে কথা বলার আহ্বান জানান। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা সচিব কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না আসায় অবস্থান কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান ১১ দফা দাবি সম্বলিত একটি লিফলেট দেখিয়ে বলেন, জনগণের হাতে এই দাবি তুলে দেওয়ার জন্য আমরা আজ এখানে এসেছি। এই ১১ দফা কোনো দলের নয়, কোনো ব্যক্তির নয়, কোনো গোষ্ঠীর নয়, ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য। আমরা অধিকারের পক্ষে লড়াই করতে নেমেছি। আমরা জনগণের দাবি আদায় করে ছাড়ব। আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বিএনপির ২০ লক্ষাধিক লোক চাঁদাবাজিতে নেমেছে। তিন মাসে ৩১ হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপি হয়েছে। সরকার চালাতে শিক্ষিত, জ্ঞানী, দক্ষ লোকের প্রয়োজন। জনগণের দাবি আদায়ের জন্য আমাদের যা যা প্রয়োজন, তা করব।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে বিশৃঙ্খলা করা হচ্ছে। জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারগুলোর চোখে পানি এসেছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দাবি করছি, ছাত্রদলকে সংযত করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করুন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন বলেন, দেশে যদি তেল, গ্যাস, জ্বালানির সংকট থাকে, গ্যাস না থাকে এবং দ্রব্যমূল্য বাড়তে থাকে, তাহলে সরকারের দায়িত্ব কী? যদি জনগণের দুঃখ না বোঝে সরকার তাহলে তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, আমরা বিদ্যুৎ চাই, আমরা বিশুদ্ধ পানি চাই। বিদ্যুৎ গ্যাসের অভাবে শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মুফতি মুখলেসুর রহমান কাসেমী, ডিপিডিসি শ্রমিক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আ ন ম বজলুর রহমান, সাবেক সংসদ-সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আছিয়া খাতুন, ভুক্তভোগী গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিক জুয়েল শুক্কুর, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি প্রমুখ।
