সেই জামায়াত এমপির স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন ও সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জামায়াতে ইসলামীর আলোচিত সংসদ-সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ফ্ল্যাটটি গাজী নজরুল ইসলামের নামে বরাদ্দ বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি পরিবার নিয়ে থাকতেন।
বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান। তিনি বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। ভবনের একটি রুমের জানালা দিয়ে লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেছে। লাশ উদ্ধারের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। যদিও মরিয়ম খাতুনকে হত্যা করা হয়েছে-নাকি নিজেই আত্মহত্যা করেছেন-বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরিয়ম খাতুনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়-আত্মহত্যার সময় ওই তরুণীর পরনে সালোয়ার-কামিজ ছিল। রুমের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলছে। পায়ের কাছেই রয়েছে একটি চেয়ার। তার পাশে একটি শোয়ার খাট। ভিডিওতে আরও দেখা যায়-ফ্যানের যে পাখার সঙ্গে ওড়না বাঁধা, সেটি নিচের দিকে বেঁকে গেছে। দুই পায়ের আঙুলের অগ্রভাগ ফ্লোরের সঙ্গে হালকাভাবে স্পর্শ করে আছে।
জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন নজরুল ইসলাম। এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই তিনি দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। সম্প্রতি প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তাকে বিয়ে করেছেন তিনি। এ ঘটনার পর ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠিও দেওয়া হয়। এর মধ্যেই রোববার তার সেই দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের লাশ উদ্ধার করল পুলিশ।
হোটেলের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় এমপি তার গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। এর মধ্যে ২১ জুলাই ওই গাড়িচালক মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ওই এমপির বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা করেন।
রোববার ওই মামলায় ঢাকা সিএমএম আদালতে জামিননামা জমা দেন এমপি গাজী নজরুল। তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিননামা দাখিলের অনুমতি প্রার্থনা করেন। ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ শুনানি শেষে জামিননামা দাখিলের অনুমতি দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, এমপি নজরুল ইসলাম উচ্চ আদালত থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন পেয়েছেন। আদালতে এসে তিনি জামিননামা জমা দিয়েছেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে তাকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
