মার্কিন হুমকির পর হরমুজে নৌচলাচল আরও কমল
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
হরমুজ প্রণালি। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হরমুজ প্রণালিতে শুক্রবার আরও দুটি জাহাজে হামলা হয়েছে। ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ-অবরোধ বজায় রাখার মার্কিন ঘোষণার পর এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি তেল পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে গত জুনে যে চুক্তি হয়েছিল, তার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইরান বলছে, তারা যেসব জাহাজের ওপর আবার হামলা শুরু করেছে, সেগুলো অনুমতি ছাড়া প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের দুটি জাহাজে হামলা চালানো হয়। আরব আমিরাত সরকার এর জন্য ইরানকে দায়ী করেছে।
এ অবস্থায় প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল একেবারেই কমে গেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য-বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুক্রবার ওই জলপথ দিয়ে মাত্র দুটি জাহাজ যাতায়াত করেছে। একটি ছিল ইরানি জলসীমায় প্রবেশকারী শস্যবাহী জাহাজ; অন্যটি বিপরীত দিকে যাওয়া একটি খালি শুকনো পণ্যবাহী জাহাজ। শুক্রবার অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেখা যায়নি। আগের দিন বৃহস্পতিবার প্রণালি দিয়ে ৯টি জাহাজ যাতায়াত করেছে; বুধবার এ সংখ্যা ছিল পাঁচটি। আগস্ট মাসে গড়ে প্রতিদিন যেখানে ১২টি জাহাজ চলাচল করেছে, সে তুলনায় এ সংখ্যাটি কম।
ঝুঁকিবিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক টরবজর্ন সলভেডট বলেন, ‘এ অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর প্রতি হুমকির পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করার সক্ষমতাই হলো আলোচনার টেবিলে ইরানের প্রধান দরকষাকষির হাতিয়ার।’
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরানের ওপর পালটা অবরোধ কার্যকর রাখার জন্য ওই অঞ্চলে নৌ-উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা মার্কিন সামরিক বাহিনীর রয়েছে। এ অবরোধের ফলে দেশটির মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। পানামা সফরের সময় সাংবাদিকদের হেগসেথ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী অনির্দিষ্টকালের জন্য এ ধরনের অবরোধ বজায় রাখতে সক্ষম। কারণ, আমরা নিয়মিত বিরতিতে জাহাজের অদলবদল বা রোটেশন চালিয়ে আসছি; ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখব।’
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের ওপর আরও বড় ধরনের আর্থিক আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। নিউজম্যাক্স-এর ‘রব স্মিট টুনাইট’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে আরও ঘোষণার জন্য চোখ রাখুন। কারণ আমরা এমন সব পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি যা কোনো দেশের ওপর অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশে একটি অজনপ্রিয় যুদ্ধ বন্ধ করার চাপের মুখে রয়েছেন। জ্বালানির উচ্চমূল্য তার জনপ্রিয়তার হার কমিয়ে দিচ্ছে এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে তার দলের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করে দিতে পারে। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত আছে। ওয়েলপ্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে ৮৭ দশমিক ৮৫ ডলারে।
