এআই হ্যাকাথনে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
নেতৃত্বে বদলগাছীর নাফিউ
Advertisement
সাগর হোসেন, বদলগাছী (নওগাঁ)
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
জাতিসংঘের বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হ্যাকাথনে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দল। দলটির নেতৃত্বে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আবু নাছের মোহাম্মদ নাফিউ (মাঝে) -সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাইত্রিশ দেশের কয়েকশ’ দলকে পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত গড়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) হ্যাকাথন-২০২৬-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের দল ‘জেডএআইবিডি’। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সন্তান আবু নাছের মোহাম্মদ নাফিউ। তার নেতৃত্বে দলের এই সাফল্যে গর্বিত বদলগাছীবাসী।
১৫ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনালে আন্তর্জাতিক বিচারকরা বাংলাদেশকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল বাণিজ্যসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা বিশ্লেষণের জন্য দলটির তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্লাটফর্ম ‘ক্লজচেইন’ এ সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্লাটফর্মটি বিভিন্ন দেশের আইন বিশ্লেষণের পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতা যাচাই করতে পারে।
নাফিউ বদলগাছী সদর এলাকার মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা শিক্ষক আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুলের ২০১০ সালের ব্যাচের শিক্ষার্থী। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার এ অর্জনে আনন্দিত তার সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
দলটির নেতৃত্বে থাকা নাফিউ বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্কের (বিডিরেন) ব্যবস্থাপক (ইনোভেশন) ও এআই প্রকৌশলী। দলের অন্য সদস্যরা হলেন বিডিরেনের সিনিয়র ডেভেলপার ও এআই প্রকৌশলী পুনম চৌধুরী, এআই প্রকৌশলী মো. সানিউল বাসির সাজ এবং আইনি পর্যালোচক মো. ইনসাফুল রহমান তুষার। গবেষণা তত্ত্বাবধানে ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নওশিন আমিন শেখ।
‘ইউনাইটেড নেশনস গ্লোবাল হ্যাকাথন ২০২৬ : ইউজিং এআই ফর ডিজিটাল ট্রেড রেগুলেটরি অ্যানালাইসিস’ শীর্ষক এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ইউএনএসকাপ)। ডিজিটাল বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন দেশের আইন ও বিধিমালা বিশ্লেষণে সহায়ক উন্মুক্ত এআই প্রযুক্তি তৈরি করাই ছিল এ প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য।
পাঁচ মাস ধরে কয়েক ধাপের বাছাইপ্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের দল। ফাইনালে প্রতিটি দলকে আগে থেকে জানানো হয়নি-এমন একটি দেশ ও নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে সরাসরি পরীক্ষা দিতে হয়। বিচারকরা নিজেরাই প্রতিযোগীদের তৈরি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এর কার্যকারিতা যাচাই করেন। উপস্থাপনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বাংলাদেশের দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।
দলটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্লজচেইন বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও পূর্ব তিমুর-এই ১১ দেশের আইন বিশ্লেষণ করতে পারে। ১ হাজার ৪৯টি সরকারি উৎস থেকে সংগৃহীত ৭৪৬টি আইন ও বিধিমালার ভিত্তিতে প্লাটফর্মটিতে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি আইনি ধারা। পুরো প্লাটফর্মটি উন্মুক্ত সোর্স প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. মুজাফফর হোসেন উকিল বলেন, নাফিউ খুবই মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। অষ্টম শ্রেণিতেও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে উপজেলা সেরা হয়েছে। এরপর এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে আবারও উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে। তার এই আন্তর্জাতিক সাফল্যে শিক্ষক হিসাবে আমি সত্যিই অনেক গর্বিত। তার জন্য দোয়া ও শুভকামনা রইল।
