জন-আস্থা ধরে রাখা আমাদের দায়িত্ব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জনগণের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি তা ধরে রাখা এবং আরও বাড়ানো পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘আমরা জনআস্থা অর্জন করেছি। কতটা অর্জন করতে পেরেছি, তার বিচার করবে জনগণ। সেই জনআস্থা ধরে রাখাই আমাদের জন্য বড় কাজ। একই সঙ্গে আরও বেশি জনআস্থা অর্জন করাও আমাদের দায়িত্ব।’
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৃথক দুটি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এদিন বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক হয়। এরপর জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীর সারদার আদলে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের জন্য ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজারের রঙ্গীখালী ও নোয়াখালীর পাহাড় এলাকায় দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এসব এলাকায় প্রায়ই অপহরণের ঘটনা ঘটে। সেনাক্যাম্প স্থাপিত হলে অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ নির্মূল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরের কাঁটাতারের বেড়া, সিসি ক্যামেরা ও সড়কবাতি প্রায়ই নষ্ট হয়। এগুলো মেরামতের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্যাম্পের বাইরে নির্দিষ্ট দূরত্বে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যৌথ অভিযানে এপিবিএনের একজন ডিআইজির নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে। সীমান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি বা বিশেষ জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) নির্ধারণ করা হয়েছে। এপিবিএনে কর্মরত প্রায় ৪০০ সাব-ইন্সপেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তাকে তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। পুলিশ, এসআরবি ও বিজিবির উপস্থিতি নিশ্চিত করতেও জায়গা নেওয়া হয়েছে। সেখানকার অধিবাসীদের পুনর্বাসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত স্থানটিকে সুশাসনের আওতায় আনা হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতায় প্রত্যাবাসন সম্ভব। সময় অনেক অতিবাহিত হয়েছে এবং সমস্যা জটিল হয়েছে। আশা করা যায়, শিগগিরই এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি রয়েছে।
