ধর্ম অবমাননা
হাসপাতালে দ্বিতীয় দফা গণপিটুনি যুবকের মৃত্যু
Advertisement
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দুদফা গণপিটুনিতে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। প্রথম দফায় গণপিটুনির পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। সেখান থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে দ্বিতীয়দফায় মারধর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। গণপিটুনির আগে তিনি জনরোষের মুখে বিষপান করেন বলেও জানা যায়। পরিবারের দাবি, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। নিহত শামীম দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামসুর রহমান সানার ছেলে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার শামীমকে মারধরের খবর পেয়ে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পুলিশ। রাতে একদল লোক হাসপাতালে ঢুকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে আবার মারধর করেন। রাতে অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ পাহারায় তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে শামীমের বিরুদ্ধে আল্লাহ, রাসূল (সা.) ও সাহাবিদের নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ ওঠে। মূলত শামীমের কয়েকটি অডিও কথোপকথন ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই অডিওতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে, এমন মন্তব্য রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এদিকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শামীমের শাস্তির দাবিতে দেবহাটা উপজেলা সদরে একদল মানুষ মিছিল করছে। মিছিলে তারা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগের পর সোমবার রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তার বাড়িতে যান। এ সময় শামীম বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তার ভাইয়েরা তাকে কুলিয়া এলাকার সবুর ডাক্তারের চেম্বারে ভর্তি করেন। মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকার স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা কুলিয়ার ওই চেম্বারে গিয়ে শামীমকে মারধর করেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দ্বিতীয়দফায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। রাত ১১টার দিকে শামীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শামীমের পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েকদিন ধরে শামীম অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, উত্তেজিত জনতা ওই যুবককে ঘেরাও করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে কিছু লোক তাকে দ্বিতীয়দফায় মারধর করে। পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
