ইশরাকের কাজকে নেগেটিভ বলা যায় না: ডা. শফিকুর রহমান
Advertisement
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে মঙ্গলবার মহানগর জামায়াত আয়োজিত ছাত্রশিবিরের সাবেক সাথী-সদস্য সম্মেলনে বক্তৃতা করছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মাদক সমাজদেহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। তার কাজকে সরাসরি নেতিবাচক বলার সুযোগ নেই। ওই অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সফরে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত সাবেক সাথী-সদস্য সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র বহন করলে কিংবা কাউকে অস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করলে, তার উদ্দেশ্য ভালো হলেও অন্যরা সেটিকে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসাবে নিতে পারে। কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’
ইশরাকের পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা তাদের একটা দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তার পরে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এটা বলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী এটা চেয়েছেন, তার জন্য তিনি পদত্যাগ করেছেন।’
মাদক নিয়ে আপনার বার্তা কী-প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘মাদক তো আমরা নির্মূল চাই। সংসদে আইন পাশ হয়েছে মাদক নিয়ন্ত্রণ। আমরা তো নিয়ন্ত্রণ চাই না। আমরা নির্মূল চাই।’
মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা কেমন দেখছেন? এই প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা তো আমার পক্ষ থেকে ইশরাকই বলে দিয়েছেন।’
আর সাবেক সাথী ও সদস্য সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর সাথী-সদস্যদের আমৃত্যু সংগঠনের কর্মী হিসাবে কাজ করতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনের সূচনা হলেও তা এখনো যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি। অতীতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা জুলুম-নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। গত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে তা মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে এর অর্থ এ নয় যে ভবিষ্যতেও একই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে।’
এর আগে সকাল ৮টায় ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর খুলশী থানার জিইসি কনভেনশন হলে সাবেক সাথী ও সদস্য সম্মেলন-২০২৬ এ যোগ দেন। সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সংসদ-সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনসহ নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এরপর নগরীর হোটেল পেনিনসুলায় যান জামায়াত আমির। সেখানে চাকসু নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন।
