চিলমারীর খরখরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়
শ্রেণিকক্ষের অভাবে শহীদ মিনারে পাঠদান
গোলাম মাহবুব, চিলমারী (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছিল পাঠদান। দুর্ঘটনা এড়াতে প্রায় ১০ মাস আগে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলা হয়। নতুন ভবনের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও এখনো বরাদ্দ মেলেনি। ফলে শ্রেণিকক্ষের সংকটে কুড়িগ্রামের চিলমারীর খরখরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮১ শিক্ষার্থীকে শহীদ মিনার, টিনের ছাপড়া ও খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে।
চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকায় বিদ্যালয়টির অবস্থান। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে ১০ শিক্ষক ১৮১ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন।
১৯৯০ সালে দুই কক্ষের একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। শিক্ষার্থী বাড়ায় ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পিইডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় আরও দুই কক্ষের একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এর একটি কক্ষ অফিস ও অন্যটি পঞ্চম শ্রেণির শ্রেণিকক্ষ হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পুরোনো ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০২৫ সালে এলজিইডি সেটি ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। একই সময়ে পাঁচ কক্ষের নতুন ভবনের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। তবে বরাদ্দ না আসায় নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর নিলামের মাধ্যমে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, টিনের অস্থায়ী ছাপড়ায় গাদাগাদি করে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শহীদ মিনারে ক্লাস নিতে হচ্ছে।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার ও জয়ন্তি রাণী জানায়, সোমবার তারা বসে থাকা অবস্থায় বাতাসে ছাপড়ার একটি টিন খুলে তাদের ওপর পড়ে। অল্পের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
অভিভাবক জহুরুল ইসলাম বলেন, রোদ ও গরমের মধ্যে শিশুরা ক্লাস করছে। বৃষ্টি হলে ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। কর্মকর্তারা পরিস্থিতি দেখে গেলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
সহকারী শিক্ষক আয়েশা আক্তার বলেন, শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন। আবহাওয়া খারাপ হলে স্বাভাবিকভাবে পাঠদানও সম্ভব হয় না।
প্রধান শিক্ষক মো. নুর মোস্তফা বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে নিলামের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হয়েছে। নতুন ভবনের বরাদ্দ পেতে দেরি হওয়ায় দুটি ছাপড়া ঘরের ব্যবস্থা করে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে। তবে সব শ্রেণির জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, নতুন ভবনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন না আসা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে পাঠদান চালিয়ে নিতে দুটি ঘরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আরও কক্ষ নির্মাণের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। শিগগির পিইডিপি-৫ প্রকল্প চালু হবে। তখন বিদ্যালয়টির নতুন ভবনের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
