স্কুলে ১৪ জনই ট্যালেন্টপুল
টিনের ঘরে আলোর দোলন
একাই সামলান শিক্ষক-দপ্তরির কাজ * অনেক শিক্ষার্থী এখন বিসিএস ক্যাডারসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে
Advertisement
এটিএম নিজাম, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নের কালটিয়া উত্তরপাড়ায় মিশু বিদ্যানিকেতনে শিশুদের পড়াচ্ছেন স্কুলটির একমাত্র শিক্ষক দোলন ভৌমিক -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কাঁচা ভিটের ওপর দু’চালা টিনের ঘর। সেখানেই চলে স্কুলের কার্যক্রম। নেই বড় ভবন, নেই একাধিক শিক্ষক। অথচ গ্রামের হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের পাশাপাশি বিত্তশালী পরিবারের শিশুদের কাছেও আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি। ৩২ বছর ধরে একমাত্র শিক্ষক দিয়ে চলা কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নের কালটিয়া উত্তরপাড়ার এ স্কুলের সাফল্যের গল্প এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। স্কুলটির ১৪ শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে। অন্যদিকে সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত আট শিক্ষক থাকা পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয় পরীক্ষার্থী এসএসসিতে অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনাটিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
স্থানীয়দের কাছে কেউ স্কুলটিকে ‘ব্র্যাক স্কুল’, আবার কেউ ‘মিশু বিদ্যা নিকেতন’ নামে চেনেন। এসএসসি পাশ করার পর সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন কালটিয়া গ্রামের রামতোষ ভৌমিকের স্ত্রী দোলন ভৌমিক। শিক্ষক হওয়ার অদম্য আগ্রহ থেকে ১৯৯৪ সালে ব্র্যাক পরিচালিত এ স্কুলে যোগ দেন তিনি। ২০১৮ সালে ব্র্যাক শিক্ষাবঞ্চিত হতদরিদ্রদের এ কর্মসূচি গুটিয়ে নিলে মিশু নামের আরেকটি বেসরকারি সংস্থা স্কুলটির পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসে।
তবে হাল ছাড়েননি দোলন। শিক্ষকতাকে ধ্যান-জ্ঞান হিসাবে নিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মানুষ গড়ার কারিগর হিসাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। একই সঙ্গে দপ্তরি ও ঝাড়ুদারের কাজও করেন তিনি। প্রতি মাসে মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পান। চরম দারিদ্র্যের কারণে নিজের বড় সন্তানকেও বিবিএ পড়াতে পারেননি। স্কুলটির সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকে এখন দেশের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। অনেকেই শিক্ষা জীবন শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।
দোলন ভৌমিক বলেন, শিক্ষকতা এখন তার একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান। টাকার জন্য এ পেশা নেননি তিনি। কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, এটি অসাধারণ সাফল্যের গল্প। একমাত্র নারী শিক্ষক দোলন ভৌমিকের এমন ফল সরকারি সুবিধাভোগী স্কুলগুলোর শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ও নিবেদিত হতে অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং মাইলফলক হিসাবে কাজ করবে।
