সিটি গ্রুপের ৫ খেলাপি প্রতিষ্ঠান
তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে বিশেষ ছাড়
সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে হবে সিন্ডিকেট * ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের বিশেষ ধারা থেকে অব্যাহতি
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিটি গ্রুপের পাঁচটি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ৩ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন ঋণ দেওয়ার বিশেষ সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গঠন করে এ ঋণ দেওয়া হবে। এজন্য শর্তসাপেক্ষে ব্যাংক কোম্পানি আইনের খেলাপি ঋণসংক্রান্ত বিশেষ ধারা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সুবিধা কার্যকর থাকবে। ফলে এ সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো সিন্ডিকেটভুক্ত ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ নিতে পারবে। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, দেশীয় ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সিটি গ্রুপ বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে। ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় গ্রুপটির পাঁচটি প্রতিষ্ঠান খেলাপি হয়ে পড়েছে। প্রচলিত নিয়মে কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হলে নতুন ঋণ পাওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে সিটি গ্রুপের এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকঋণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। শিল্পকারখানা চালু রাখা এবং কাঁচামাল আমদানির অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে এ বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, ঋণ সুবিধার আওতায় থাকবে সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি সুপার ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি এডিবল অয়েল, সিটি ডাল মিলস ও শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস। প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে মোট ৩ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন ঋণ দেওয়া যাবে।
তবে এ ঋণের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঋণের বিপরীতে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে সিটি ব্যাংক কিংবা সিন্ডিকেটভুক্ত অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ ঋণের জন্য সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আর্থিক সহায়তা চাইতে পারবে না। এছাড়া ঋণের বিপরীতে সিটি গ্রুপকে অন্য কোনো ঋণ বা দায়ের বিপরীতে বন্ধক রাখা হয়নি-এমন সম্পদ জামানত দিতে হবে। ঋণের অর্থে কেনা কাঁচামাল দিয়ে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির অর্থ নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। সেখান থেকে আনুপাতিক হারে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর পাওনা নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে। এর আগে ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সিটি গ্রুপকে ঋণ পুনর্গঠন ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নবায়নের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়। গ্রুপটি যাতে আর্থিক সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সিটি গ্রুপের নামে ৪৩টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে। এর বড় অংশ ইতোমধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে।
