Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

ইরানের সঙ্গে আবার আলোচনা চান ট্রাম্প

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানের সঙ্গে আবার আলোচনা চান ট্রাম্প

Advertisement

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি তেহরানের সঙ্গে আরও আলোচনা চান। স্থানীয় সময় রোববার তিনি বলেন, এ সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনার আশা করছেন তিনি। তবে তিনি এ-ও বলেন, তেহরান বড্ড ‘বাড়াবাড়ি’ করে ফেলেছে। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তিনি আবার ইরানে হামলা চালাতে যাচ্ছেন।

সোমবার বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আশা করছেন, আগামী দিনগুলোতে তার প্রতিনিধিরা ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবেন। তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন, চলমান সংঘাত নিরসনে তেহরান এখনো গ্রহণযোগ্য কোনো শর্ত প্রস্তাব করেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘(এ সপ্তাহে) ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনার আশা করছি। তারা একটি চুক্তি করতে চায়; কিন্তু আমি যে ধরনের চুক্তি করতে চাই, এটি তা নয়। হয়তো এক বছর আগে আমরা এমন কোনো চুক্তিতে সম্মত হতাম। কিন্তু তারা অতিরিক্ত চাল চেলে পরিস্থিতি জটিল করে ফেলেছে।’ ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক হামলা চালানোর বিষয়টি ওয়াশিংটন বিবেচনা করছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, সেই বিকল্পটি এখনো খোলা রয়েছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে গত সপ্তাহে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগের পর ট্রাম্পের এ মন্তব্য এলো। ওই সময় কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। সূত্র জানায়, তেহরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং এক সপ্তাহের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে এর জন্য শর্ত ছিল-ওয়াশিংটনকে নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে, তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল করতে হবে। শনিবার ট্রাম্প এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

হরমুজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮ মার্কিন সেনা আহত

তিনজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এনবিসি নিউজ রোববার জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ আগে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন মেরিন সেনারা যখন একটি নৌযানে অবস্থান করছিলেন, তখন একটি ইরানি জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে আট মেরিন সেনা আহত হন। সেনাদের কেউই গুরুতর আহত হননি। তবে মাথাব্যথাসহ মস্তিষ্কে আঘাতজনিত কম্পন বা ‘কনকাশন’-এর মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তারা ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ এবং সম্ভবত মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যার শিকার হন।

আহতদের মধ্যে সাতজন ছিলেন সাধারণ পদমর্যাদার মেরিন সেনা (এনলিস্টেড পারসোনেল) এবং একজন কর্মকর্তা। কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ১৪ সেপ্টেম্বরের ওই হামলার পরপরই তারা সবাই পুনরায় কাজে যোগ দেন। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রটি যখন নৌযানটিতে আঘাত হানে, তখন ওই মেরিন সেনারা একটি ‘ব্যাটালিয়ন ল্যান্ডিং টিম’-এর অংশ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, নৌযানটি মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো জাহাজ ছিল না। তবে তারা এর ধরন নির্দিষ্ট করে বলেননি। কেবল এটিকে একটি ‘সামুদ্রিক নৌযান’ হিসাবে উল্লেখ করেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে পেন্টাগন। কারণ প্রতিবেদন ও শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে আহত ও নিহত সেনাসংখ্যায় প্রায়ই পরিবর্তন দেখা গেছে। বুধবার পর্যন্ত পেন্টাগনের ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালিসিস সিস্টেম’ তথ্যানুযায়ী, এ সংঘাতে ৮৬১ মার্কিন সেনা সদস্য আহত হন। ১৪ সেপ্টেম্বরের হামলার প্রায় ১০ দিন পর ওই আট মেরিন সেনার নাম ডেটাবেসে যুক্ত করা হয়। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ১৯ সেনার নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে।

শিগ্গিরই আরব সাগর থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে সরানো হবে : মোজতবা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হরমুজ প্রণালি নিয়ে বলেছেন, একসময় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সমুদ্রসীমা শত্রুবাহিনীর জন্য যেন এক ক্রীড়াক্ষেত্র বা অবাধ বিচরণক্ষেত্র ছিল। কিন্তু সাহসী ও শক্তিশালী ইরানি যোদ্ধা এবং হরমুজ প্রণালির রক্ষকদের কাছ থেকে কঠোর আঘাত পাওয়ার পর তারা এখন আর আরব সাগরের সীমানা পেরিয়ে সামনে আসার সাহস পায় না। তিনি বলেন, যখনই তারা এমন দুঃসাহস দেখিয়েছে, তখনই তাদের নিজেদেরই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। খুব শিগ্গিরই আরব সাগর থেকেও তাদের উপস্থিতি মুছে ফেলা হবে।

‘পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ’ (১৯৮০-৮৮ সালে ইরাক কর্তৃক ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ) এবং হিজবুল্লাহর সাবেক মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাৎবরণের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি বলেছেন, সর্বক্ষেত্রে ইরানকে পরাজিত করার শত্রুর স্বপ্ন কখনোই বাস্তবায়ন হবে না; দেশটি শত্রুর কাঙ্ক্ষিত সেই যুগে ফিরে যাবে না। তিনি বলেন, ‘শত্রুরা (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল) যে অতীতের দিনগুলোতে ফিরে যেতে চায়, সেই দিনগুলো পার হয়ে গেছে এবং তার পুনরাবৃত্তি আর কখনোই ঘটবে না।’

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ডিম-মুরগির বাজারে ফের অশনিসংকেত ফিডের দাম বাড়ায় বন্ধের পথে খামার

ফিডের দাম বাড়ায় বন্ধের পথে খামার

জাতীয় জাদুঘরে ফের হচ্ছে নজরুল কর্নার

জাতীয় জাদুঘরে ফের হচ্ছে নজরুল কর্নার

চীন ও ইউএই’র রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর

খলিলের সামনে জাতিসংঘে পাঁচ চ্যালেঞ্জ

খলিলের সামনে জাতিসংঘে পাঁচ চ্যালেঞ্জ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম