প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর
আটটি সমঝোতা সইয়ের প্রত্যাশা
Advertisement
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এ দ্বিপক্ষীয় সফরে দুদেশের মধ্যে আটটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, বেসামরিক বিমান পরিবহণ, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার আধুনিকীকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতা স্মারক ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি জানান, সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া দুদেশের সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে একাধিক বৈঠক এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসাবে থাকবেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। এছাড়া ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিনিধিদলে থাকবেন।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ, জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (জেবিসিসিইসি) চেয়ারম্যান, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অরগানাইজেশনের (জেট্রো) সভাপতি এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করবেন। এছাড়া জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে তিনি মূল বক্তব্য দেবেন।
সফরে জাপানের ফুৎসু সিটি, চিবা এলাকার এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে। পাশাপাশি ইউনিক্লো কোম্পানির সদর দপ্তর এবং নাগোয়ার টয়োটা কারখানা পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
আসাদ আলম সিয়াম বলেন, এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, চলমান প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত ও সম্পন্ন করা, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানির কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নেও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।
তিনি আরও জানান, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে দুদেশ একযোগে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের ফলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্পে দেশটি সহযোগিতা করছে। এবারের সফরে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
