Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

চুয়েটের আন্দোলন গড়াল শহরে

সেশনজটের শঙ্কায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী

Advertisement

Icon

এম এ কাউসার, চট্টগ্রাম ও আসাদুল্লাহ গালিব, চুয়েট

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সেশনজটের শঙ্কায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন -যুগান্তর

Advertisement

উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে টানা ২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে আন্দোলন। বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা। ফাঁকা পড়ে আছে শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাবরেটরি। কবে নাগাদ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ফিরবে, তা নিশ্চিত নয়। এতে সেশনজটের শঙ্কায় পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ বিভাগের ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসের আন্দোলন এবার গড়িয়েছে চট্টগ্রাম শহরেও। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ফিরবেন না বলেও জানিয়েছেন তারা।

উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম এক প্রকার বন্ধ। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে উপাচার্য ভবনের দরজায় তালা ঝুলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি ক্লাস শুরু করেন। চার বছরের কোর্স অনুযায়ী ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে তাদের স্নাতক অধ্যায় শেষ করার কথা। তবে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ও এর আগে চুয়েটের সড়কে নিরাপত্তা আন্দোলনের কারণে একাডেমিক কার্যক্রম পিছিয়ে যায়। এর মধ্যে চলমান শাটডাউনে চতুর্থবর্ষের টার্ম-১-এর বিভিন্ন বিভাগের দুই থেকে তিনটি পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষাও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রয়েছে।

চুয়েটের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, প্রতিটি টার্মের ক্লাসের জন্য ৬৫ কার্যদিবস বা ১৩ সপ্তাহ সময় পাওয়া যায়। এ বছর ২২ ডিসেম্বর থেকে ২ সপ্তাহ শীতকালীন ছুটি রয়েছে। রমজান ও ঈদুল ফিতর মিলিয়ে প্রতিবছর প্রায় এক মাস বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকে। চলমান অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে বিদায়ি বর্ষের দ্বিতীয় টার্মের পরীক্ষা আগামী বছরের মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত গড়াতে পারে। একই সময়ে কুরবানির ঈদের ছুটি থাকায় পরীক্ষা ঈদের পরেও যেতে পারে। এতে চতুর্থবর্ষের শিক্ষার্থীদের সব একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করতে ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। চার বছরের কোর্স শেষ হতে তখন সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় লাগার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে চুয়েটে স্বাভাবিক চারটির পরিবর্তে একসঙ্গে পাঁচটি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। চলমান আন্দোলনের কারণে এ জট আরও বাড়তে পারে। ছয়টি ব্যাচের জট তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদেরও একাধিক বিভাগের পরীক্ষা আটকে আছে। এমএমই বিভাগের ১৫ অক্টোবর একটি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। পূজার ছুটির আগে ইইই ও বিএমই বিভাগের চারটি পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শুরু হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।

চতুর্থবর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভ তরফদার বলেন, শেষ টার্মের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল। সব ঠিক থাকলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির দিকে তারা পড়াশোনা শেষ করে চাকরির বাজারে যেতে পারতেন। অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বন্ধ থাকায় ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। দ্রুত শিক্ষাকার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানান সৌরভ।

৫৬ দিনের মাথায় চুয়েটের নবনিযুক্ত উপাচার্য আবু সাদাত মো. সায়েমকে অপসারণ করে তার স্থলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন।

শহরে শিক্ষার্থীরা : আন্দোলনের ১৫তম দিনে মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। ‘চুয়েট সচলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ’, ‘চুয়েট রিভোল্টস ফর সায়েম স্যার’সহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে তারা কর্মসূচিতে অংশ নেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ফিরবেন না বলে জানান।

লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, চুয়েট অচল থাকায় হাজারো শিক্ষার্থীর ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের জন্য সরকারের দ্রুত ও স্পষ্ট সিদ্ধান্তের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ চান তারা।

শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধর্মঘটও অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার তারা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ২৪ তারিখে অনলাইনে যোগ দিলেও এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি। চলমান সংকটের সমাধান করেই ক্যাম্পাসে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যপত্র দালালচক্রের ফাঁদ বিপদে প্রবাসীরা

দালালচক্রের ফাঁদ বিপদে প্রবাসীরা

লটারির মাধ্যমে সাবরেজিস্ট্রার বদলি যুগান্তরে প্রকাশিত রিপোর্টের প্রশংসা করলেন আইনমন্ত্রী

যুগান্তরে প্রকাশিত রিপোর্টের প্রশংসা করলেন আইনমন্ত্রী

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কার্যালয়ে ঢুকে হুমকি টানাহ্যাঁচড়া, পদত্যাগে বাধ্য হলেন উপাচার্য

কার্যালয়ে ঢুকে হুমকি টানাহ্যাঁচড়া, পদত্যাগে বাধ্য হলেন উপাচার্য

‘ভূতুড়ে কণা’ নিউট্রিনো নিয়ে গবেষণায় পদার্থে নোবেল

‘ভূতুড়ে কণা’ নিউট্রিনো নিয়ে গবেষণায় পদার্থে নোবেল

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম