কটন সুতার বন্ড প্রত্যাহার
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির কার্যকারিতা তিন মাস স্থগিত
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারসংক্রান্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আদেশ প্রত্যাহার করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারীকৃত চিঠির কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট চিঠি কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সিকদার মাহমুদ রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী কায়সারুজ্জামান জানান, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। আরিফ নিট স্পিন লিমিটেডসহ সাতটি কোম্পানি এ রিট আবেদন করে। রিটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, এনবিআর, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটসহ বিভিন্ন সরকারি কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ৭ সেপ্টেম্বর এনবিআর ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিলের নির্দেশ দিয়ে আদেশ জারি করে। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আদেশ স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়ে এনবিআরে একটি চিঠি দেয়।
আইনজীবী কায়সারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, শুনানি শেষে আদালত এনবিআরে পাঠানো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি কেন অবৈধ নয়, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় চিঠির কার্যকারিতা ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেন আদালত।
টেক্সটাইল শিল্প মালিকরা বলছেন, ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে খালাসের ব্যবস্থা আমদানি কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেনি, নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়নি। বরং এনবিআর-এর আদেশের মাধ্যমে আমদানিকৃত সুতার যথাযথ ব্যবহার, রপ্তানি নিশ্চিতকরণ এবং বন্ড সুবিধার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর উপায় হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থার যথাযথ বাস্তবায়ন দেশের প্রাথমিক বস্ত্র খাত, বিশেষ করে স্পিনিং শিল্পের সংকট মোকাবিলা এবং উৎপাদন কার্যক্রম পুনরুজ্জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারিত হলে বিদ্যমান শ্রমিক-কর্মকর্তাদের কর্মসংস্থান সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, আমদানিকৃত সুতা ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির পর সংশ্লিষ্ট রপ্তানি আয় সম্পূর্ণভাবে দেশে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের ঝুঁকি কমতে পারে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ এবং দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সম্ভাবনাও রয়েছে।
