খাগড়াছড়িতে প্রথম আয়োজন
আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথনে ১৮৫ দৌড়বিদ
Advertisement
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
খাগড়াছড়ির মায়াবিনী লেকে ১০০ কিমি. ম্যারাথন দৌড়। শনিবার সকালে তোলা -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কার্তিকের ভোর, পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, সবুজ বনের মধ্যে খাগড়াছড়িতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক ১শ কিলোমিটার আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথন ‘অ্যালবাট্রস আল্ট্রেইল-২০২৬’। তিনটি বিভাগে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন ১৮৫ দৌড়বিদ। শনিবার সকাল ৬টায় শুরু হয় ৩৩ ও ৫০ কিলোমিটার বিভাগের দৌড়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় খাগড়াছড়ির মায়াবিনী লেক থেকে ১শ কিলোমিটার দৌড়ের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতায় প্রায় ১ হাজার দৌড়বিদ নাম নিবন্ধন করেছিলেন। বাছাই শেষে তিন বিভাগে ১৮৫ জন অংশগ্রহণের সুযোগ পান। দুর্গম ও আঁকাবাঁকা পথে নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম করেন প্রতিযোগীরা। প্রতিযোগিতার এক ফাঁকে দৌড়বিদ জেরিন বলেন, খুব বেশিদিন নয়, নতুন বছর থেকে রান করছি। পাহাড়ে রান এবারই প্রথম। পাহাড় বেছে নেওয়ার কারণ, ব্যতিক্রম অভিজ্ঞতা অর্জন। এখানে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। এবার আমি ৩৩ কিলোমিটারের রান করছি। সবকিছু ঠিক থাকলে ফিনিশিং লাইন ক্রস করার ইচ্ছা আছে। আর সবকিছু মিলিয়ে চেষ্টা করব সুস্থ থাকার জন্য। এটা রানের মূল মন্ত্র। সুস্থ থাকলে রান স্বাভাবিকভাবেই আপনাকে পুশ করবে।
দৌড়বিদ আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, খাগড়াছড়িতে প্রথমবার বিশ্বমানের আল্ট্রা ট্রেইল হচ্ছে। আমি ৩৩ কিলোমিটারে অংশগ্রহণ করছি। এটাই আমার ফার্স্ট টাইম, গত বছর হয়েছিল। আমি চাচ্ছি সুন্দরভাবে ট্রেইল রান করি এবং সর্বনিম্ন সময়ে যাতে শেষ করতে পারি।
প্রতিযোগিতা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই। তাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন খাগড়াছড়িতে দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগ্রহ বাড়বে। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
রান বাংলাদেশের সদস্য রাকিবুল ইসলাম বলেন, খাগড়াছড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরা এবং দেশে ট্রেইল রানিং ও অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের প্রসার ঘটানো তাদের মূল লক্ষ্য। এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
রান বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও অ্যালবাট্রস আল্ট্রেইলের রেস ডিরেক্টর মরিয়ম তাবাসসুম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যে ট্রেইল আছে, সেটা ব্যবহার করা হয় না। এখানে চর্চার সুযোগ কম। পাহাড়ে একটু বিধিনিষেধ থাকে, সেই জায়গা থেকে আমাদের রানারদের এখানে বিচরণ কম। আমাদের রানাররা যখন দেশের বাইরে ট্রেইল ইভেন্টে যান, তখন তাদের ঘাটতি বোঝা যায়। দেখা যায়, অনুশীলনের অভাবে আমরা সেখানে বেস্ট পারফরম্যান্স দেখাতে পারি না। সেই জায়গা থেকে আমরা চাচ্ছিলাম, পাহাড়ে একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হোক।
আমরা ভাইবোনছড়ার এই মায়াবিনী লেকের আশপাশে পাহাড়ের ট্রেইলের সন্ধান পাই। বিশেষ করে মায়াবিনী লেকের কমিটি আমাদের শতভাগ সাপোর্ট দিয়েছে। ১ হাজারের বেশি দৌড়বিদ আবেদন করেছেন, সেখান থেকে ১৮৫ জনকে বাছাই করা হয়।
তিনটি ক্যাটাগরিতেই নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ রয়েছে। বাংলাদেশে এটা প্রথম ১শ কিলোমিটার আল্ট্রা ট্রেইল রানের আয়োজন। আমরা দুজন নারী দৌড়বিদ এই ক্যাটাগরিতে পেয়েছি। পাশাপাশি ৫০ কিলোমিটার এবং ৩৩ কিলোমিটারেও বেশ কয়েকজন নারী প্রতিযোগী রয়েছেন।
