অ্যাক্সেস রোড এখন ‘ক্রাইম জোন’
চট্টগ্রামে মধ্যরাতে বিএনপির দুই গ্রুপে গোলাগুলি
Advertisement
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামে মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার মধ্যরাতে এবারও সেই চকবাজার থানাধীন বাকলিয়ার অ্যাক্সেস রোডে (সৈয়দ শাহ রোডসংলগ্ন) এই ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলির শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকাবাসীর মধ্যে। বিএনপি সমর্থিত দুই নেতা জসিম উদ্দিন ও মুরাদের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। পরে রাতভর অভিযান চালিয়ে উভয় পক্ষের ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাকলিয়ার অ্যাক্সেস রোড এলাকা ‘কিশোর গ্যাং’ ও ‘মাদকের’ হটস্পটে পরিণত হয়েছে। ওই দুই গ্রুপই মাদকের এই ডিপো নিয়ন্ত্রণে রাখতে মরিয়া। তাদের দুজনেরই আশ্রয়দাতা নগর যুবদল নেতা এমদাদুল হক বাদশা।
রোববার রাত ১২টার দিকে মাদক বিক্রি নিয়ে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের ওপর চড়াও হয়। তারা হকিস্টিক, লাঠিসোঁটা ও চাপাতি নিয়ে পরস্পরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একের পর এক গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারাও গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। পরে বাকলিয়া থানা থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, শতাধিক লোক লাঠিসোঁঠা নিয়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর হামলে পড়ছে। রাস্তার দুই পাশে বহুতল ভবনের গেট ভাঙচুর করছে। এক দল আরেক দলকে ধাওয়া দেওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম যুগান্তরকে জানান, দুই পক্ষ লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে পরস্পরের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় পারটাপালটি ধাওয়া শুরু হয়। তারা একে অপরকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
১৫ জন গ্রেফতার : সংঘর্ষের পর বাকলিয়া ও চকবাজার থানা পুলিশ যৌথভাবে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। অভিযান চালিয়ে বাকলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে সংঘর্ষে জড়িত ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেফতারের বিষয়টি জানানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় সংঘর্ষকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও সড়কে চলাচলরত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে। এতে জনসাধারণের জানমালের ক্ষতি ও নাশকতা সৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়। খবর পেয়ে বাকলিয়া থানার টহল পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সিএমপির সিনিয়র সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অ্যাক্সেস রোড এখন ‘ক্রাইম জোন’ : স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাকলিয়া এক্সেস রোড এখন ‘ক্রাইম জোনে’ পরিণত হয়েছে। এখানে দিনদুপুরে চলে গোলাগুলি ও পালটাপালটি হামলা। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এলাকাটি। এক্সেস রোডের আশপাশে চারটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। গ্রুপের সদস্যদের বেশির ভাগেরই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নানা পদ-পদবি রয়েছে। আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, ডিস ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে বিরোধ, বিরোধপূর্ণ জায়গা দখল-বেদখল নিয়েই মূলত গ্রুপগুলো প্রায়ই দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়াচ্ছে। রাজনীতি নয়; বরং তারা জড়াচ্ছে স্বার্থের দ্বন্দ্বে।
গত বছরের ২৮ অক্টোবর অ্যাক্সেস রোডে যুবদলের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের সময় ছাত্রদলকর্মী সাজ্জাদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এর আগে ৩০ মার্চ এই রোডেই ঘটে জোড়া খুনের ঘটনা। প্রকাশ্যে গাড়ির ভেতর ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয় বখতিয়ার হোসেন মানিক ও মো. আবদুল্লাহকে।
