Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

ভক্ষকের ভূমিকায় রক্ষকও

মাদকের ভয়াল গ্রাসে রাজধানী

Advertisement

Icon

সিরাজুল ইসলাম

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মাদকের ভয়াল গ্রাসে রাজধানী

Advertisement

রাজধানীতে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বস্তির অলিগলি থেকে অভিজাত এলাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট-বিভিন্ন স্থানে চলছে মাদকের কারবার ও সেবন। ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও আইসের মতো মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। উদ্বেগের বিষয়, মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নামও উঠে আসছে। পুলিশের এক অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া দেওয়া ফ্ল্যাটে মাদকের আসর বসার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছেন পুলিশের মাঠপর্যায়ের সদস্যরাও। প্রশ্ন উঠেছে, যাদের দায়িত্ব মাদক নিয়ন্ত্রণ করা, তাদের কেউ কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়লে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কতটা সম্ভব?

রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল্লাহ আল জহিরের একটি বিলাসবহুল থ্রিপ্লেক্স বাড়িতে সোমবার রাতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অভিযানে বিদেশি মদ, গাঁজা, ইয়াবা ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৫৮ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারী। ডিবি সূত্র জানায়, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হলেও সেখানে নিয়মিত মাদকের আসর ও অবৈধ ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার ভাড়া দেওয়া বাড়িতে এমন কর্মকাণ্ডের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে সেখানে এসব আয়োজন চলছিল।

এর আগে ২৩ আগস্ট ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ পল্লবী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে দক্ষিণখান থানা পুলিশ। ২৭ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ টাকাসহ গ্রেফতার হন পুলিশ কনস্টেবল রেজাউল করিম।

রাজধানীর কাওরান বাজার রেললাইন বস্তি, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, মহাখালী বাস টার্মিনাল, গাবতলী ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। সাভারের বিভিন্ন স্থানেও চলছে মাদকের কারবার। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব এলাকায় খুচরা বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন রুটে মাদক রাজধানীতে প্রবেশ করছে। জেনেভা ক্যাম্পে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে।

সম্প্রতি গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শক গুলিবিদ্ধ হন। এরপর ঘুণ্টিঘর রেলস্টেশন ও মুন্সিরটেক এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি-১০) যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কয়েকজন মাদক কারবারিকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ সময় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় মাদক সেবনের একাধিক অবৈধ ঝুপড়ি ও আস্তানা।

গেন্ডারিয়ায় শনিবার বিকালে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। অস্ত্র উঁচিয়ে চালানো ওই অভিযানের ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে সোমবার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন ইশরাক হোসেন।

অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক যুগান্তরকে বলেন, শুধু মাঝেমধ্যে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে কিংবা বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর পেছনে শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় এ অবৈধ ব্যবসা টিকে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেফতার করা হলেও মূল হোতারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। জামিনে বেরিয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তারা। এ জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নেপথ্যের কুশীলবদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাজধানীতে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। মাদকের সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো পুলিশ সদস্য বা কর্মকর্তা অপরাধে জড়ালে তার বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। তিনি বলেন, শুধু খুচরা বিক্রেতা বা ভাসমান মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করেই অভিযান শেষ হবে না। মাদকের মূল গডফাদার ও নেপথ্যের কুশীলবদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ভক্ষকের ভূমিকায় রক্ষকও মাদকের ভয়াল গ্রাসে রাজধানী

মাদকের ভয়াল গ্রাসে রাজধানী

জামাইকে হত্যার পর কুড়াল কাঁধে ঘুরছিলেন শ্বশুর

জামাইকে হত্যার পর কুড়াল কাঁধে ঘুরছিলেন শ্বশুর

পাখির কোলাহলে মুখর চলনবিল

পাখির কোলাহলে মুখর চলনবিল

ট্রাম্পকে নিয়ে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার ছক নেতানিয়াহুর

ট্রাম্পকে নিয়ে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার ছক নেতানিয়াহুর

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম