জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে গাছ লুটের অভিযোগ
রাজশাহীতে প্রতিবাদ করায় মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহীতে নুরুল ইসলাম মনি নামে এক জামায়াত নেতা এবং তার সহোদরদের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার গাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদ করায় এক ব্যক্তির বসতভিটা দখলের চেষ্টা, তাকে মারধর ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ঘটনাও ঘটেছে। দেওয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি। লুট করা গাছ বিক্রি করে জামায়াত নেতা ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণাদি ইতোমধ্যে যুগান্তরের হাতে এসে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় গোদাগাড়ী উপজেলার শোনশুনি পাড়ার মইদুল ইসলাম নামের এক নির্যাতিত ব্যক্তি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে মনির রাজনৈতিক দল এবং পদের বিষয়টি উল্লেখ নেই। শুধু একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতা হিসাবে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জানা গেছে, মনি রাজশাহী মহানগর জামায়াতের রাজপাড়া থানা কমিটির আমির। তিনি গোদাগাড়ীর শোনশুনি পাড়ার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। বর্তমানে মনি রাজশাহী মহানগরীর বহরমপুর এলাকায় বসবাস করছেন। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে নির্যাতিত মইদুল চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন বলে তার অভিযোগ। জেলা প্রশাসক ও ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগে মইদুল উল্লেখ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের পদ ও ক্ষমতার দাপটে মনি ও তার সহোদররা তিন মাস আগে আমাদের এলাকায় সরকারি রাস্তার ২২টি পরিণত তালগাছ প্রকাশ্যে কেটে বিক্রি করেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নেননি তারা। পরে ২৫ ডিসেম্বর মনির মদদে তার ভাই রফিকুল ইসলাম এবং অন্য ভাই ও ভাতিজারা (ভাইয়ের ছেলে) সংঘবদ্ধভাবে একই রাস্তার পাশে থাকা আরও সাতটি তালগাছ কেটে নেন। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ করলে আমার খামারের ভেতরে থাকা বরই গাছটিও কেটে নেন সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রটি। লিখিত অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনাটি আমি স্থানীয় ভূমি অফিসকে মৌখিকভাবে অবহিত করি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মনির ভাই রফিকুল এবং তার অন্য ভাইয়েরা আমার বসতভিটা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে। আমি ও আমার পরিবারের লোকজন বাধা দিলে তারা লাঠি ও লোহার রড দিয়ে আমাকে বেধড়ক মারধর করে। আমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ৪ জানুয়ারি গোদাগাড়ী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসা গ্রহণ করি। এরপর রফিকুল নিজেকে আহতের নাটক সাজিয়ে ৫ জানুয়ারি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি মামলা করেন। আমাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পরও মনি এবং তার সহোদররা আমাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এ কারণে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। তালগাছ লুটে মনি ও তার ভাই রফিকুল ছাড়াও তাদের আরও দুই ভাই শামসুল আলম ও সালাহউদ্দীন সরাসরি জড়িত। তারা সরকারি ২৯টি তালগাছ প্রকাশ্য দিবালোকে কেটে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাজপাড়া থানা জামায়াতের আমির মনি বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই রাজশাহী শহরে থাকি। নিজেদের জমিও ঠিকমতো চিনি না। আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই। আমার ভাইয়েরা সেখানে থাকেন। তাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেন। এ ব্যাপারে মনির ভাই শামসুল বলেন, আমরা সরকারি সড়কের গাছ কাটিনি। নিজেদের জমির আটটি গাছ কেটেছি। সড়কের গাছ কে বা কারা কেটেছে ও বিক্রি করেছে, সে বিষয়ে বলতে পারব না।
