Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

সরবরাহ কমিয়ে সয়াবিনে ফের কারসাজি

ক্রেতা জিম্মি, সরকারকে চাপে ফেলছে সিন্ডিকেট

Advertisement

ইয়াসিন রহমান

ইয়াসিন রহমান

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রেতা জিম্মি, সরকারকে চাপে ফেলছে সিন্ডিকেট

Advertisement

সরকারকে চাপে ফেলে সয়াবিন তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। এজন্য বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। লিটারে আরও ৬ টাকা দাম বাড়ানোই চক্রটির টার্গেট। এজন্য মিলগেট থেকে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কৌশলে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ডিলার পর্যায়ে তৈরি হয়েছে সরবরাহ সংকট। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। এতে পাড়া-মহল্লার দোকানে চাহিদামতো মিলছে না তেল। ফলে বাজারে জিম্মি হয়ে পড়েছেন ক্রেতারা।

এদিকে সরকারের নির্ধারিত দাম কার্যকর থাকার পরও কারসাজির সুযোগে খোলা সয়াবিন তেল খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকায়। যা নির্ধারিত দামের চেয়ে ১৫ টাকা বেশি। অর্থাৎ সরকার নতুন করে মূল্য নির্ধারণ না করলেও অসাধু চক্র বাজারে বাড়তি দামের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে ভোক্তার ঘাড়ে।

এ বিষয়ে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, দেশের ৪ থেকে ৫টি বড় কোম্পানি সয়াবিন তেলের বাজারের ৮৫-৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। বাকি ১০-১৫ শতাংশ অন্য ছোট কোম্পানি সরবরাহ করে। ওইসব বড় কোম্পানি দেশের চাহিদামতো তেল আমদানির পর রিফাইন করে বাজারে ছাড়ে। বাড়তি মুনাফা করতে তারা বছরের একেক সময় তাদের ডিলারদের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দেয়। সরকারকে চাপে ফেলে সাধারণ ভোক্তাকে জিম্মি করে মূল্য বাড়িয়ে নেয়। গত কয়েক বছর একই পন্থায় ওই চক্র সরকারকে চাপে ফেলে মূল্য বাড়িয়ে নিয়েছে। তবুও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে ৫-১০ টাকা বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি করে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর নয়াবাজারের ৬টি মুদি দোকানের ৪টিতে এক ও দুই লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ দেখা যায়নি। পাশাপাশি জিনজিরা কাঁচাবাজারের ৮টি মুদি দোকান ঘুরে ৩টিতে এক লিটারের বোতল সয়াবিন পাওয়া গেছে। বাকি ২টিতে মিলেছে দুই লিটার তেল। তবে ওই সব দোকানে ৫ লিটারের তেলের সরবরাহ ছিল। জিনজিরা কাঁচাবাজারের মুদি ব্যবসায়ী সাগর বলেন, আমাদের এক ও দুই লিটারের সয়াবিনের দৈনিক চাহিদা ২০ কার্টন দিলেও ডিলাররা ২-৪ কার্টন দেয়। কৌশলে তারা আগের মতো করে দাম বাড়াতে সরবরাহ কমাচ্ছে।

এদিকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয়ের কারণ দেখিয়ে ১১ জুলাই ভোজ্যতেল লিটারে ৮-১০ টাকা বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। ওই অবস্থায় তখন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম খুচরা বাজারে ১০ টাকা বাড়িয়ে ২০৯ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়িয়ে ৫ লিটারের বোতল এক হাজার ১৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৮৮ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিল। একইভাবে খোলা পাম তেলের দামও লিটারে ১৩ টাকা বাড়িয়ে ১৮৩ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তখন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি সরকার। চিঠি দেওয়ার সপ্তাহ পর একদফা বৈঠকও হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। তবে কোনো মীমাংসা ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক। এরপর ২ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে বোতলজাত এক লিটারের সয়াবিন তেলে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা ও খোলা সয়াবিন তেলে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে দাবি মোতাবেক লিটারে ১০ টাকা না বাড়ায় ব্যবসায়ীরা ফের কারসাজি শুরু করেছেন। সরবরাহ কমিয়ে চাপে ফেলছেন সরকারকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাওরান বাজারের একটি সয়াবিন তেল ব্র্যান্ডের ডিলার যুগান্তরকে জানান, ফের তেলের দাম বাড়াতে চায় কোম্পানিগুলো। এজন্য ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা কম তেল পাওয়ায় খুচরা বাজারেও সরবরাহ কম করে দিতে পারছি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে সরবরাহ যতক্ষণ থাকে আমরা খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ করি। কোম্পানি তেল না দিলে খুচরায় দিতে পারি না। এমন পরিস্থিতি গত কয়েকবার হয়েছে।

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি আমদানি পর্যায়ে সব খরচ বেড়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে পরিবহণ খরচও। এসব কারণে বর্তমান বাজারদরের তুলনায় লিটারে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ব্যয় গুনতে হচ্ছে। এতে লোকসান হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্যসংক্রান্ত টাস্কফোর্সের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে, পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহণ ব্যয়। এসব কারণ দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল আরও বেশি (লিটারে ১০ টাকা) দাম বাড়ানোর। কিন্তু বর্তমানে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাই লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তবে নতুন করে দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে কোম্পানিগুলো কোনো চিঠি দেয়নি। তারা যদি মূল্যবৃদ্ধি করতে সরবরাহ কমিয়ে দেয়, সে বিষয়ে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম