Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

মহেশখালীতে জাল স্ট্যাম্প

অর্ধেক জমি নয়তো টাকা হামলার পর রাস্তা বন্ধ

জেলা যুবদল নেতা মকছুদুল আলমের বিরুদ্ধে পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ * বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে : পুলিশ

Advertisement

Icon

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অর্ধেক জমি নয়তো টাকা হামলার পর রাস্তা বন্ধ

Advertisement

কক্সবাজারের মহেশখালীতে জাল স্ট্যাম্প তৈরি করে এক বছর ধরে জমি দখলের চেষ্টা করছে একটি প্রতিপক্ষ। এরপর থেকে সেই জমিতে বসতিদের ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে দিচ্ছে না তারা। পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশে দাবি করা হয়েছে ওই জমির অর্ধেক বা এর সমমূল্য। এতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাড়িঘরে হামলা করা হয়েছে। এরপর তাদের চলাচলের রাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

১৫ অক্টোবর মহেশখালীর বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ফকিরাঘোনা এলাকার মৌলবি আনছুর আলী পাড়ায় ওই হামলা হয়। গুরুতর আহত মাহমুদুল্লাহ ও তার ভাই রহমত উল্লাহ বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অভিযুক্তরা হলেন স্থানীয় ছাবের মিয়া, মোস্তাক মিয়া, জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজন। এ ঘটনায় জেলা যুবদলের সহসভাপতি মকছুদুল আলম নিরু ও তার ব্যক্তিগত সহকারী নেজাম উদ্দিন অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মাহমুদুল্লাহর দাবি, জমিটি তাদের কেনা সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে তারা সেখানে বসবাস করে আসছেন। তবে এক বছর ধরে ছাবের মিয়ারা সেখানে তাদের ঘরবাড়ি নির্মাণে বাধা দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার মহেশখালী থানায় অভিযোগও করেন তিনি। এ নিয়ে অভিযুক্তরা তিন দফা হামলা চালিয়েছে।

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে থানায় সালিশি বৈঠক হয়। ওই জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে হলে তাদের পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলে দাবি করা হয়। অন্যথায় কোনোভাবে ঘর তুলতে দেওয়া হবে না হুমকি দেওয়া হয়।

এরপর ১৫ অক্টোবর বিকাল ৫টার দিকে বন্দুক, দা ও কিরিচ নিয়ে মাহমুদুল্লাহদের বাড়িতে হামলা চালান ছাবের মিয়া ও তার লোকজন। এতে মাহমুদুল্লাহর বাঁ হাতের কবজি ভেঙে যায়। তার ছোট ভাই রহমত উল্লাহর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। এ সময় তাদের বাড়িঘর ও বেড়া ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন।

মাহমুদুল্লাহর অভিযোগ, বিরোধ মেটানোর কথা বলে জেলা যুবদলের সহসভাপতি মকছুদুল আলম নিরুর পিএস নেজাম উদ্দিন পুলিশের উপস্থিতিতে জমির বাজারমূল্যের অর্ধেক টাকা, না হলে জমির অর্ধেক ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ বিষয়ে নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘মূলত ছাবের মিয়ারা আমাকে বিরোধ মেটানোর জন্য টাকার কথা বলতে বলেছিলেন। আমি তাদের হয়ে বলেছি। আমার নিজের কোনো দাবিদাওয়া নেই।’

যুবদল নেতা মকছুদুল আলম বলেন, ‘আমি মূলত তাদের হয়ে থানায় যাইনি। তারা আমার কাছে এসেছিলেন। আমি চাঁদাবাজি করেছি বা তাদের আশ্রয় দিয়েছি, এমন প্রশ্নই ওঠে না। বরং আমি বিরোধটি মেটানোর চেষ্টা করেছি।’

জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাবের মিয়া ও তার লোকজন জাল স্ট্যাম্প তৈরি করে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করেছেন এবং চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাবের মিয়া বলেন, ওই জমির ওয়ারিশদের সঙ্গে আমাদের একটি বায়নানামার স্ট্যাম্প আছে। যার ভিত্তিতে আমি জমির অর্ধেক দাবি করেছি।

তবে ছাবের মিয়ারা যে স্ট্যাম্প দেখিয়ে জমির মালিকানা দাবি করছেন, তাতে আগের মালিক হিসাবে আমান উল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমান উল্লাহ বলেন, আমার বাবা আবদুর রশিদসহ মালিকদের কাছ থেকে ওই জমি কেনা হয়েছে। সেখানে আমরা কীভাবে ছাবের মিয়াদের স্ট্যাম্প দেব? তারা এটি জাল তৈরি করেছেন। বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য যখন ছাবের মিয়াদের নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসতে চাইলাম, তখন তারা সালিশে আসেননি, পালিয়েছেন।

মহেশখালী থানার ওসি মো. আব্দুস সুলতান বলেন, সালিশ বৈঠকে ছাবের মিয়ারা বিরোধপূর্ণ জমির বিষয়ে একটি স্ট্যাম্প দেখিয়েছেন। অন্যদিকে রেজিস্ট্রি সূত্রে ওই জমির মালিক মাহমুদুল্লাহরা। তারা আত্মীয় হওয়ায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। এরপরও হামলা হয়েছে। আমি পুলিশ পাঠিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা এখনো মামলা করেননি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ভক্ষকের ভূমিকায় রক্ষকও মাদকের ভয়াল গ্রাসে রাজধানী

মাদকের ভয়াল গ্রাসে রাজধানী

জামাইকে হত্যার পর কুড়াল কাঁধে ঘুরছিলেন শ্বশুর

জামাইকে হত্যার পর কুড়াল কাঁধে ঘুরছিলেন শ্বশুর

পাখির কোলাহলে মুখর চলনবিল

পাখির কোলাহলে মুখর চলনবিল

ট্রাম্পকে নিয়ে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার ছক নেতানিয়াহুর

ট্রাম্পকে নিয়ে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার ছক নেতানিয়াহুর

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম