স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে প্রধানমন্ত্রীকে ঘেরাও: নাহিদ ইসলাম
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পদত্যাগ দাবি করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘ব্যর্থতার দায় নিয়ে তারা পদত্যাগ না করলে আমাদের মিছিল বড় হবে। বাংলাদেশের সর্বত্রই আমরা মিছিল করব। সেই মিছিল নিয়ে আমরা জনাব তারেক রহমানকে ঘেরাও করে আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।’ চার দফা দাবিতে শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত গণবিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে এনসিপির দুই প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপস্থিতিতে সমাবেশে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন। জাতীয় জাদুঘরের সামনের চত্বর ও আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন নেতা-কর্মীরা।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, হাজারো মানুষের রক্তদানের মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এক স্বৈরাচারকে বিদায় করা হয়েছে। কিন্তু এখন দেশে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখা যাচ্ছে। তবে পতিত স্বৈরাচার ও নব্য স্বৈরাচার, দুই স্বৈরাচারকেই পরাজিত করা হবে।
তিনি বলেন, এক সপ্তাহ ধরেই আমাদের নেতারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছেন। জনগণের সঙ্গে কথা বলেছেন। মানুষ তাদের সমস্যার কথা বলেছেন। মানুষের বাসায় গ্যাস নেই।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস, রাহাজানি, দোকানদার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ সবার জীবন আজ নাজেহাল। বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই। সারা দেশের সব প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করা হচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের জনগণের কোনো নিরাপত্তা নেই। নিরাপত্তা দিতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায় সবচেয়ে বেশি যার ওপর বর্তায়, তিনি হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধনের কাজে ব্যস্ত হয়েছেন। আমরা তার পদত্যাগের দাবিতে আজকে (শুক্রবার) শাহবাগে এসেছি। সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে যিনি জ্বালানিমন্ত্রী রয়েছেন, তাকেও পদত্যাগ করতে হবে। কারণ তারা দুজনই তাদের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, শুনছি আগামী ডিসেম্বরে পতিত স্বৈরাচার নাকি দেশে আসবে। আমরা জানি সেই স্বৈরাচারকে এই নতুন স্বৈরাচার কোনোভাবেই মোকাবিলা করতে পারবে না।
বিগত ১৬ বছর বিএনপি আওয়ামী লীগ থেকে দেশের জনগণকে রক্ষা করতে পারেনি। তারা নিজেরাই নিজেদের রক্ষা করতে পারেনি, জনগণকে কীভাবে রক্ষা করবে? ফলে বাংলাদেশের তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি আরও বলেন, জাপান সফরে গিয়ে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে করিডোর তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতের হাতে অবৈধ করিডোর তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তারেক রহমান। এ ধরনের কোনো অবৈধ করিডোর বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না।
এছাড়া আরও বক্তৃতা করেন দলটির সদস্য সচিব সংসদ-সদস্য আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব সারজিস আলম, সংসদ-সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ আল আমিন, আতিক মোজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ ও নুসরাত তাবাসসুম সমাবেশে উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দেননি। সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরেন এনসিপির সদস্য সচিব। দাবিগুলো হলো-ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ, একতরফা সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, মানবাধিকারবিরোধী আইন বাতিল এবং প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী পাশ না করা।
