সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
সুইটি এখনো জেলে দুই মাস পর ফিরবে, আশায় মা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, টাঙ্গাইল, মির্জাপুর ও ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
মেয়ে সুইটির ছবি হাতে মা জহুরা বেগম ও বাবা ফজল মিয়া। সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নারীই তাদের মেয়ে। মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের নগর ছাওয়ালী গ্রামে -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের সুইটি আক্তারের পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তার পরিবারে। পরিবারের দাবি, প্রায় ১৫ দিন আগে ফোন করে সুইটি জানিয়েছিলেন, দুই মাস পর বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু সম্প্রতি সৌদি আরবে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর শুনলেও এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। এদিকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুইটির মা জহুরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়ের কী হয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার করে কিছু জানি না। বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চাই, আমার মেয়ের কী হয়েছে। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। জীবিত হোক, মৃত হোক-আমি আমার মেয়েকে চাই।’
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের সুইটি সৌদি আরবে যান। দালালের মাধ্যমে চাকরির জন্য মেয়েকে পাঠাতে তার বাবা ফজল মিয়া দেড় লাখ টাকা ধার করেছিলেন। প্রথম পাঁচ মাস সুইটি বাড়িতে টাকাও পাঠান। পরে ফোন করে জানান, তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।
ফজল মিয়া বলেন, মক্কায় কর্মরত অন্য নারীকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার পর সুইটিকে ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে মেয়ে তাকে জানিয়েছিলেন। এরপর প্রায় এক বছর তার কোনো খোঁজ পাননি তারা। প্রায় ১৫ দিন আগে সুইটি আবার ফোন করেন। তবে আদালতে তার বিচার বা মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে কিছু জানাননি। বরং দুই মাস পর কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছিলেন।
সুইটির পরিবার জানায়, দুদিন আগে তারা লোকমুখে জানতে পারে, সৌদি সরকার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। তবে এ খবরের সত্যতা সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নয়। স্থানীয় মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নূপুর এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সুইটির বিষয়ে সরকারের কোনো পর্যায় থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সৌদি আদালত কোন প্রেক্ষাপটে এবং কী সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন, তা নথিপত্র না দেখে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। রায়ের যৌক্তিকতা, বৈধতা ও ভিয়েনা কনভেনশনের সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা না করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা উচিত নয় বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা তথ্য যাচাই করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তার ভাষ্য, বিদেশে বাংলাদেশিদের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সক্রিয় রয়েছে। তবে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা মিললে সরকারের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মিনগ্রাম স্কুল মাঠে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
