Logo
Logo
×

Advertisement

সাহিত্য সাময়িকী

অ্যান কার্সন: সাহিত্যের সীমানা ভাঙার নবনির্মাতা

Advertisement

Icon

সেলিম আকন্দ

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

অ্যান প্যাট্রিশিয়া কার্সনকে (১৯৫০) সাহিত্যের সীমানা ভাঙার লেখক হিসাবে অভিহিত করা হয়। প্রচলিত অর্থে তাকে প্রথাবিরোধী লেখক বললে কম বলা হয়। কারণ তার ৪০ বছরের সাহিত্যিক জীবনে তিনি একবারের জন্যও সাহিত্যের প্রচলিত পথে পদচারণা করেননি। বরাবরই নতুন পথ নির্মাণ করেছেন। তার সাহিত্য বহুলাংশে পুরোনো কোনো বাক্স খুলে নতুন কিছু খুঁজে পাওয়ার মতো। তিনি প্রাচীন ও প্রায় ভুলে যাওয়া সাহিত্যকে নতুন জীবনদান করেন। গ্রিকশাস্ত্রে যাকে ‘অনুকৃতি’ বলা হয়েছে, সেই ‘অনুকৃতি’র ছিটেফোঁটা তার নবধারার নতুন সৃষ্টির মধ্যে নেই। এটা একেবারেই সৃজনশীলতার মৌলিকত্বের অভিনিবেশে অভিনব। বিশ্বসাহিত্যের তাবৎ রূপতত্ত্ব এবং অলংকার শাস্ত্রকে আমলে না নিয়ে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে তিনি অভিসন্দর্ভ, প্রবন্ধ, কবিতা, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় নতুন নতুন কাঠামো ও গঠনকৌশল উদ্ভাবন করেছেন। তাই তাকে সাহিত্যের সীমানা ভাঙার নবনির্মাতা হিসাবে অভিহিত করা হয়। আখ্যায়িত করা হয় ‘সাহসী উদ্ভাবক’ এবং সাহিত্যের ‘নবরীতির নতুন রূপকার’ হিসাবে। আসলে সাহিত্যধারার নানামুখী মেলবন্ধনের মাধ্যমে তিনি সাহিত্যের নতুন নতুন রূপরেখা তৈরি করেছেন। ভালোবাসা, প্রেম-বিরহ-বেদনা, কামনা-বাসনা এবং হতাশা নিয়ে লেখা তার সৃষ্টির সম্ভারগুলোতে তিনি প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি এবং রহস্যবাদের সঙ্গে ব্যক্তির সংরাগ সংযোগ করে আধুনিকতার ও সৃষ্টিশীলতার এক অভাবিত নতুন ভুবন তৈরি করেছেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্বের বিখ্যাতসব পুরস্কারের পাশাপাশি তিনি ২০২৬ সালে সাহিত্যে মর্যাদাবান নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। নোবেল কমিটির সভাপতি অ্যান্ডারস ওলসন বলেছেন, ‘কার্সন আত্মকেন্দ্রিক বর্ণনামূলক কবিতার ধারা থেকে বেরিয়ে এসে সমকালীন সাহিত্যে নতুন আঙ্গিকের সূচনা ঘটিয়েছেন।’

কার্সনের প্রথম ভালোবাসা ছিল চিত্রাঙ্কন। ছবি আঁকার সময় সেসব ছবির নিচে তিনি শিরোনামনা রচনা করতেন। এ অভ্যাস থেকেই তার লেখালেখি শুরু। কিশোর বয়সে তিনি ওস্কার ওয়াইল্ডের মতো লেখক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে গ্রিক ভাষা শেখার ওপর তিনি মনোযোগী হন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ‘আমি যদি গ্রিক শিখতে পারি, তবে আমি আরও বেশি ওস্কার ওয়াইল্ডের মতো হতে পারব’। এ দৃঢ় ভাবনা থেকে তিনি মাত্র ১৫ বছর বয়সে স্কুলের টিফিনের ফাঁকে গ্রিক ও ল্যাটিন ভাষা শিখতে শুরু করেন। স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পি-এইচডি সম্পন্ন করেন গ্রিকভাষা ও ক্লাসিক সাহিত্যের ওপর। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। এ অনুশীলন ও অভ্যাস তাকে লেখালেখির ক্ষেত্রে নতুন ধারার প্রবর্তক হিসাবে প্রতিষ্ঠাদানে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে। তার রচনারীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, যে বিষয়ে তিনি লিখতেন, সে বিষয়ে খুব ভালোভাবে জেনে-বুঝে তিনি লিখতেন। মূলত যে কোনো কিছু জানার গভীরতর রূপ তাকে আবিষ্ট করে রাখত। তার অন্তর্দৃষ্টি যে কোনো লেখাকে অভিনবত্ব দান করত। এ প্রসঙ্গে তিনি নিজেই বলেছেন, ‘আমার ইনটিউশান তথা অন্তর্দৃষ্টি হয়তো জানার গভীরতর রূপ।’ এই গভীরতর রূপের সৃষ্টিক্ষম প্রজ্ঞার প্রতিচ্ছবি হলো তার গবেষণাকর্ম, প্রবন্ধ, অনুবাদ, নাটক, কবিতা, উপন্যাস তথা তার ঋদ্ধতার স্নিগ্ধতায় নিমগ্ন সৃজনশীল মৌলিক সাহিত্যকর্ম। এসব রচনায় তিনি সাহিত্য রীতির সীমানা পেরিয়ে সবসময় নিজস্ব লেখার নতুন ধরন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি শব্দের উৎপত্তি ও ব্যুৎপত্তি এবং ইতিহাস নিয়ে গভীর অনুসন্ধান এবং নতুন অর্থ খোঁজার চেষ্টা করতেন। এ চেষ্টার অংশ হিসাবে তিনিব ধ্রুপদী সাহিত্যের তাবৎ উপাদানকে নতুনভাবে ব্যবহার করে সমকালীন সাহিত্যে এক ভিন্নধর্মী প্রকাশভঙ্গি তৈরি করেছেন।

‘ইরোজ দা বিটারসুইট (১৯৮৬) তার নবধারার নতুন একটি সৃষ্টি। এ গ্রন্থে তিনি দৈনন্দিন অভিজ্ঞতালব্ধ ঘটনার ঘনঘটার মধ্যদিয়ে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও দর্শনের ভেতরে মানবাকাঙ্ক্ষার এক মধুর ও বেদনাদায়ক মর্মার্থ অনুসন্ধান করেছেন। সেইসঙ্গে এক অস্বস্তিকর জিজ্ঞাসা সামনে এনে পাঠককেও তার সঙ্গী করেছেন। পাঠককে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত করা এবং রচনার মধ্যে জড়িয়ে ফেলার এ নবরীতি বিশ্ব সাহিত্যে একেবারেই অভিনব। অ্যান কার্সনের ‘প্লেন ওয়াটার’ (১৯৯৫)একটি মিশ্ররীতির গ্রন্থ। গদ্য, পদ্য, ব্যাকরণ, ভাষা, অনুবাদ এবং ভ্রমণকাহিনির মিশেলে এটি একটি অসাধারণ গ্রন্থ।

‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’(১৯৯৮) গ্রন্থটি প্রাচীন কবি স্তেসিখোরোসের গেরিয়নের পুনরল্লিখন। কার্সন গেরিয়নকে আধুনিক যৌনতা, কিশোর ও শিল্পচর্চার ভেতরে নতুন এক জীবন দান করেন। পাঠককেও তার কষ্টের পাশাপাশি কল্পনা এবং নিজেকে প্রকাশ করার সঙ্গী করেন। প্রথমে তিনি এটিকে প্রচলিত ধারার উপন্যাস হিসেবে গদ্য আকারে লিখতে চেয়েছিলেন। বলেছেন, ‘আমি সত্যিই আর্থার হেলির মতো এয়ারপোর্টে বসে পড়ার মতো করে বিশাল উপন্যাস লিখতে চেয়েছিলাম।’ কিন্তু পরে তিনি মত পালটান। নতুন কিছু সৃষ্টির মানসে তিনি এ গ্রন্থে পদ্য রীতি ব্যবহার করেন। উত্তর-আধুনিক যুগে এটি বিশ্ব সাহিত্যের ইতিহাসে পদ্যাংশের প্রথম উপন্যাস। দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত পঙ্ক্তির জোর মেলানো ছন্দে এটি রচিত। প্রাচীন গ্রিক মিথ হেরাক্লিস ও দানব গেরিয়নের গল্পকে ভিত্তি করে তিনি এটি রচনা করেছেন। গেরিয়নকে তিনি মানবীয় রূপে চিত্রিত করেন ।

‘রেড ডক’ গ্রন্থটি তার ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’র এক ধরনের সিক্যুয়েল। ক্যাপিটাল লেটার এবং অদ্ভুত ফরমেটিং ব্যবহার করে তিনি এতে মানুষের বার্ধক্য ও ক্ষয়িষ্ণুতা নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

কার্সনের ‘দ্য বিউটি অব দা হাজবেন্ড’(২০০১) দাম্পত্য জীবনের অম্ল-মধুরতা এবং মানবিক সম্পর্কে টানাপোড়েন নিয়ে রচিত। তিনি কবি জন কিটসের সৌন্দর্য ও সত্যের সম্পর্কিত ভাবনা ও উপাদানকে এখনে দ্যোতক হিসাবে ব্যবহার করেছেন। এ গ্রন্থে মোট ২৯টি ট্যাংগোর ছন্দে একটি বৈবাহিক সম্পর্কের মোহ, মায়া, আকর্ষণ, বিকর্ষণ, ভাঙন তথা কৌতুকময় দিকগুলোকে উন্মোচিত ও উদ্ভাসিত করেছেন।

কার্সনের ‘নক্স’ (২০১০) গ্রন্থটি তার ভাই মাইকেলের স্মৃতি ওপর ভিত্তি করে রচিত নিজস্ব কল্পনার আলোকে অত্যন্ত আবেগঘন ও অনন্য বিন্যাসের বই। এটি আসলে তার ভাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণে তৈরি করা বাক্সের ভেতরে দীর্ঘ আর্কিডিয়ান স্টাইলের ভাঁজ করা রঙিন একটি কাগজ। ল্যাটিন শব্দের অনুসন্ধান এবং মৃত ভাইয়ের জীবন বোঝার পাশাপাশি এখানে চলমান রয়েছে ক্যাটুলাসের মৃত ভাইকে নিয়ে লেখা ১০১ নম্বর কবিতার সঙ্গে সুনিবিড় সম্পর্ক। ভাইয়ের রহস্যময় জীবন ও মৃত্যুকে বোঝার এক গভীর শোকগাথা হিসাবে এটি স্বীকৃত। ভারসাম্যহীন পিতা এবং ‘বেশি ভালোবাসার’ প্রয়াত মাকে নিয়েও তিনি যে খণ্ড কবিতার রচনা করেছেন, সেখানেও রয়েছে, স্মৃতি কাতরতা সঙ্গে আবেগের সংরাগ।

কার্সনকে বলা হয় গ্রিক কবি স্যাফোর পুনর্জন্মের বন্ধু। তিনি তার ‘ইফ নট উইন্টার’ (২০০২) গ্রন্থে শুধু স্যাফোর কবিতা অনুবাদই করেননি, তিনি কবিতাগুলোর হারিয়ে যাওয়া অংশগুলো শূন্যস্থান নিজের মতো করে পূরণ করেছেন, শব্দ দিয়ে নয়, শূন্যতা দিয়ে। এখানে তিনি ব্যবহার করেছেন থার্ড ব্র্যাকেট। পৃষ্ঠার সাদা অংশ এখানে ফাঁকা রাখা হয়েছে। এ গ্রন্থে তিনি উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির মধ্যে একরকম কথোপকথনের সূচনা করেছেন। মূলত এখানে তিনি টুকরো টুকরো শব্দকে এবং খণ্ডিত বাক্যকে নৈঃশব্দ্যের সুতো দিয়ে জুড়ে জুড়ে কবিতার সেই প্রাচীন আত্মাকে এক নতুন রূপ দান করেছেন। এসব অংশে তিনি চেয়েছেন পাঠক তাদের নিজেদের কল্পনা অনুযায়ী শব্দ অথবা বাক্য বসিয়ে কবিতার অর্থ সম্পন্ন করে নিক। কারণ হিসাবে তিনি বলেছেন, ‘তিনি নির্দিষ্ট শব্দ বসিয়ে দিলে বাইরে যত রকম অর্থ সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোর মৃত্যু ঘটবে।’ তাই নানা রকম অর্থ সম্ভাবনার মৃত্যু তিনি চাননি বলেই সেসব স্থান তিনি শূন্য রেখেছেন। এর ফলে কবিতাগুলো হয়ে উঠেছে ওপেন টেক্সট অর্থাৎ ঠিক অর্থ উৎপাদনকারী টেক্সট। শুধু ভাষাগত নৈপুণ্যের নিদর্শন হিসাবে নয়, এটি ভীষণ রকমভাবে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন। কার্সনের এই এক অভিনব টেকনিক। এক্ষেত্রে তিনি ব্যাকরণগতভাবে একটি বাক্যের সম্পূর্ণ করার কোনো রকম চেষ্টাই করেননি। কারণ একটি অসম্পূর্ণতাকেই তার সম্পূর্ণতম চেহারায় পাঠকের কাছে উপস্থিত করতে প্রয়াস পেয়েছেন। স্যাফো ছাড়াও উইরিপিপিডিসের ট্র্যাজেডির অনুবাদ ‘Grief Leasons : Four plays by Euripides’, কে তিনি সাধারণ পাঠকের কাছে সহজ ও আধুনিক করে তুলেছেন।

বইয়ের আকার নিয়ে কার্সন সবসময়ই পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। এর বড় প্রমাণ তার ‘ফ্লোট’ গ্রন্থটি। এখানে ২২টি আলাদা পুস্তিকা একটি বাক্সে রাখা; কবিতা, অনুবাদ ও নাট্যধর্মী উপাদানের মধ্যে পাঠককে তিনি পাঠের ক্রম বুঝে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এ গ্রন্থে তিনি বই পড়ার অভ্যাসটিকে খুব নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন।

সর্বশেষ ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘রং নর্মাতে’ ২৫টি গদ্যধর্মী রচনা রচনা ও লেখক পারসনের ছবি রয়েছে। পরিবার, দারিদ্র্য, তুষার, শব্দ ও ভাষাসহ বিচিত্র বিষয় সেখানে পাশাপাশি অবস্থান করছে।

কার্সন মূলত সাহিত্যের প্রতিষ্ঠিত কাঠামো ভেঙে এক স্বতন্ত্র ও নতুন কাঠামো নির্মাণ করেছেন। তিনি প্রাচীন গ্রিসের জ্ঞান ও কল্পনা সমকালীন মানুষের জটিল অনুভূতির সঙ্গে একাকার করে নতুন সাহিত্যরীতি তৈরি করেছেন। তার সাহিত্য পাঠককে শুধু গল্পের ভেতর দিয়ে নিয়ে যায় না, গল্প বলার বলার প্রচলিত পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে ভাবতে শেখায়। পুরাণের চরিত্র নির্মাণ করতে গিয়ে তিনি তুলে আনেন মানুষের ভঙ্গুরতা, মানবিকতা আর টিকে থাকার সংগ্রামশীলতা। তার ব্যক্তিগত শোকের বিবরণে তিনি খুঁজে ফেরেন স্মৃতি ও সময়ের সুগভীর সম্পর্ক। আসলে ধ্রুপদী সাহিত্যকে তিনি জীবন্ত জগতে উন্নীত করেছেন, যেখানে বর্তমানে মানুষের প্রশ্ন, দ্বন্দ্ব ও অনুভূতির সঙ্গে কথোপকথন ও সংলাপ চলমান রাখা হয়েছে। সে কথোপকথনে রয়েছে হাস্যরস ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধান। আবার কখনো এমন এক নীরব নিংড়ানো বেদনা প্রতিধ্বনিত তাতে হতে থাকে যা পাঠ শেষ হওয়ার পরও তার রেশ যেন রয়ে যায়। শেষ হয়েও শেষ না হওয়ার ব্যঞ্জন প্রতিধ্বনিত হয়।

মূলত বর্তমান বিশ্ব সাহিত্যের আকাশে এক উজ্জ্বল স্থৈর্যে উদ্ভাসিত বহুমাত্রিক সাহিত্যিক অ্যান কার্সন। সাহিত্যের রূপতাত্ত্বিক এবং আলংকারী শাস্ত্রের কোনো শর্তেই তাকে চিহ্নিত করা যায় না। প্রচলিত অর্থে তিনি কবি নন, নন অনুবাদক, ঔপন্যাসিকও নন তিনি; এমনকি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসাবে পাঠদান করালেও পণ্ডিত প্রাবন্ধিকও নন তিনি। আবার একইসঙ্গে তিনি সবকিছু। তিনি আসলে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে একটি সাহিত্যিক আঙ্গিকে রূপান্তর করেছেন। সাহিত্যের চার দেওয়াল ভেঙে এক নতুন ইমারত তৈরি করেছেন। তার এই নবনির্মিতির কোনো পূর্বসূত্র নেই, নেই কোনো উত্তর সূত্র। তিনি এ নবধারার পথিকৃৎ স্রষ্টা ও শিল্পী। এ কারণে আয়ারল্যান্ডের বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক কলম তোইরিন কার্সনের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন, ‘কার্সন যদি স্রেফ একজন গদ্য লেখকও হতেন, তাহলেও বিশ্বব্যাপী তাকে একজন ক্ষণজন্মা প্রতিভাধর হিসাবে স্বীকৃতি দিত’। আসলে প্রকৃত অর্থেই কার্সন একজন ক্ষণজন্মা ও বিরলপ্রজ প্রতিভাধর বৃত্তভাঙ্গা বহুমাত্রিক লেখক-যার ‘জাদুকরী’ লেখার ভক্ত সাধারণ কেউ নন, যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক সমালোচক সুসান সনট্যাগ, বুকার জয়ী ঔপন্যাসিক মাইকেল ওনডাতজেসহ বিশ্বের তাবৎ পণ্ডিত, বোদ্ধা লেখক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সমালোচক, বরণ্য কবি ও ঔপন্যাসিক। এ কারণে তাকে বর্তমান সময়ের ‘লেখকদের লেখক’ বলা হয়।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

যৌনতা সেলিব্রেটি ও গ্ল্যামারের রাজনৈতিক ব্যবহার

যৌনতা সেলিব্রেটি ও গ্ল্যামারের রাজনৈতিক ব্যবহার

অ্যান কার্সন: সাহিত্যের সীমানা ভাঙার নবনির্মাতা

অ্যান কার্সন: সাহিত্যের সীমানা ভাঙার নবনির্মাতা

ফররুখ আহমদ: রোমান্টিক থেকে ধ্রুপদি

ফররুখ আহমদ: রোমান্টিক থেকে ধ্রুপদি

কিশোর হৃদয়ে ফ্র্যাঙ্ক ও’হারার কবিতার স্পর্শ

কিশোর হৃদয়ে ফ্র্যাঙ্ক ও’হারার কবিতার স্পর্শ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম