দিরাইয়ে সম্পত্তির জন্য বাবাকে রিহ্যাবে ভর্তি
Advertisement
দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
৮৪ বছর বয়সি আব্দুল মান্নান চিকিৎসার ব্যয় বহনে কিছু জমি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে জমি রেজিস্ট্রির একদিন আগেই তাকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) ভর্তি করা হয়েছে। সম্প্রতি সুনামগঞ্জের দিরাই পৌর সদরের দৌজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তার ছোট ছেলে জাহের আলমের অভিযোগ, বাবার সম্পত্তির লোভে তার বড় ভাই মকসুদ আলমের নেতৃত্বে একটি চক্র এমনটি করেছে। এ ঘটনায় তিনি দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ঘটনাটি ২৯ সেপ্টেম্বর রাতের হলেও এখন বিষয়টি জানাজানি হয়েছে। জানা যায়, আব্দুল মান্নানের চার ছেলে ও চার মেয়ে। দুই ছেলে ইউরোপে বসবাস করেন। জাহের আলমের অভিযোগ, পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রতিষ্ঠিত হলেও কেউই বাবার খোঁজখবর নেন না। দীর্ঘদিন বাবার ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি।
জাহের আলম জানান, বাবা চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহের জন্য কিছু জমি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ নিয়ে পরিবারের কয়েকজন সদস্য আপত্তি জানান। একপর্যায়ে জমি বিক্রির বিষয়টি কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ তীব্র হয়। ওই জমি বিক্রির জন্য বায়নাও নিয়েছিলেন তার বাবা। ৩০ সেপ্টেম্বর জমির দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার কথা ছিল। এর আগের দিন রাত ৩টার দিকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে বাবাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। কিছুদিন আগেও জবরদস্তি করে বাবার কাছ থেকে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার চেষ্টা করেন মকসুদ ও মুহিত আলম। পরে বাবা কয়েকদিন আত্মগোপনে চলে যান। সেসময়ে বাবা নিজের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় অভিযোগও দিয়েছিলেন।
জানা যায়, আব্দুল মান্নানকে সিলেটের ‘এইমইন লাইফ’ নামের একটি মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। তার মেয়ে মঞ্জু আরা বেগম তাকে সেখানে ভর্তি করেছেন।
জাহের আলম অভিযোগ করেন, তার বড় ভাই মকসুদ আলমের ইন্ধন ও পরিকল্পনায় বোন মঞ্জু আরা বেগম, রানু বেগম, মিনু বেগম ও চামেলী বেগম এবং প্রবাসী দুই ভাই মঞ্জুর আলম ও মুহিত আলম যোগসাজশ করে স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় বাবাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন।
তবে আব্দুল মান্নানকে সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করে মকসুদ আলম বলেন, আমার বাবা আব্দুল মান্নান ও ভাই জাহের আলম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদকসেবনকে কেন্দ্র করেই পরিবারে বিরোধ ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন মাদকসেবনের ফলে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
মকসুদ আলমের ভাষ্য, পরিবারের সদস্যরা ও মা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে বাবাকে সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য রিহ্যাবে পাঠিয়েছেন।
জাহের আলম বাবাকে উদ্ধার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় জসিমউদ্দীন জানান, সম্পত্তির লোভে বৃদ্ধ আব্দুল মান্নানকে গভীর রাতে এভাবে তুলে নেওয়া নিন্দনীয় কাজ।
এ বিষয়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্র এইম ইন লাইফের ম্যানেজার তাপস দার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নানেরও বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, মূলত আমিও বুঝতেছি এটা জায়গা-সম্পত্তির বিরোধের ঘটনা। আব্দুল মান্নানকে তার কয়েক ছেলেমেয়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করিয়েছেন। তবে জোরজবরদস্তি করে বৃদ্ধ বাবাকে নেওয়া দুঃখজনক। যদিও ওইখানে ডোপ টেস্ট করিয়ে পজিটিভ এসেছে। তদন্তে আমরা এটা নিশ্চিত হয়েছি। এ কারণে জাহের আলমের করা অপহরণ মামলাটি নেওয়া যাচ্ছে না।
