২০২৭ সালের হজ
নিবন্ধনে সাড়া নেই হজযাত্রীদের
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২৭ সালের পবিত্র হজের প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও হজযাত্রীদের তেমন সাড়া মিলছে না। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিবন্ধনের সময় শেষ হবে। এরপর সময় বাড়ানো হবে না বলেও জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ফলে নিবন্ধনের জন্য হাতে রয়েছে আর মাত্র ২০ দিন। তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে নিবন্ধন করতে হচ্ছে। আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের বাকি টাকা পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মাত্র দুই হাজার ১১৪ জন হজযাত্রী প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৫১ জন ও বেসরকারিভাবে করেছে এক হাজার ৩৬৩ জন। অথচ সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ হিসাবে বিপুলসংখ্যক কোটা এখনো খালি রয়েছে।
গত ২৭ জুলাই থেকে এবারের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হজ প্যাকেজের মূল্য আগের তুলনায় কমানো হলেও প্রাথমিক নিবন্ধনের জন্য একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা জমা দিতে হচ্ছে। এ কারণে অনেকেই নিবন্ধনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তবে শেষ সময়ে হজযাত্রীদের সাড়া বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
হজ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভুইয়া যুগান্তরকে বলেন, ‘সৌদি আরবে হজের কোটার চাহিদা দ্রুত পাঠাতে হবে। এ কারণে নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো সম্ভব হবে না। তবে সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রাক-নিবন্ধন করেছে প্রায় ৬৮ হাজার জন। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হজযাত্রীদের ভালো সাড়া পাওয়া যাবে।’
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের আগে হজযাত্রীকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
সরকারি ও বেসরকারি-উভয় ব্যবস্থাপনাতেই প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ই-হজ সিস্টেমে এই যধলল.মড়া.নফ সাইটে নিজেই নিবন্ধন করা যাবে। এছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশন অফিস এবং ঢাকা হজ অফিস থেকেও নিবন্ধন করা যাবে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে ইচ্ছুকদের সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।
যারা হজে যেতে পারবেন না : ২০২৭ সালের হজে ১৫ বছরের কম বয়সি কেউ যেতে পারবেন না। এ ছাড়া হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, গুরুতর স্নায়ুবিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও ডিমেনশিয়া রোগী হজে যেতে পারবেন না। কেমোথেরাপি, বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন-এমন ক্যানসার রোগী এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এমন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও হজে যাওয়া নিষেধ। বিশেষ করে যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারের মতো রোগে আক্রান্তরা যেতে পারবেন না। এছাড়া গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস এবং ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় কোনো নারী হজযাত্রীকে ফিটনেস সনদ দেওয়া হবে না।
প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের তথ্য, জেলা, হজের ধরন এবং হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদের পাসপোর্ট থাকতে হবে।
হজের প্যাকেজ : ২০২৭ সালের হজের জন্য সরকারিভাবে দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি প্যাকেজ ১-এর খরচ ছয় লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। এতে মক্কা ও মদিনায় হারাম শরিফের কাছাকাছি আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। সরকারি প্যাকেজ ২-এর খরচ পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৬৪৮ টাকা। এ প্যাকেজে হারাম শরিফ থেকে তুলনামূলক দূরে আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে।
অন্যদিকে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ইকোনমি প্যাকেজের সর্বনিু খরচ পাঁচ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা, সাধারণ প্যাকেজের খরচ পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং বিশেষ প্যাকেজের সর্বোচ্চ খরচ সাত লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা। এবার হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

