বিশ্বের বৃহত্তম বোমা দিয়ে ইরানে হামলার পরিকল্পনা
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশটির সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্ব’ ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে।
এক্ষেত্রে ইরানে পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে ভূগর্ভের গভীরে থাকা পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসে বোমাটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যেই।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নজরদারি বাড়ানো ও জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ খবর এলো। সম্প্রতি প্রণালিটিতে আবার ট্যাংকারে হামলা বেড়েছে। ইরানের গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার আল জাজিরা জানায়, হরমুজ প্রণালির পূর্বাংশে নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে একটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরান বলছে, ট্যাংকারটি নিষিদ্ধ পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও দেড় শতাধিক শিশু হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল। এরপর যুদ্ধ বেধে গেলে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। প্রণালিটি খোলার বিষয়ে তারা বেশকিছু শর্ত দিয়েছে। এ অবস্থায় তাদের শর্ত অমান্য করে কোনো জাহাজ হরমুজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তাতে হামলার ঘটনা ঘটছে।
একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, অ-পারমাণবিক বৃহত্তম বোমাটির আনুষ্ঠানিক নাম জিবিইউ-৪৩-বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বম্ব (এমওএবি), যা ‘মাদার অব অল বম্ব’ নামে পরিচিত। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে প্রথমবারের মতো এ বোমা ব্যবহার করা হলে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বা পরে নতুন করে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে যুদ্ধটি অত্যন্ত অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এ কারণে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ৬ মাসের বেশি সময় অতিক্রম করেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
ইরানে যেসব লক্ষ্যবস্তুতে এখনো হামলা চালানো বাকি, সেগুলোর জন্য সামরিক বাহিনী ট্রাম্পকে বিভিন্ন বিকল্প দিচ্ছে। তবে প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যক্তিগত আলোচনায় এসব পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের সংশয়, এসব হামলার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার কোনো সুস্পষ্ট কৌশল হোয়াইট হাউজের আছে কিনা। কারণ, সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা থাকলেই যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত হয় না। যুদ্ধ শেষ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টেরই।
সৌদিতে হুথির হামলা : হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে হুথির সঙ্গে সৌদির সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত বাহিনী রাজধানী সানায় ব্যাপক বিমান হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি হুথিরাও সৌদির বিভিন্ন লক্ষ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে।
বৃহস্পতিবার সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানান, রাজধানী রিয়াদে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুথিরা, যা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঠেকিয়েছে। পাশাপাশি পবিত্র নগরী মদিনাকে উদ্দেশ করে হামলার দাবিও করেন তিনি। বৃহস্পতিবার এ দাবি অস্বীকার করে হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এটাকে সৌদির ‘নির্লজ্জ মিথ্যা’ বলে বর্ণনা করেন। এর আগে মুসলিমদের পবিত্র দুই নগরী মক্কা ও মদিনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল হুথিরা।
হামলার ছবি ও ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা : হামলার ছবি ও ভিডিও ধারণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলছেন সৌদি বাসিন্দারা। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে-ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ছবি প্রকাশ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। হামলার ছবি তোলার কারণে সৌদি আরবে কয়েকজন মার্কিন নাগরিককে আটকের কথাও সামনে এসেছে।
ইইউ-জিসিসি সম্মেলন স্থগিত : ইউরোপীয় কাউন্সিল জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) মধ্যে দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন-যা ২৪ অক্টোবর সৌদির রিয়াদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে।
কাউন্সিল বিবৃতির বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, সম্মেলনের নতুন তারিখ যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের এক শীর্ষ সম্মেলনের সময় বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ সাংবাদিকদের বলেন, রিয়াদে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকটি সম্ভবত ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ স্থগিত করা হতে পারে।
ইয়েমেনে লড়াই : ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে সামরিক অভিযান চালিয়ে হুথিদের দখলে যাওয়া উপকূলীয় এলাকা পুনর্দখলের চেষ্টা করছে। বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছে তাইজ অঞ্চলে তীব্র লড়াই চলছে। সরকারি বাহিনীর দাবি, অভিযানে হুথিদের শত শত সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে।
গত ১০ দিনের বেশি সময় ধরে সৌদি আরবে প্রায় প্রতিদিনই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি। শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত হন। জবাবে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুথিদের অবস্থানে হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
