কক্সবাজারে হোটেল বারে কথা কাটাকাটির জের
ছুরিকাঘাতে যুবক খুন গণপিটুনিতে মৃত্যু এক অভিযুক্তের
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলের বারে (মদের দোকান) কথা কাটাকাটির জেরে যুবক নাজিবুল হক রাশেদ (২৮) ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের একজন সালমান মিয়া (২৮) গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলের দোতলার বারে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সালমানের মৃত্যু হয়। নিহত রাশেদ শহরের নুনিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা ও ফিশারিঘাট এলাকায় ব্যবসা করতেন। আর বিজিবি ক্যাম্প এলাকার আবুল কালামের ছেলে সালমান। রাশেদকে হত্যায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সন্ত্রাসী তাজওয়ার হক রাদির বিরুদ্ধে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে রাশেদ ও সালমানসহ পাঁচ বন্ধু রেনেসাঁ হোটেলের বারে যান। মদ্যপানের সময় একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সালমানের মাথায় বোতল দিয়ে আঘাত করেন রাশেদ। এরপর উভয় পক্ষ ফোন করে নিজেদের লোকজনকে ডেকে আনে। সালমান তার বন্ধু ও শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী তাজওয়ার হক রাদিকে ফোন করে ডেকে আনেন। এ সময় রাদির নেতৃত্বে কয়েকজন রাশেদকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এতে রাশেদের পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতর জখম হয়। তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। রাশেদকে ছুরিকাঘাত করার খবর ছড়িয়ে পড়লে নুনিয়ারছড়া এলাকার তার স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন হোটেলটিতে আসে। এরপর সালমানকে মারতে মারতে তারা নুনিয়ারছড়ায় নিয়ে যায়। এ খবর পেয়ে পুলিশ আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। এরপর রাত ১টার দিকে সালমানকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের লিডার সালমানের বিরুদ্ধে সদর থানায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। নিহত রাশেদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) অহিদুর রহমান বলেন, বারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং সেখানে কর্মরতদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আলামত সংগ্রহ ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেনেসাঁ হোটেলের বার বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কোনো ঘাটতি ছিল কিনা, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ-খুরুশকুল রাস্তামাথা এলাকার আবু তাহের মিয়ার ছেলে তাজওয়ার হক রাদি দীর্ঘদিন ধরে শহরে একটি অপরাধী চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। রাতের বেলায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার নেতৃত্বাধীন অপরাধী চক্রের তৎপরতা বেড়ে যায়। চলতি মাসে রাদির গ্রুপের বিরুদ্ধে সাতজনকে ছুরিকাঘাত এবং কয়েকজনকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ওই চক্রের বিরুদ্ধে ছিনতাই, অপহরণ এবং ইয়াবা পাচার, বিশেষ করে বড় চালানের লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা মামলা করতে সাহস পায়নি।
এদিকে রাশেদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে ফিশারিঘাট এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরদিন জুমার নামাজ শেষে রাশেদের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী।
