Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

বিচার বিভাগ পৃথক্করণ দিবস আজ

সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয়ের অপেক্ষা থেকেই গেল

Advertisement

আলমগীর মিয়া

আলমগীর মিয়া

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয়ের অপেক্ষা থেকেই গেল

Advertisement

আলোচিত মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করা হলেও এখনো স্বাধীন সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা হয়নি। রায়ের ১৮ বছর পর গত অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করে কাজ শুরু করলেও তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। বর্তমান সরকার এ বছর এপ্রিলে আলাদা সচিবালয়সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নেয়। এদিকে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিমকোর্টের জন্য একটি স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিলেও তা আপিল বিভাগে স্থগিত হয়ে যায়। সেটি আর শুনানি হয়নি। এমন প্রেক্ষপটে দেশে আজ পালন করা হচ্ছে বিচার বিভাগ পৃথক্করণ দিবস।

মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। এ প্রসঙ্গে সুপ্রিমকোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর ‘সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ শিরোনামে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। একই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করা হয়। সচিবালয়ের যাত্রা শুরু হয়। এরপর বিলুপ্ত সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয়ের ১৫ কর্মকর্তাকে (বিচারক) আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করার বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। সুপ্রিমকোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় নিয়ে আপিল এখন শুনানির অপেক্ষায় আছে। দেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক চেয়ে ১৯৯৪ সালে এ মামলা করেছিলেন জেলা জজ ও জুডিশিয়াল অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন মহাসচিব মাসদার হোসেন। তিনি এখন অবসরে রয়েছেন। এ মামলার চূড়ান্ত শুনানি করে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক এক রায় দেন। ওই রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধানপরিপন্থি ও বাতিল ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেন আপিল বিভাগ। মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০১৬ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া প্রস্তুত করে সুপ্রিমকোর্টে পাঠায়।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও কাগজে-কলমে বিচার বিভাগ আলাদা হলেও বাস্তবে এখনো আইন মন্ত্রণালয় ও সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা। তাদের অভিমত, ১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ছিল কেবল সুপ্রিমকোর্টের হাতে। এখন সংবিধান পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগ ও সুপ্রিমকোর্টে দ্বৈত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালু আছে। বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে মন্ত্রণালয়। এজন্য স্বাধীনতা ব্যাহত হচ্ছে। পৃথক্করণ পুরোপুরি হয়নি। সুপ্রিমকোর্টের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আনলে বিচার বিভাগের পৃথক্করণ সম্পন্ন হবে এবং তা পুনরুদ্ধার হবে। দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কার্যকর ভূমিকা নেন।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় : সুপ্রিমকোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ সংবলিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ চলতি বছরের ৯ জুন এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায় নিয়ে করা আপিল শুনানির জন্য ১৬ জুন তারিখ ধার্য করা হয়। এরপর আর শুনানি হয়নি।

জানতে চাইলে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শনিবার যুগান্তরকে বলেন, শুনানির জন্য আবেদন করলেও রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বারবার সময় চাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। একই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করা হয়। সচিবালয়ের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার গঠন করার পর সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে সচিবালয়ের ১৫ কর্মকর্তাকে (বিচারক) আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক শনিবার যুগান্তরকে বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য বিচারপতি নিয়োগে আইন হওয়া দরকার। অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিমকোর্টের হাতে দিতে হবে। এছাড়া সুপ্রিমকোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা ছাড়া বিচার বিভাগ স্বাধীন করার কোনো উপায় নেই। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সুপ্রিমকোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল; কিন্তু সেটি বর্তমান সরকার এসে বাতিল করে দেয়, যা দুঃখজনক। দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বিচার বিভাগ স্বাধীন করতে হবে। বিনিয়োগের অন্যতম শর্ত হলো স্বাধীন বিচার বিভাগ।

সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না যুগান্তরকে বলেন, সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হিসাবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এমনকি ১১৬(ক) অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালতের বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটরাও দায়িত্ব পালনে স্বাধীন হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংবিধানে সম্পূর্ণ স্বাধীন বলা হলেও অধস্তন আদালতের কর্তৃত্ব এখনো অনেকাংশেই আছে নির্বাহী বিভাগের হাতে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

জাতীয় যুব দিবস আজ সনদ বাড়ছে কর্ম নেই

সনদ বাড়ছে কর্ম নেই

খাগড়াছড়িতে প্রথম আয়োজন আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথনে ১৮৫ দৌড়বিদ

আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথনে ১৮৫ দৌড়বিদ

বিচার বিভাগ পৃথক্করণ দিবস আজ সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয়ের অপেক্ষা থেকেই গেল

সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয়ের অপেক্ষা থেকেই গেল

ভারত থেকে আমদানি করা চালে ক্ষতিকর উপাদান

ভারত থেকে আমদানি করা চালে ক্ষতিকর উপাদান

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম