চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান ও সমকালীন বাংলাদেশ
ড. মশিউর রহমান
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বর্তমানে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরীর সম্প্রতি প্রকাশিত ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান ও সমকালীন বাংলাদেশ’ বইটি একটি সংকলন গ্রন্থ। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অব্যবহিত পূর্বে এবং পরে বাংলাদেশের প্রথম সারির বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত শতাধিক আর্টিকেল থেকে বাছাইকৃত প্রায় অর্ধশতাধিক সমসাময়িক বিষয়ের ওপর রচিত আর্টিকেল নিয়ে এ বইটি রচিত হয়েছে।
অনন্যা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এ বইটি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে। প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই বইয়ের সব কপি বিক্রি শেষ হওয়ার পথে। প্রচণ্ড পাঠকপ্রিয়তা পাওয়া এ বইয়ে লেখক ‘২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক পটভূমি এবং তৎপরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের একটি নৈর্ব্যক্তিক বিশ্লেষণ করেছেন। একইসঙ্গে, পরিস্থিতির বিকাশেরও বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে লেখকের ব্যক্তিগত ধারণা তুলে ধরেছেন।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান ও সমকালীন বাংলাদেশ শীর্ষক এ বইটিতে যেসব আর্টিকেল রয়েছে :
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান : নবযুগের সূচনা, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা, রেনেসাঁর মধ্যদিয়ে সূচনা হবে নবযুগের, প্লেটোর দর্শন আজও প্রেরণার উৎস, কাল মার্কসের দর্শন-মেহনতি মানুষের মুক্তির দর্শন, ডারউইনের বিবর্তনবাদ : পরিবর্তন ও প্রগতির নতুন দিগন্ত, চাই বুদ্ধির মুক্তি ও চিন্তার স্বাধীনতা, একুশের চেতনা যুগে যুগে অনুপ্রেরণা জোগাবে, অস্থির-অশান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চা সম্ভব নয়, মেধাপাচার জাতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, শিক্ষা কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবি, রাজনৈতিক কালচার পরিবর্তনে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণ জরুরি, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার সমস্যা ও সম্ভাবনা, বসবাসযোগ্য সুখী-সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে, পুরোনো ধারার রাজনীতি পরিহার অপরিহার্য, ছাত্র-রাজনীতি বন্ধ নয়, সংস্কার প্রয়োজন, শ্রেণিবৈষম্য দূরীকরণ ও দারিদ্র্যবিমোচন জাতির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন, নতুন অর্থনৈতিক জোট গঠন এখন সময়ের দাবি, উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত তালিকায় উত্তীর্ণ হওয়ার চ্যালেঞ্জ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ, উন্নয়ন সহযোগীদের আপত্তিকর শর্ত প্রত্যাখান করতে হবে, নির্বাচন আগে না সংস্কার আগে-এ বিতর্ক কাম্য নয়, ভেজালের রাজ্যে আসল খুঁজে পাওয়া ভার, বিষাক্ত খাবারই এ দেশের মানুষের নিয়তি, দুর্নীতির অভিশাপ থেকে মুক্তি চাই, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ : জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা, সংকট মোকাবিলায় গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই, দেশপ্রেম, দেশাত্মবোধ জাতিকে মহান করে, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের অংশগ্রহণ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন ছাড়া ভোটের মর্যাদা রক্ষা হবে না, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানবসভ্যতার জন্য হুমকি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চির অমলিন, বিজয় দিবসের অঙ্গীকার, ‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করতে হবে, জেগে উঠেছে বিশ্ব : ফিলিস্তিন প্রশ্নে প্রতিবাদের ঝড়, অশান্ত পৃথিবী : শান্তির সন্ধানে, যুদ্ধ নয়, মানবতার জয়গানে মুখরিত হোক বিশ্ব, চাটুকার ও তোষামোদকারী সমাজের জন্য অভিশাপ, আছিয়ার মর্মান্তিক মৃত্য : মানবতার চরম বিপর্যয়, সংবাদপত্রের যাত্রা হোক ন্যায় ও সত্যের পথে, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়ার তিরোধান : একটি যুগের অবসান, আন্দোলন-সংগ্রামে মুখর ২০২৫-এর বিদায় শীর্ষক ৪৩টি মূল্যবান আর্টিকেল নিয়ে লেখকের নিজস্ব মতামত ও চিন্তার প্রতিফলনে গুরুত্বপূর্ণ এ বইটি রচিত হয়েছে।
বইয়ের প্রথম আর্টিকেল-‘জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান : নবযুগের সূচনা’ শিরোনামের ওপর ভিত্তি করে বইটির শিরোনাম ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান ও সমকালীন বাংলাদেশ’ যথার্থ হয়েছে। বইটির ২৬০ নং পৃষ্ঠায় ‘জাতীয় ঐক্যের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়ার তিরোধান : একটি যুগের অবসান শীর্ষক আর্টিকেলে লেখক বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আপসহীন নেত্রী, তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করে তাকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসাবে উপস্থাপন করেছেন, যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। লেখকের এই মতামতের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করে বলতে চাই, আজকের বাংলাদেশে বেগম খালেদা জিয়ার খুব বেশি প্রয়োজন আমরা অনুভব করি। তিনিই পারতেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসাবে এ দেশকে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে পৌঁছে দিতে। দেশবাসী আজ বেগম জিয়ার অভাব হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। মহান এ নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
প্রফেসর ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগ খোলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ফুলটাইম সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, বাহরাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, গ্রীন ইউনিভার্সিটি ও বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসাবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কীর্তিমান ও সফল মহান এই মানুষটির অনন্য সৃষ্টি ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান ও সমকালীন বাংলাদেশ-শীর্ষক বইয়ের জন্য রইল শুভকামনা।’
