Logo
Logo
×
   

Advertisement

সাহিত্য সাময়িকী

মূল্যবোধ ও নীতিতত্ত্ব

Advertisement

Icon

শহিদুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

মানুষের জীবন সমস্যা এবং অন্যান্য সৃষ্ট জীবনের সমস্যা এক নয়। অন্যান্য জীবের ভেতর তরুলতা, পশুপাখি, জীব-জানোয়ার প্রকৃতির নিয়ম পালন করে চলেছে এবং তারা জল, স্থল এবং অন্তরিক্ষে সুশৃঙ্খল এবং সৌন্দর্যের পরিচয় দিয়েছে; কিন্তু মানুষকে শুধু জৈবিক আচরণ দ্বারা সৃষ্টি করা হয়নি। কারণ, মানুষের প্রবৃত্তির কারণে যেমন সৃষ্টি জগতের শ্রেষ্ঠ হিসাবে পরিচিত হয়েছে, তেমনই মানুষ তার কৃতকার্য দ্বারা চতুষ্পদ জানোয়ারের চেয়েও নিকৃষ্ট স্থানে পৌঁছে গেছে। আর এসব বীভৎস অবস্থা থেকে মানবজাতিকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র সত্য জ্ঞান। আর এ জ্ঞান মূল্যবোধ সৃষ্টিতে সহায়তা করে থাকে। মূল্যবোধ হলো একটি আদর্শের নাম, যা সামাজিক ঐক্য ও সংহতি রক্ষা করে। মূল্যবোধের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে চিন্তাবিদ রাকিচ বলেন, ‘মূল্যবোধ হলো জ্ঞানের সঙ্গে আন্তরিক দায়বদ্ধতা।’ সমাজবিজ্ঞানী স্কেফার বলেন, ‘ভালো বা মন্দ, ঠিক বা বেঠিক এবং কাঙ্ক্ষিত বা অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নাম হলো মূল্যবোধ।’ সমাজবিজ্ঞানী Edward Spranger মূল্যবোধকে ছয় ভাগে শ্রেণীকরণ করেছেন। যথা-তাত্ত্বিক মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক মূল্যবোধ, সৌন্দর্যবোধ মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ। তাত্ত্বিক মূল্যবোধ অনুসারে ব্যক্তি সৃষ্টিশীল, বাস্তববাদী এবং সত্য পথের পথিক হতে চায়। এটা অনেকটা বৈজ্ঞানিক এবং দার্শনিকদের মতো। অর্থনৈতিক মূল্যবোধ অনুসারে ব্যক্তি লোভ-লালসা অর্থকড়িকে প্রাধান্য দেয়। তারা মুনাফা লাভের প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী। সৌন্দর্যবোধ মূল্যবোধ অনুসারে ব্যক্তি সৌন্দর্যকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য মনে করে। এ চেতনায় তারা প্রকৃতি জগতে সৌন্দর্য খুঁজে বেড়ায়। সত্যই সুন্দর, সত্যই মুক্তি-এ চেতনায় সে বিভোর থাকে। সামাজিক মূল্যবোধ অনুসারে ব্যক্তি পরার্থপরতায় বিশ্বাসী। তারা স্বার্থপর হয় কম। তারা দয়ালু প্রকৃতির হয়ে থাকে। রাজনৈতিক মূল্যবোধ অনুসারে ব্যক্তি নেতৃত্ব, কর্তৃত্ব করতে চায়। তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক আদর্শ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুসারে ব্যক্তি ধর্মকে সত্য মনে করে এবং ধর্মীয় আইন অনুশাসন অনুসারে নিজ ও অপরকে পরিচালনা করতে পছন্দ করে। এরা আধ্যাত্মিক সম্পন্ন হয়ে থাকে। সংস্কৃতি, ধর্ম, দর্শন দীর্ঘদিনের লালিত আচরণ ও বিশ্বাস, স্থানীয় রেওয়াজ প্রথার আলোকে নির্মিত হয় কোনো সমাজের নিজস্ব মূল্যবোধ। মূল্যবোধ হলো এক ধরনের আদর্শ। এ মূল্যবোধ বিভিন্নভাবে গড়ে ওঠে। মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য পরিবার, বিদ্যালয়, সমবয়সি দল, কমিউনিটি, সমাজ ও কৃষ্টি প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ মূল্যের এবং মূল্যবোধের কথা দর্শনশাস্ত্রেও আলোচনা হয়। মূল্য (value) শব্দ দ্বারা গুণ, ভালো, উৎকর্ষ, পূর্ণতা, ফলপ্রসূতা, মহত্ত্ব, মর্যাদা ইত্যাদি শব্দের সমার্থক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। দর্শনে তথ্য ও মূল্য এর মধ্যে পার্থক্য আছে। ‘পাখিটি হলো কালো’, এটা একটি বর্ণনামূলক বচন। এখানে ‘পাখিটা’ বর্ণনা করা হয়েছে মাত্র। আমরা যখন বলি, ‘পাখিটি হয় সুন্দর’। তখন এটা শুধু বর্ণনা দেওয়া হয়নি, বরং মূল্যায়ন করা হয়েছে।

মূল্যকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-দৈহিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক। অর্থনৈতিক মূল্যবোধকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: চিন্তামূলক, কৃত্রিম, অনুভূতিমূলক। তাছাড়া গুরুত্বের দিক দিয়ে মূল্যকে কয়েকভাবে ভাগ করা যায়। যেমন: স্বতঃমূল্য, পরতমূল্য, ব্যক্তিগতমূল্য ও বস্তুগতমূল্য এবং আপেক্ষিক ও পরমমূল্য। মূল্য আত্মগত না বস্তুগত; এ নিয়ে দর্শনে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। ‘তাজমহল হয় সুন্দর’। এখানে পৃথিবীর কোনো লোক যদি তাজমহল না দেখত, তাহলে তাজমহল যে সুন্দর তার কোনো মূল্যায়ন হতো না। আবার আমি আছি, কিন্তু তাজমহল নেই। তাহলে ওই ধরনের বিষয়ের কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যেত না। আমি আছি বলে, তাজমহল দেখছি। আবার তাজমহল আছে, বলে আমি দেখছি। সুতরাং, মূল্য আত্মগত এবং বস্তুগত উভয়ই। স্বতঃমূল্য ও পরতমূল্য অনুসারে বলতে পারি যে মূল্যের নিজস্ব মূল্য আছে, তাকে স্বতঃমূল্য বলে। যেমন: সুন্দর, সত্য প্রভৃতি। এগুলো নিজে নিজেই মূল্যবান। আবার যার নিজস্ব কোনো মূল্য নেই, তবে বিনিময় মূল্য আছে, তাকে পরতমূল্য বলে। যেমন: অর্থকড়ি। এর নিজস্ব কোনো মূল্য নেই, এর বিনিময়ে আমরা যে কোনো ভোগ্য সামগ্রী পেয়ে থাকি, তাই হলো মূল্যবান। আপেক্ষিক ও পরমমূল্য হলো, পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের মানুষ আছে। বস্তুগত দর্শন এক একজনের কাছে এক এক রকম মনে হতে পারে। এটি পরিবর্তনশীল। আবার পরমমূল্য অনুসারে মূল্য উচ্চতর উৎস, যেমন: ঈশ্বর, পরম শুভ, আল্লাহ, ব্রহ্মা কিংবা প্রকৃতি থেকে আসছে। পরমসত্তা তার আদেশের ফলে জগতে শ্রেষ্ঠ জীবের প্রতি তার অনুগ্রহ ও দয়ার সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রেরণ করেছেন। সমাজভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য লক্ষ করা যায়। যে সমাজের দর্শন ভাববাদী এবং ধর্মতত্ত্ব দ্বারা পরিচালিত, তাদের মূল্যবোধ এক রকমের হয়। আবার যাদের মূল্যবোধ বস্তুবাদী তথা ইহলোকমুখী, তাদের মূল্যবোধ অন্যরকম হয়। তবে যে সমাজে সে জন্মগ্রহণ করে, সে সমাজের মূল্যবোধ দ্বারা সে পরিচালিত হয়। দার্শনিক জ্ঞান মূল্যবোধ পরিবর্তনে সহায়তা করে। শিক্ষা দ্বারা এটি সহজসাধ্য হয়। একজন চরম ধর্মবিরোধী ব্যক্তি ধর্মের কাছে শেষ পর্যায়ে নতিস্বীকার করেছে, আবার একজন ধর্ম অনুসারী ব্যক্তি নাস্তিক্যবাদ দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন এ ধরনের চিন্তা লক্ষ করা গেছে। অর্থাৎ মূল্যবোধ যেমন সমাজভেদে পার্থক্য হয়, তেমনই জ্ঞান দ্বারা মূল্যবোধ পরিবর্তন ও সংস্কার লক্ষ করা যায়। বাস্তবজীবনে মূল্যবোধের চর্চা না থাকার কারণে মানুষের জীবন হয়ে উঠে দুর্বিষহ। এ মূল্যবোধ নীতি-নৈতিকতা দ্বারা চালিত। মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে আমাদের জীবন হয়ে উঠে দুর্বিষহ। এ মূল্যবোধ নীতি-নৈতিকতা দ্বারা চালিত। মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে আমরা তার অতল তলে চলে যাচ্ছি। আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষককে দেখে ভয় পায়, আবার কখনো শিক্ষক ছাত্রকে দেখে ভয় পায়। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি আজ ক্যাম্পাসে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ধর্মীয় উপাসনালয়ে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ আজ প্রকৃত ধর্মের শিক্ষা থেকে বিচ্যুত করে ফেলেছে। অথচ ধর্ম আসছে মানুষের কল্যাণের জন্য।

শিক্ষা সাহিত্যের ক্ষেত্রে নৈতিকতা পরিচালিত হয়। চিত্র, ভাস্কর্য, ক্যালিওগ্রাফির ক্ষেত্রে উচ্ছৃঙ্খল ও অশ্লীল বিষয় শিক্ষার ক্ষেত্রকে করে তোলে অবমাননাকর। সাহিত্যিক সমাজ যদি হয়ে উঠে অশ্লীল, একচোখা, দায়িত্বহীন, তাহলে তার দ্বারা সমাজের মানুষের উপকারের চেয়ে অপকার হয় বেশি। দর্শনে উগ্র বস্তুবাদ, জগৎ জীবন সম্পর্কে ব্যাপক উদাসীনতা এবং অসত্য, মায়াছায়া ও কুপ্রবৃত্তির অনুশাসন সমাজের মানুষের ভেতর অস্থিতিশীল করে তুলেছে। রাজনীতিকে বলা হয় নীতির রাজা। কিন্তু আজ আছে রাজার নীতি। রাজনীতি আজ ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

আজ বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে Global Village থেকে Global Familyতে পরিণত হয়েছে। মিডিয়ার কল্যাণে আজ বিশ্বের মানুষ এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের খবর, প্রথা, সংস্কৃতি মুহূর্তের মধ্যে জেনে যাচ্ছে। মিডিয়া দুই ধরনের। যথা-১. ইলেকট্রনিক মিডিয়া; ২. প্রেস মিডিয়া।

হানাহানির, রসনা এবং জৈবিক ক্ষুধা বৃদ্ধির উৎসাহদাতা হিসাবে কিছু ক্ষেত্রে মিডিয়াকে দায়ী করা হয়। সেক্স এবং ভায়োলেন্সের কথা মিডিয়ায় এমনভাবে প্রচারিত হয়েছে, যার কারণে তরুণ-তরুণীরা হীনম্মন্যতার দিকে যাচ্ছে। তাছাড়া হলুদ সাংবাদিকতা এবং সুবিধাবাদিতা আজ নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হিসাবে পরিগণিত হচ্ছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে ডাক্তারি পেশা একটি মহৎ পেশা। সরকারি ডাক্তারদের বেসরকারি ক্লিনিকে ব্যবসা রমরমা হয়ে উঠেছে। তাছাড়া কর্মক্ষেত্রে ফাঁকি এবং ওষুধ চুরি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হিসাবে দাঁড়িয়েছে। উচ্চদরে প্রেসক্রিপশন ও রোগীর প্রতি সময় না দেওয়ার প্রতি যে মনোভাব, তাতে ডাক্তার Medical Ethics পড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সজোরে উচ্চারিত হচ্ছে। ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নৈতিকতার অভাব লক্ষ করা যায়। ভালো দ্রব্যের সঙ্গে খারাপ দ্রব্যের মিশ্রণ, ওজন কম দেওয়া, দাম বেশি রাখা, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং টেন্ডার নিয়ে তাণ্ডব লক্ষ করা যায়। এগুলো সব নীতি-নৈতিকতাবিরোধী এবং মূল্যবোধপুষ্ট সমাজের বিপরীত অবস্থা।

মানুষ স্বভাবত কর্তৃত্ব, নেতৃত্ব ভোগবিলাস এবং নিয়ন্ত্রণ পছন্দ করে; যার কারণে ইতিহাসে দেখা যায়, এক সভ্যতা নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য অন্য সভ্যতাকে নিয়ন্ত্রণ এবং জবরদস্তিভাবে দখল করেছে। এক গোত্র, অন্য গোত্রকে নিয়ন্ত্রণে রেখে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। অ্যাসেরীয় সভ্যতার Militarism-এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তারা পরাজিত ব্যক্তিদের চুল কেটে খাঁচায় বন্দি করে মানুষকে দেখাত। জীবন্ত পুড়িয়ে এবং পানিতে ডুবিয়ে মারত। মানব ইতিহাসের এমন কলঙ্কজনক অধ্যায় শুধু পূর্বেই ছিল না; বর্তমানে এ অবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আজ শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ, সম্প্রদায়গত জাতিগত দমন এবং কর্তৃত্ব দারুণভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

আগেকার দিনে মানুষ অস্ত্র হিসাবে আঁচড়া, বাটালি, তুরপুন, লাঠি, বর্ষা, তির, পাথর প্রভৃতি ব্যবহার করত। কিন্তু বর্তমান আধুনিক সভ্যতার যুগে এসেও মানুষের এ প্রবণতা যায়নি। বরং এখন আরও মারাত্মক। এমন বোমা আবিষ্কার হচ্ছে, যার দ্বারা এক শহরের মানুষকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় করা সম্ভব। আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট আবিষ্কারের ফলে আধুনিক বিজ্ঞান বিস্ফোরকের সন্ধান পায়। পরবর্তীকালে পারমাণবিক বোমা তৈরি এবং তার ব্যবহার বিশ্ববাসীকে হতভম্ব করে ফেলেছে। হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে আজও কালের অভিশাপ নিয়ে দু-একজন বেঁচে আছেন। চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনায় বিশ্ববাসী দিশেহারা। তিল তিল করে গড়ে তোলা সভ্যতা কিছু ব্যক্তির অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য ধ্বংস হয়ে যেতে পারে যে কোনো মুহূর্তে। বিশ্ববিবেক আজ শঙ্কিত। আর এজন্য বিজ্ঞানীদের দোষ দেওয়া যায় না। কারণ, তারা মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েই আবিষ্কারের যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে সে উদ্দেশ্য মাঠে মারা যাচ্ছে। হিরোশিমা এবং নাগাসাকির দুঃখজনক ঘটনার পর আলবার্ট আইনস্টাইন যখন তার ঐতিহাসিক চিঠির জন্য সমালোচিত হন, তখন তিনি দুঃখে ও ক্ষোভে বলেছিলেন, যদি কাউকে এজন্য দায়ী করতে হয়, তবে তা বিজ্ঞান নয়, রাজনীতি। বিজ্ঞানীরা রাজনীতি বোঝে না। আজ বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদী নীতির মাধ্যমে এক দেশ আর এক দেশকে কর্তৃত্ব করতে না দেওয়ার জন্য অস্ত্রের পাহাড় গড়া শুরু করেছে। ‘A Short History of Non-Proliferation’ নামক পুস্তিকায়। IAEA হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে, একুশ শতকের শুরু থেকে সারা পৃথিবীতে পুটোনিয়াম উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে প্রতি বছর ১৫ লাখ কিলোগ্রাম, যা এক লাখ পরমাণু বোমা তৈরির ক্ষমতা রাখে। আর পারমাণবিক যুদ্ধের কল্পনা হলো, নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞের কল্পনা। এ খেলায় মানব নামক শ্রেষ্ঠ জীব মেতে উঠেছে। মানুষ তার প্রবৃত্তির কাছে যখন ধরাশায়ী হয়, তখন আক্রমণাত্মক মনোভাব, হিংস্রতা, প্রতিশোধের নেশা তাকে তাড়িত করে। এ মানুষকে একমাত্র শান্ত করতে পারে সত্য জ্ঞান এবং শিক্ষা। কিন্তু বিশ্বের মানুষ আজও এক সত্যে আসতে পারেনি। এজন্য জন্ম হয়েছে নানা মত, নানা পথ। আজ বিশ্বে প্রতি মিনিটে (২০-৩০) লাখ ডলার ব্যয় হচ্ছে সামরিক খাতে। আর এ খাত মানুষ হত্যার খাত, সৃষ্টি ও সভ্যতা দুনিয়ার বুক থেকে চিরতরে মুছে ফেলার খাত। তাই বিশ্ববাসীকে প্রবৃত্তির পাশবিকতাকে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে সুস্থ রাজনীতি করে জগৎ জীবন এবং নিজকে চালাতে হবে। সত্য, ন্যায়, সুন্দর এবং সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা দ্বারা মূল্যবোধ পুষ্ট সমাজ বিশ্ববাসী ফিরে পাক আজকের দিনে এ আমাদের প্রত্যাশা।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম