Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

বাংলা একাডেমি

নজরুল স্মৃতিকক্ষে নেই কবির চিহ্ন

কক্ষটিতে অফিস করেন একজন কর্মকর্তা, বেশির ভাগ সময় থাকে তালাবদ্ধ * পুরো কক্ষটিতে নজরুলবিষয়ক বই ও গবেষণার উপকরণ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে -মোহাম্মদ আজম

Advertisement

মুহম্মদ আকবর

মুহম্মদ আকবর

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নজরুল স্মৃতিকক্ষে নেই কবির চিহ্ন

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউজ। এর সঙ্গে রয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি -যুগান্তর

Advertisement

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অবস্থিত ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউজের সঙ্গে রয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি। ওই ভবনের দ্বিতীয়তলার একটি কক্ষে নজরুলের অবস্থান ছিল। নজরুল গবেষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কবির স্মৃতিবিজড়িত ওই কক্ষটি সংরক্ষণ করা হলেও এর ভেতরে কবির স্মৃতিচিহ্ন মাত্র নেই। বাইরে রয়েছে কেবল নামফলক ও একটি আবক্ষ ভাস্কর্য। এমন অবহেলায় রয়েছে কক্ষটি যে বাইরের দর্শনার্থীদের জ্ঞাত করানোরও কোনো নির্দেশক নেই-একাডেমির কোথাও। উলটো এটিকে একাডেমির অফিস হিসাবেই ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে নজরুলের দেহাবসানের পঞ্চাশ বছর পর বর্ধমান হাউজের নজরুল স্মৃতিকক্ষটি সাজানোর উদ্যোগ নিচ্ছে বলে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কাজী মোতাহার হোসেন বর্ধমান হাউজে থাকাকালেই কাজী নজরুল ১৯২৬ সালে এখানে তার অতিথি ছিলেন। প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ করা যায়-বর্ধমান হাউজকে পূর্ব বাংলা সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন হিসাবেও ব্যবহার করা হতো। সেখানেই হয় আর্ট কাউন্সিল, ছিল জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা ও তথ্য বিভাগের কার্যালয়। একপর্যায়ে ভবনটির একটি অংশে বাংলা একাডেমির কার্যক্রম শুরু হয়। 

এছাড়া রমেশচন্দ্র মজুমদার, ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ, ড. মুহম্মদ এনামুল হক, অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান, ড. কাজী দীন মুহম্মদ, অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, সরদার ফজলুল করিম, আবু জাফর শামসুদ্দীন, ড. মযহারুল ইসলাম এ ভবনে থেকে নানাবিধ কাজে যুক্ত ছিলেন। 

ভবনটির নিচতলায় রয়েছে ‘জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর’, দ্বিতীয়তলায় ‘ভাষা আন্দোলন জাদুঘর’, ‘শহীদুল্লাহ গবেষণা কক্ষ’, ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ ও ‘পুঁথি সংগ্রহশালা’ এবং তৃতীয়তলায় রয়েছে ‘লোক-ঐতিহ্য জাদুঘর’। ভবনজুড়ে এসব কর্মযজ্ঞে অনেকের মধ্যে আগ্রহ লক্ষ্য করা গেলেও প্রচারণার অভাব সর্বত্র। 

রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মঙ্গলবারও আসা স্বল্পসংখ্যক দর্শনার্থীকে সেখানে ঘুরতে দেখা যায়। প্রতিটি ছবি, সংগ্রহ ও স্থাপনার সামনে দাঁড়িয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করতে দেখা যায়। তবে কিছু বিষয়ে বিরক্তির ছাপ লক্ষ্য করা গেছে তাদের চোখে-মুখে। এসব জাদুঘর ও সংগ্রহশালা পরিদর্শন শেষে নিচে যুগান্তরের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় তাদের। একজনের ভাষ্য, উদ্যোগটা ভালো কিন্তু উপস্থাপনে আধুনিকতার ছাপ নেই। যত্ন ও নিরপেক্ষতা নেই। এই যেমন-ভাষা আন্দোলন জাদুঘরে ছবি এলোমেলো। হাতেগোনা কয়েকটা ছবি আছে যা ভাষা আন্দোলনকে বুঝতে যথেষ্ট নয়। অন্যদিকে লেখক জাদুঘরেও খুব বেশি জাতীয় পর্যায়ের লেখকদের ছবি নেই। ছবির নিচে ক্যাপশন না থাকায় অনেক লেখককে চিনতে কষ্ট হচ্ছে বলেও জানান তারা। 

ওয়ারী থেকে ঘুরতে আসা চিকিৎসক নিশাত আফরিন জানান, সবখানেই কমবেশি কিছু আছে এবং সেটাই দেখা গেল। কিন্তু নজরুল স্মৃতিকক্ষে কিছুই নেই। এটা নজরুলের প্রতি অবহেলা ছাড়া কিছু নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বাংলা একাডেমির জাতীয় সাহিত্যিক ও লেখক জাদুঘরের একটা অংশজুড়ে নজরুলের স্মৃতি, তার কিছু ছবি, তার সম্পাদিত পত্রিকা ও লেখা বইয়ের ছবি আছে।

দর্শনার্থীদের পরামর্শ-এসব ছবি এবং অন্যান্য রেপ্লিকা নজরুল স্মৃতি কক্ষে সংযোজন করা যেতে পারে। এছাড়া ভাষা আন্দোলন জাদুঘর থেকে অনেকের ছবি সরানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। তাদের ভাষ্য, এভাবে ছবি বাদ ও যুক্ত হলে এসব কাজের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। 

শতাধিক ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে, যুক্ত হবে নজরুল স্মৃতিকক্ষে : জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম যুগান্তরকে বলেন, ‘নজরুলের স্মৃতিকক্ষটি নতুনভাবে সাজানো ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লেখক জাদুঘরের দীনতা ও মলিনতা দূর করার পাশাপাশি সেখানে জাতীয় কবিকে নিয়ে সংগৃহীত দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনের কাছ থেকে বাংলাদেশের সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের গুরুত্বপূর্ণ শতাধিক ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। ছবিগুলো প্রিন্ট করে স্মৃতিকক্ষে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত পরিচয়ও থাকবে। তিনি জানান, নজরুল স্মৃতি কক্ষটিতে নজরুলবিষয়ক বই, পুস্তক ও গবেষণার উপকরণ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে নজরুল ইনস্টিটিউট বা নজরুল একাডেমির মতো বড় পরিসরের কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেই। কারণ নজরুলকে নিয়ে কাজ করার জন্য আলাদাভাবে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে রয়েছে।


Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

কারিগরি শিক্ষার ‘৩২৯ স্বপ্ন’ থমকে দক্ষতার প্রদীপেই নিভুনিভু আলো

দক্ষতার প্রদীপেই নিভুনিভু আলো

রংপুর টাউন হল সার্ধশতবর্ষী স্মারক ধুঁকছে অবহেলায়

সার্ধশতবর্ষী স্মারক ধুঁকছে অবহেলায়

শিশু একাডেমিতে আজ আসছেন প্রধানমন্ত্রী বাইরে আলোকোজ্জ্বল ভেতরে অন্ধকার

বাইরে আলোকোজ্জ্বল ভেতরে অন্ধকার

সাবরেজিস্ট্রার পদে বদলি বাণিজ্যে ‘গুডবাই’

সাবরেজিস্ট্রার পদে বদলি বাণিজ্যে ‘গুডবাই’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম