Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

মাগুরায় যুবদল নেতা সাকের হত্যা

খুনি ভাড়া করতে ২০ লাখ দেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মারুফ

Icon

মাগুরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

খুনি ভাড়া করতে ২০ লাখ দেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মারুফ

Advertisement

পরিবহণ থেকে লুট করা দেড়শ ভরি স্বর্ণ ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরেই খুন করা হয় মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাকের হোসেনকে। তাকে হত্যার জন্য খুনি ভাড়া করতে মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদকে ২০ লাখ টাকা দেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন। সেই টাকায় ভাড়া করা দুই খুনি ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা বাস টার্মিনালে রয়েল কাউন্টারে সাকেরকে গুলি করে হত্যা করে। সাকের সেখানে কাউন্টার মাস্টার হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

গ্রেফতার গোলাম জাহিদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন। এর আগে মঙ্গলবার ভোর রাতে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইন্সে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, ৬ অক্টোবর মজিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ঢাকা থেকে গোল্ডেন পরিবহণের একটি বাসে করে স্বর্ণ নিয়ে ঝিনাইদহের দিকে যাচ্ছিলেন। দুপুর ১টার দিকে মাগুরার রামনগর এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মারুফের নেতৃত্বে এক দল লোক বাসটি থামিয়ে ১৪টি সোনার বার লুট করে নেয়। এর মধ্যে আটটি বার লুকিয়ে ফেলেন মারুফ। বাকি ছয়টির মধ্যে তিনটি বার স্বর্ণ বহনকারী সম্পর্কে তথ্য দেওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া হয়েছে বলে আত্মসাৎ করেন তিনি, যা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় যুবদল নেতা সাকেরের সঙ্গে। মীমাংসা করতে ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় মাগুরার পুরোনো ট্রাক টার্মিনালে মিটিং করেন তারা। সেখানে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। ৮ অক্টোবর সাকেরকে স্বর্ণের ভাগ বাদ দিয়ে ৫ লাখ টাকা নিয়ে মিটিয়ে ফেলতে বলেন মারুফ। এতে সাকের রাজি না হওয়ায় গোলাম জাহিদের সঙ্গে পরামর্শ করে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মারুফ।

পুলিশ সুপার জানান, সাকের হত্যার ঘটনায় ৬ অক্টোবর রাতে মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন নিহতের স্ত্রী শারমিন নাহার। এদিকে পরিবহণে লুটের ঘটনায় মজিবুর রহমান নামে ওই ব্যক্তি ২৮ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় আরেকটি মামলা করেন। সেখানে তিনি ১৫০ ভরি স্বর্ণ এবং ৬০ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ করেন। এ দুই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মারুফ ও গোলাম জাহিদ।

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ইতোমধ্যে এই দুই পরিকল্পনাকারী ছাড়াও স্বর্ণ লুটের ঘটনায় জড়িত জুয়েল, তৌকির, ফরিদ মণ্ডল, মিল্টন এবং তার স্ত্রী মারুফাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে রনি শিকদার, শামীমা তাবাস্সুম লুবনা, অনিমেষ মজুমদার ও বশির আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ এখন পর্যন্ত লুট হওয়া ১৪টি স্বর্ণের বারের মধ্য থেকে ছয়টি উদ্ধার করেছে। বাকি স্বর্ণও খুব শিগগিরই উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে ভাড়াটে দুই খুনিকে খুব শিগগিরই গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

এ প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খাইরুল হাসান, নিশাত আল নাহিয়ান, স্বর্ণ লুটের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ওসি মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান ও সাকের হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই কামরুজ্জামান।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

চাঁদার টাকায় আধুনিক অস্ত্রের মজুত

চাঁদার টাকায় আধুনিক অস্ত্রের মজুত

জঙ্গল থেকে জনপদ ইতিহাসের সাক্ষী তিতাখাঁ মিতাখাঁ মসজিদ

ইতিহাসের সাক্ষী তিতাখাঁ মিতাখাঁ মসজিদ

ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ পাহাড়ে বিচারের নামে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা

পাহাড়ে বিচারের নামে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা

নিত্য মৃত্যুর ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক একনেকে ঠাঁই হয়নি ছয় লেন প্রকল্পের

একনেকে ঠাঁই হয়নি ছয় লেন প্রকল্পের

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম