Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

ইউনিয়ন পরিষদ

সহিংসতা কমিয়ে ভোটের পরিকল্পনা ইসির

Advertisement

Icon

কাজী জেবেল

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতা কমিয়ে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে নতুন কৌশল খুঁজছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে প্রচারের সময়সীমা কমিয়ে আনা, একই উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে একই দিনে ভোট নেওয়া এবং স্থানীয় মস্তান ও সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করে তাদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংসদ-সদস্য ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দল ও জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছে কমিশন। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতাও চাইবে ইসি।

আজ অনুষ্ঠেয় কমিশন সভায় ইউপি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এ সভায় নির্বাচন কত ধাপে এবং কোন সময়ে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে। কমিশন সভার এজেন্ডায় ইউপি নির্বাচনের বিষয়টি রাখা হয়েছে। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রচারের সময় কমানোর চিন্তা : একাধিক নির্বাচন কমিশনার মনে করেন, তৃণমূল পর্যায়ের নির্বাচন হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার ঝুঁকি বরাবরই বেশি। আসন্ন নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

এ লক্ষ্যে তফসিল ঘোষণা থেকে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত প্রায় ৪০ দিন রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। এতে প্রার্থীরা প্রচারের জন্য তুলনামূলক কম সময় পাবেন। পাশাপাশি প্রতিটি ধাপে দেশের সব জেলার অন্তত একটি করে উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে একই দিনে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে এক ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অন্য ইউনিয়নে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ কমবে। প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকা নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলা বা বিভাগের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত মোতায়েন করাও সহজ হবে।

সরকার ও দলগুলোর সহযোগিতা চায় ইসি : কমিশনারদের মতে, এবার নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় একই দলের একাধিক ব্যক্তি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও নিজস্বভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ফলে নির্বাচনি পরিবেশ শান্ত রাখতে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা জরুরি।

এজন্য শিগ্গিরই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করা হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে এসব বৈঠকে সবার সহযোগিতা চাওয়া হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে আসন্ন ইউপি নির্বাচনেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অনুরোধ জানাবে কমিশন।

আগের নির্বাচনে প্রাণহানি ১১৩ : সর্বশেষ ২০২১ ও ২০২২ সালে সাত ধাপে চার হাজার ১০০-এর বেশি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ হয়। দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী অংশ না নিলেও ব্যাপক সহিংসতা ঘটে। বেশির ভাগ ঘটনা ঘটে আওয়ামী লীগের দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে ৬৭২টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১১৩ জন নিহত হন। অতীতের এ অভিজ্ঞতা আসন্ন নির্বাচনেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চ্যালেঞ্জকে সামনে এনেছে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার যুগান্তরকে বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের ভোট। এখানে পাশাপাশি ঘরের বাসিন্দারাও একই পদে প্রার্থী হন। এসব কারণে সহিংসতার আশঙ্কা বেশি থাকে।

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহিংসতা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। ইউপি নির্বাচনও সুন্দরভাবে আয়োজন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভালো নির্বাচন আয়োজনে সবার সহযোগিতা চাওয়া হবে।

নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের ওপর জোর : নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী মনে করেন, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ কঠিন হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে হলেও রাজনৈতিক দল, মন্ত্রী-এমপি বা প্রভাবশালীরা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দিলে নির্বাচনি মাঠে তার প্রভাব পড়বে। একই দলের একাধিক প্রার্থী থাকলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলো আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করলে সহিংসতা কমানো সম্ভব।

জুনের মধ্যে পাঁচ ধাপে ভোট : ইসি সূত্র জানায়, এবার পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। রমজানের আগে, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তিন ধাপের ভোটগ্রহণ হতে পারে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মাঝখানে যে সময় ফাঁকা থাকবে, সেই সময়ে বাকি দুই ধাপে ভোট নেওয়ার চিন্তা রয়েছে। প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল নভেম্বরের শেষদিকে অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে ঘোষণা করা হতে পারে। ৩০ জুনের মধ্যে সব ইউপি নির্বাচন শেষ করতে চায় কমিশন।

ব্যয় কমাতে স্থানীয় বাহিনীর ব্যবহারে গুরুত্ব : নির্বাচন ব্যয় সাশ্রয়ী করার পরিকল্পনাও রয়েছে ইসির। এজন্য বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে রিজার্ভে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের চেষ্টা করা হবে। এতে সদস্যদের দীর্ঘপথ যাতায়াতের প্রয়োজন কমবে এবং জ্বালানিসহ অন্যান্য খরচ সাশ্রয় হবে। এ লক্ষ্যেই প্রতিটি ধাপে প্রতিটি জেলার এক বা একাধিক উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে ভোট নেওয়ার তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

প্রথম ধাপের নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের পক্ষে নয় কমিশন। তবে সহিংসতা বেশি হলে তাদের মাঠে নামানো হবে। সে ক্ষেত্রে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাচন কমিশনার জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনায় একাধিক বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, মস্তান ও সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে স্থানীয় বাহিনীর আগে থেকেই ধারণা থাকে। ফলে তাদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা সহজ হতে পারে। তবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সংসদ-সদস্য ও প্রভাবশালীদের সখ্য থাকাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

রাজনৈতিক সমীকরণও ভাবাচ্ছে কমিশনকে : ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাকর্মীরা কীভাবে প্রার্থী হবেন, তা নিয়েও ভাবছে কমিশন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো জামায়াত ও এনসিপি জোটবদ্ধভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে এক ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। জোটের বাইরে এনসিপি আলাদাভাবে প্রার্থী দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। এসব বিষয়ে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছে ইসি। পাশাপাশি নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

গবেষণা প্রতিবেদন সয়াবিন তেলে বিষাক্ত ধাতু

সয়াবিন তেলে বিষাক্ত ধাতু

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ সার ও জ্বালানিতে বিনিয়োগে আগ্রহী মারুবেনি

সার ও জ্বালানিতে বিনিয়োগে আগ্রহী মারুবেনি

ইউনিয়ন পরিষদ সহিংসতা কমিয়ে ভোটের পরিকল্পনা ইসির

সহিংসতা কমিয়ে ভোটের পরিকল্পনা ইসির

যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ অধিদপ্তরের ভেতর থেকেই প্রশ্নফাঁস

অধিদপ্তরের ভেতর থেকেই প্রশ্নফাঁস

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম