Logo
Logo
×

Advertisement

সাহিত্য সাময়িকী

শেখ ফজলল করিমের সাহিত্যে মানবিকতা

Icon

ড. নূর-ই আলম সিদ্দিকী

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

উনিশ শতকের শেষ ভাগ ও বিশ শতকের গোড়ায় মুসলিম বুদ্ধিজীবী সমাজে আত্মপরিচয় ও পুনর্জাগরণের প্রশ্ন গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে। শেখ ফজলল করিম সাহিত্যিক মানস এ বিবর্তিত সময়েরই এক প্রাণবন্ত প্রবাহ। কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, ‘ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের উন্মুক্ততা, অন্যদিকে শিক্ষা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আঘাত-সংঘাতে একটা জাতির দীর্ঘকালের অধিবাস, ইতিহাস, ঐতিহ্য যখন বিভিন্ন ভাঙচুরের কবলে পড়ে প্রায় অপসৃত এবং এ দুর্বিষহ অবস্থা যে কজন মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছিল, তাদেরই একজন শেখ ফজলল করিম।’

পঞ্চম শ্রেণি অধ্যয়নকালেই প্রকাশিত হয় শেখ ফজলল করিমের ‘সরল পদ্য বিকাশ’ নামে একগুচ্ছ কবিতা। তার সাহিত্যের উপজীব্য ধর্ম-নীতি-আদর্শ হলেও দৃষ্টিভঙ্গি ছিল উদার ও প্রগতিশীল। বাংলা সাহিত্যের আধুনিক ইতিহাসে শেখ ফজলল করিম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন মানব চেতনায় উদীপ্ত কথাকোবিদ। কবিত্রয়ের চিন্তাদর্শন মানবতাবাদে অধিষ্ঠিত হলেও তাদের মানবায়নের অভিমুখ, দার্শনিক ভিত্তি এবং প্রকাশভঙ্গির পার্থক্য ছিল।

মানবায়ন শব্দের সহজ অর্থ কোনো ব্যক্তি, সমাজ, চিন্তা, সাহিত্য বা সংস্কৃতিকে মানুষকেন্দ্রিক করে তোলার প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে প্রাচীন সাহিত্য যদি দেবতা, ধর্মীয় আচার তথা লৌকিকতার প্রভাব থেকে ধীরে ধীরে মানুষের প্রেম, দুঃখ, আকাঙ্ক্ষা, বিরহ, সংগ্রাম তথা ব্যক্তিসুখের প্রাধান্য পায়, তবে তখনই তা মানবায়ন কাঠামোয় পরিব্যাপ্ত হয়। শেখ ফজলল করিমের সাহিত্যে মানবায়ন অর্থ কাহিনি চরিত্রর একমুখী দেবকেন্দ্রিকতা থেকে মানবকেন্দ্রিকতায় বিবর্তন। ধর্মীয় আদর্শকে মানবজীবনের নৈতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করে তাকে রূপান্তরিত শিল্পে রূপদান। আর সেই অভিজ্ঞানই তার সাহিত্যকর্মে উজ্জ্বল মানবায়নের অঙ্গীকারকে সফল করেছে। রবীন্দ্রনাথের মানবায়ন কেন্দ্রে আছে আত্মিক মুক্তি ও তার বিশ্বমানুষে উত্তরণ। অন্যদিকে নজরুলের মানবায়নে রয়েছে সাম্য, মুক্তি ও প্রতিবাদী স্বরের প্রক্ষেপণ।

অন্যদিকে ফজলল করিমের সাহিত্যে ইসলামি ঐতিহ্য একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ভিত্তি। কিন্তু তার ধর্মবোধকে শুধু ধর্মীয় সাহিত্য হিসাবে বিবেচনা করলে তাতে সাহিত্যিক তাৎপর্য উপলব্ধি করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কেননা ফজলল করিমের সাহিত্যকর্মে মানুষের কিছু লক্ষণীয় পরস্পর সম্পর্কিত স্তর প্রতিপন্ন হয়ে আছে। যেমন: ধর্মীয়-চেতনা, মানবপ্রেম, নৈতিকতা, আত্মমর্যাদা ও সামাজিক জাগরণ। কবিতায় ইসলামি মূল্যবোধ থাকলেও, সেখানে মানবতাবাদী চেতনা তীব্র হয়ে আছে, যা তার কবি মানুষের উল্লেখযোগ্য দিকও বটে। ঔপনিবেশিক যুগে মুসলিম সমাজে বড় সমস্যা ছিল ঐতিহাসিক গৌরব ও বর্তমান বাস্তবতার মধ্যেকার ব্যবধান। সেসময় একদিকে হারানো রাজনৈতিক ক্ষমতার স্মৃতি এবং একই পরিসরে সামাজিক-অর্থনৈতিক অবনমন। এ দুই দ্বন্দ্বের অন্তর্ঘাত তখন মুসলিম সাহিত্যিকদের বেদনার পালে বেগ সঞ্চার করে। এবং কষ্টের দহন-তাপেই তাদের সৃষ্টিবিমুখ হতে পেছনে ঘাই মারে নিশিদিন।

ফজলল করিমের রচনায় অতীত চেতনা কিন্তু নিছক গৌরবের গল্প না হয়ে, বরং তা বর্তমানকে জাগিয়ে তোলার একটি নৈতিক প্রেরণা হয়ে উঠেছে। সাহিত্যিকের মানস চেতনায় ধর্মের সঙ্গে যুক্ত আছে সত্য ও ন্যায়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, অসহায়ের প্রতি সহমর্মিতা, সংযম, নৈতিক বোধ ও সাম্যের আকাঙ্ক্ষা। প্রেম চেতনায়ও তার রচনা বিশেষ তাৎপর্যময়। সেখানে প্রেম শুধু ব্যক্তিগত আবেগ নয়। বরং তাতে আত্মদান, পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও মানবিকতা প্রবেশ করে। এজন্য তার প্রেমের কবিতা যেমন মধ্যযুগীয় সুফি ভাবধারার উত্তরাধিকার, তেমনই আধুনিক ব্যক্তি মানুষের উন্মেষ এ দুদিক থেকে পাঠযোগ্য হয়ে ওঠে। ফজলল করিমের সাহিত্য মানসের অন্যতম অধ্যায় হলো মুসলমানদের মধ্যে আত্মসচেতনতা সৃষ্টি।

ব্রিটিশশাসিত ভারতে সেসময় মুসলিম সমাজে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন তীব্র তরঙ্গ সৃষ্টি করে। আমরা কে? আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কী? কেন আমরা পেছনে এবং কীভাবে শিক্ষা ও নৈতিকতার ভেতর দিয়ে জেগে ওঠা যায়? ফজলল করিম তার শিল্পিত্বের ছোঁয়ায় এসব প্রশ্নের জবাব প্রাঞ্জল ভাষায় দিয়েছেন। কবি এজন্য নিজের ঐতিহ্য অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, এ ঔৎসুক্য যেন কোনোভাবেই অতীত মুগ্ধতার চোরাবালিতে থেমে না যায়। বরং জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানুষ যেন মানুষ হয়ে উঠার বাসনার ভেতর দিয়ে কাঙ্ক্ষিত বিষয় অর্জনে থাকে নিয়ত তৎপর।

ধর্মীয় পরিচয় প্রবল হলেও তার আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে আছে মানুষ। লক্ষণীয় বিষয় হলো ঔপনিবেশিক বাংলায় ধর্মীয় পরিচয় যখন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়কে প্রচণ্ড বেগে গ্রাস করেছে, ঠিক সেসময়ও তিনি মুসলিম কবির ধর্মীয় আত্মপরিচয় রক্ষা করে মানবিক সর্বজনীনতায় প্রবলভাবে সক্রিয় থেকেছেন। ফজলল করিমের সাহিত্যে মানবায়ন ঘটেছে তার প্রাতিস্বিক প্রকরণ শৈলীতে। এখানে মনে রাখতে হবে তার মানবায়ন অন্যান্য কবিদের মতো ধর্মনিরপেক্ষ মানবায়ন নয়। বরং ধর্মীয় নৈতিক চেতনার ভেতর দিয়ে মানুষের মর্যাদা, প্রেম, বিবেক ও পারস্পরিকতার আবিষ্কার।

ফজলল সাহিত্যিক চিন্তার প্রাথমিক পর্যায়ে ‘পথ ও পাথেয়’ (১৯১৮) রচনাটিতে ন্যায় পথে চলা, ধর্মীয় বিধান মান্য এবং পাপ থেকে দূরে থাকার দিশা প্রতিভাত হয়েছে। ‘উপায় নাই। স্বামীর ক্ষুৎপিপাসা এবং দারুণ রোগ যন্ত্রণার কথা মনে করিয়া সতী তাহাতেই স্বীকৃতা হইলেন।’ সময়ের বিবেচনায় ওই সময়ে তার এমন ন্যারেটিভ বিবর্তন মানবায়ন দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষ কৃতিত্বে বহন করে। মানবায়ন অভিযোজন পথে লেখকের ‘লায়লী-মজনু’ (১৯০৪) কাহিনি এক অনন্য সংযোজন। এর প্লটে নিষ্কাম প্রেমকেই মুক্তির পথ হিসাবে দেখেছেন। এবং প্রেমের মধ্য দিয়ে মানবজীবনের ‘দেবত্ব ও অমরত্ব’ লাভের উপায় আরোপিত করেছেন। সরল অর্থে ধর্ম শুধু পরকালীন মুক্তির বিষয় না হয়ে তা মানুষের হৃদয়, প্রেম ও নৈতিক জীবন পরিবর্তনের শক্তিরূপে।

সংবাদ সম্পাদনায়ও শেখ ফজলল করিম মুনশিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। ১৯০৮ সালের রাজনৈতিক অস্থির সময়ে ‘বাসনা’ পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমানের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় বিশেষ গুরুত্ব দেন। এবং সাম্প্রদায়িক সংকটে তার মানবিক ঐক্যের ডাক মানবায়নের অভিনবত্বে দীপ্তিময় হয়ে ওঠে। ‘বিবি রহিমা’ (১৯১৮) রচনার কাহিনিকে লেখক ঐতিহাসিক চরিত্র বলেছেন। ইতিহাসের ঘটনাকে মানবীয় রসে জারিত করে তাকে শৈল্পিক রূপায়ণে সুপাঠ্য করেছেন। হজরত আইয়ুব ও বিবি রহিমা সংসার জীবনে শত প্রলোভন, শয়তানের চক্রান্ত ও প্রতিবেশীদের বিরূপ আচরণ এবং দারিদ্র্যের জ্বালা সহ্য করে জীবন নির্বাহ করেছেন। কাহিনির ভেতর প্রধান চরিত্র দুটির নরম-কোমল স্পর্শকাতর মন অভিব্যক্তির মধ্য দিয়ে লেখক মানবায়ন সাহিত্য রূপায়ণ প্রক্রিয়ার সার্থক প্রয়োগ ঘটিয়েছেন।

বাংলাপিডিয়া তার রচনায় ‘ধর্মীয় ও নৈতিক চিন্তার পাশাপাশি মানববাদী চিন্তার উপস্থিতি এবং সমকালীন সমাজের দুঃখ-দুর্দশার প্রতি তার সংবেদনশীলতার কথা উল্লেখ করেছে।’ ফজলল করিমের সাহিত্য জগতে ধর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু তার ধর্মচেতনার একটি বিশেষ দিক হলো ধর্মীয় আদর্শকে মানবজীবনের নৈতিক উন্নতির সঙ্গে যুক্ত করা। লায়লী-মজনুর ভূমিকায় তিনি ‘নিষ্কাম প্রেমকে’ মানবজীবনের মুক্তির পথ হিসাবে দেখেছেন এবং প্রেমের মধ্যেই মানবজীবনের ‘দেবত্ব’ ও ‘অমরত্ব’ উপলব্ধির কথা বলেছেন। কবির মানবায়নের সবচেয়ে শক্তিশালী উদাহরণ তার বিখ্যাত রচনা ‘স্বর্গ ও নরক’ (১৩২১) কবিতাটি। ‘কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর, মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক মানুষেতে সুরাসুর।’ পঙ্ক্তি দুটিতে এটি গভীর দার্শনিক ও নৈতিক রূপান্তর বিধৃত হয়েছে। কবি এখানে পরকালীন কোনো দূরবর্তী জগৎকে ভাবনার মধ্যে নেননি, বরং তাকে পৃথিবীর মানুষের যাপিত জীবনের মধ্যেই দেখেছেন।

কবিতাটির গুরুত্বপূর্ণ পঙ্ক্তি শেষ চরণদ্বয়। ‘রিপুর তাড়নে যখন মোদের বিবেক পায় গো লয়, আত্মগ্লানির নরক অনলে তখনি পুড়িতে হয়।’ এখানে নরকের অভিজ্ঞতা কোনো অতিলৌকিক শাস্তি নয় বরং মানুষের নিজের বিবেকের গ্লানির যন্ত্রণাই তার ভেতর নরক সৃষ্টি করে। কবি ধর্মীয় পরলোকতত্ত্বকে এখানে মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক মানবজীবনের অভিজ্ঞতায় স্থানান্তর করেছেন। ‘রাজর্ষি এবরাহীম’ (১৯২৪) শেখ ফজলল করিমের শ্রেষ্ঠ গদ্য রচনা। গ্রন্থটির তিন অংশ জুড়ে আছে সাধক আদহামের কাহিনি। এ সাধকের ভাষা তাকে একজন প্রাণবন্ত মানুষ রূপে পাঠকের কাছে বড় হৃদয়গ্রাহী করেছে। ‘অল্পক্ষণ পরই সন্ন্যাসীর চেতনা ফিরিল। তিনি মনকে প্রবোধ দিয়া কহিলেন-মন! এই তোমার প্রথম সোপান। ভয় পাইও না, পশ্চাৎপদ হইও না, বাঞ্ছিত রত্নলাভের প্রথম পরীক্ষা আজ।’ কাহিনির প্রধান চরিত্রটি ‘সুফি সাধকের তন্ময়তার সঙ্গে প্রেমিক হৃদয়ের অতলস্পর্শী গভীরতা যুক্ত’ করে লেখক রচনাটি মানবায়নের অলিন্দে প্রতিপাদন করেন।

মানুষ, স্বদেশ ও প্রকৃতি প্রেম মানবায়ন চেতনার আন্তঃসম্পর্কিত উপাদান। যেখানে মানুষের মর্যাদা, মমতা, প্রেম, স্বদেশ চেতনা ও প্রকৃতি আত্মিক সম্পর্কে গ্রন্থিত। এক্ষেত্রে কবির মানবায়ন মানুষকেন্দ্রিক। স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা ফজলল করিমের মানস প্রবণতার একটি বিশেষ দিক। ঊনবিংশ শতকের সাহিত্যের মূল প্রতিপাদ্য ছিল স্বদেশপ্রেম। স্বদেশের অশুভ প্রতিবেশে তাই তিনি বলে ওঠেন-‘গভীর ত্রিযামা। স্তব্ধ বিশাল প্রকৃতি; গভীর অশুভ মিশি সৌন্দর্যের দেশে, কি প্রলয় কালচ্ছবি।’ (পরিত্রাণ)

ফজলল করিম আপন অন্তরের বৈচিত্র্যপূর্ণ অনুভূতিকে প্রকাশ করেছেন তার অনেক কবিতায়। সহজ, সরল ও আন্তরিক আবেগের গীতিময়তার অপূর্ব ব্যঞ্জনায় কবি নিজের প্রতিটি অনুভবকে ছন্দময় করে তুলেছেন। শিশুদের প্রতি সীমাহীন কৌতূহলে তিনি তাদের কল্পিত ভাবনাকে অকৃত্রিম চঞ্চলতার কাকলি সৃষ্টি করেছেন। ‘কচি পাতার মুকুট মাথায়, ফুল সাজে ও সেজে বেড়ায় কে? ধর, ধর, ধর, ত, ওরে, পালিয়ে বাঁচে নিত্যি ভোরে যে, মগের মুলুক ভেবেই বুঝি, এসেই ঢোকে সোজাসুজি সে! চোরের আবার খাতির কিরে, মালা গাছটা দেনা ছিঁড়ে দে।’

ফজলল করিমের লেখায় নীতি ও আদর্শ চেতনার উপস্থিতির কারণে কেউ কেউ মনে করেন তার সাহিত্যকর্ম নীতিপ্রচারধর্মী। এবং সেই নৈতিক আবরণের আড়ালে এ লেখকের শিল্পী সত্তা ঢেকে গেছে। কিন্তু তার রচনাসম্ভারে নিবিড় পাঠ দিলে এ মূল্যায়নকে বড় একমাত্রিক বলেই মনে হয়। একথা সত্য লেখকের সাহিত্যিক মানসে নৈতিকতা, আদর্শ, ধর্মীয় চেতনা ও মানব কল্যাণের আকাঙ্ক্ষা প্রবল ছিল। কিন্তু সেই আদর্শ তার সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য নয় বরং তা শিল্পবোধের একটি অপরিহার্য উপাদান। সাহিত্যিক ফজলল করিমের কবিতা ও গদ্যে নীতিবোধ অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি উপদেশের ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু ভাবকে তিনি শুধু বক্তব্য বিষয় হিসাবে উপস্থাপন করেননি। বরং কাহিনিকে তিনি উপমা, রূপক, চিত্রকল্প, আবেগ, কাহিনিবিন্যাস, চরিত্রায়ণ এবং ছন্দের মাধ্যমে বিষয়কে নান্দনিক রূপ দিয়েছেন। ঠিক এখানেই তার সাহিত্য ‘নীতিকথার সাহিত্য’ তকমা থেকে মুক্তি পেয়েছে। আলোচনার প্রান্তিক বয়ানে তাই এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, ফজলল করিমকে ‘নীতিবাদী কবি’ এবং ‘শিল্পী কবি’-এ দুই পরিচয়কে পরস্পরের বিরোধী করে দেখার অবকাশ নেই। কেননা আদর্শবাদী মনন তার সাহিত্যিক অভিমুখ নির্ধারণ করেছে এবং শৈল্পিক প্রকরণ সে আদর্শকে নান্দনিক অভিজ্ঞতায় রসসিক্ত করেছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

শেখ ফজলল করিমের সাহিত্যে মানবিকতা

শেখ ফজলল করিমের সাহিত্যে মানবিকতা

গল্প অনুভূতি মৃত্যু

অনুভূতি মৃত্যু

পূর্ববঙ্গের ভাষা : পর্ব ৯ চলিত ভাষা ও রবীন্দ্রনাথ

চলিত ভাষা ও রবীন্দ্রনাথ

মননের উত্তরাধিকার চিন্তার ভবিষ্যৎ নির্মাণ

মননের উত্তরাধিকার চিন্তার ভবিষ্যৎ নির্মাণ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম