অশান্ত রাউজান-রাঙ্গুনিয়া
এবার আট পিস্তল নিয়ে ডিজিটাল মহড়া, আতঙ্ক
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফেসবুকে এভাবেই পিস্তল দেখিয়ে ডিজিটাল ভয় দেখানো হয় -সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আটটি পিস্তল ও একাধিক ম্যাগাজিন। অস্ত্রগুলো দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঙ্কার ছাড়ছেন এক যুবক। ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিও নিয়ে চট্টগ্রামজুড়ে চলছে তোলপাড়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাউজান-রাঙ্গুনিয়ায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই মহড়ার নেপথ্যে কারা তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
ভিডিওতে প্রদর্শিত অস্ত্রগুলো অবৈধ এবং থানা থেকে লুট হওয়া বলে দাবি করা হয়েছে। তবে অস্ত্রগুলোর উৎস স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বুধবার রাতে ‘মামুন চেয়ারম্যানের সমর্থক গোষ্ঠী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এতে থাকা হৃদয়কে বুলেট নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পোস্টে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘খেলা দেখছো কোথায়। ... প্রস্তুত থাক। নোয়াপাড়ায় তোদের অস্তিত্ব মিটিয়ে ফেলবো। অস্ত্রের দিকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলে-টাকা দিয়ে মরণের টিকিট এনেছি। মনে রাখিস। ভালো হয়ে যা সময় থাকতে, ভালো হয়ে যা। চাঁদাবাজি বন্ধ কর। টাকা দিয়ে মরণের টিকিট আনছি। তোদের অবস্থা খুব খারাপ করে দেব বলে দিলাম। আমি তুফান।’
জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সেটি কোথা থেকে ধারণ করা হয়েছে তা নিশ্চিতের চেষ্টা হচ্ছে। হৃদয়কে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশ একবার গ্রেফতার করেছিল। জামিনে বের হয়ে আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।
অস্ত্রের ওই ‘ডিজিটাল মহড়া’ ছড়িয়ে পড়ার পর চট্টগ্রাম উত্তরের দুই উপজেলা রাউজান-রাঙ্গুনিয়ার জনপদে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কখন কার ওপর জারি হয় মৃত্যু পরোয়ানা, কখন কার জীবনপ্রদীপ নিভে যায়-এমন আতঙ্ক তাদের তাড়া করে ফিরছে। ব্যবসায়ী, প্রবাসী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ-সবার মধ্যেই ছড়িয়েছে আতঙ্ক।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজান-রাঙ্গুনিয়ায় ঘটে একের পর এক হত্যাকাণ্ড। সন্ত্রাসী বাহিনীগুলোর তৎপরতায় অশান্ত হয়ে উঠেছে এই অঞ্চল। হোয়াটসঅ্যাপ, ভয়েস মেসেজে কিংবা ফোন করে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, টাকা না দিলে মৃত্যু পরোয়ানা জারি, প্রকাশ্যে বাসাবাড়িতে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণসহ নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে সন্ত্রাসীরা। গত আড়াই বছরে রাউজান-রাঙ্গুনিয়ায় ৪০টির মতো খুনের ঘটনা ঘটেছে। শুধু রাউজানেই ঘটেছে ২৭টি হত্যাকাণ্ড।
