|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত ও খুবই জনপ্রিয় একটি শব্দবন্ধ ‘জিরো রিটার্ন’। অথচ ইনকাম ট্যাক্স বা আয়কর আইনে এ ধরনের শব্দের কোনো অস্তিত্ব বা মর্যাদা দেওয়া হয়নি। প্রদেয় করের পরিমাণ ‘শূন্য’ হলেও এটি মূলত একটি সাধারণ আয়কর রিটার্ন। সুতরাং ‘জিরো রিটার্ন’ একটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন শব্দ। একটি পূর্ণাঙ্গ আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত করতে মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার হতে হয়। প্রথমত, আয়কর আইন অনুযায়ী আয়ের নির্দিষ্ট খাতগুলো নির্বাচন করে অর্জিত মোট আয়ের পরিমাণ সঠিকভাবে নিরূপণ করতে হয়। দ্বিতীয়ত, নিরূপিত আয়ের ওপর প্রযোজ্য কর হিসাব করা, বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত এবং উৎসে কর্তিত কর সমন্বয় করে চূড়ান্ত প্রদেয় করদায় নির্ধারণ করা আবশ্যক। তৃতীয়ত, আইনানুসারে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অনুমোদিত বিনিয়োগের ধরন সঠিকভাবে নির্বাচন করা প্রয়োজন। চতুর্থত, শ্রেণি অনুযায়ী স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বাছাই করা এবং মোট দায় ও মূলধন সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিবরণ প্রদর্শন করতে হয়। বিষয়টি সংক্ষেপে লেখা হলেও এর প্রতিটি ধাপে রয়েছে বিশদ হিসাবনিকাশ, আয়কর আইনের বিভিন্ন ধারা, তফসিল ও সুনিপুণ কলাকৌশল। এ কাজ সবার পক্ষে নিখুঁতভাবে করা সম্ভব নয়-এটি তাদেরই কাজ, আয়কর আইনের ৩২৭ ধারায় যারা আয়কর প্রতিনিধি বা উপদেষ্টা হিসাবে স্বীকৃত।
পলাশ কুণ্ডু, আয়কর আইনজীবী, নীলফামারী
