মনপুরায় সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা
মাগরিবের আগে পাঠায় দিয়েন, নইলে বোটে আগুন জ্বালাইয়া দিমু
টাকার বিনিময়ে মেঘনায় মা ইলিশ শিকারের সুযোগ
Advertisement
মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদীতে টাকার বিনিময়ে মাছ শিকারের সুযোগ দিচ্ছেন উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা। মৎস্য ব্যবসায়ী ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবদুর রহিমের সঙ্গে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখার এ বিষয়ক একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ও উপজেলা বিএনপি নেতারা। বুধবার সকাল থেকে মেঘনায় মাছ শিকারের বিনিময়ে টাকার লেনদেনের অডিও রেকর্ডটি ভাইরাল হয়।
কল রেকর্ডে মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখাকে মৎস্য ব্যবসায়ীকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, ‘রহিম ভাই, শোনেন, একটা প্যাঁচ দিয়ে থুইয়া গেছেন। আমি না পারি অভিযান করতে। আমার ওপর থেকে চাপ আসতেছে। বাকি টাকা মাগরিবের আগে পাঠাই দিয়েন, না দিলে সব বোটে আগুন জ্বালাইয়া দিমু।’
জবাবে মৎস্য ব্যবসায়ী রহিম বলেন, ‘যা করেন করেন, ফরটি ফাইভ দিছি। এর মধ্যে যেভাবে হোক আপনি আমাকে সেভ কইরেন।’
এরপর কাজল রেখা বলেন, ‘আমারে তো চা খাওয়ার জন্যেও দেন নাই। চা খাওয়ার টাকা দিলেও তো খুশি হতাম।’
উপজেলা বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছালাউদ্দিন প্রিন্স লেনদেন সম্পর্কিত অডিও রেকর্ডিংটি পোস্ট করে লেখেন, ‘এই হলো গরিবের পেটে লাথি মারার অবরোধ, সবকিছু ভাগবাঁটোয়ারার খেলা।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা সাগরে মাছ ধরার দুই শতাধিক ট্রলারের প্রতিটি থেকে ২৫-৩০ হাজার টাকা নিয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মাছ ধরার অঘোষিত অনুমোদন দেন। পরে এই টাকা তিন ভাগ করে সবার কাছে পৌঁছে দেন অডিও ভাইরাল হওয়া মৎস্য ব্যবসায়ী ও যুবদল নেতা।
মৎস্য ব্যবসায়ী ও যুবদল নেতা আবদুর রহিমের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা বলেন, বিষয়টি শুনেছি, সত্যতা নিশ্চিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা বলেন, ‘এটা অনেক আগের রেকর্ড।’ এরপর তিনি অফিসে চা খাওয়ার দাওয়াত দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান সালমান হাবিব বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি শুনেছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
