সংলাপে বক্তারা
স্বাস্থ্যে পরিবর্তনে প্রয়োজন দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দুর্নীতি, অনিয়ম আর অপশাসনে জর্জরিত দেশের স্বাস্থ্য খাত। রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন সঠিক সেবা থেকে। ফলে অনেকে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন বিদেশে। এতে ক্ষতি হচ্ছে দেশের। তাই দেশের স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তনে প্রয়োজন দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ রোড টু ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ’ শীর্ষক নীতি সংলাপে এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (পিএইচসি) খসড়া আইন পর্যালোচনা’ শীর্ষক আলোচনার আয়োজন করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ইউএইচসি ফোরাম। সহযোগিতায় ছিল ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম।
বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য খাত সংস্কারে কমিশন গঠন ভালো উদ্যোগ। সরকার স্বাস্থ্যনীতি, ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য বিমা, চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা সংস্কার কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় গত ৬-৭ মাসে বড় আকারের পদোন্নতি ছাড়া স্বাস্থ্য খাতের মূল সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. একেএম ওয়ালি উল্লাহ বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা নাজুক, মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বাস্থ্যের দুরবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। যেখানে মিয়ানমারের মতো দেশের স্বাস্থ্য সূচক ৬৪, সেখানে আমাদের সূচক মাত্র ৫০ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তনে লিগ্যাল রিফর্ম লাগবে এবং সুশাসন অর্থাৎ দুর্নীতিমুক্ত সরকার প্রয়োজন।
হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজ বলেন, বড় সংকট হলো অতি-দলীয় রাজনীতি। যার কারণে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ চিকিৎসকরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন এবং রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির পরিবারকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ডা. মহসিন জিল্লুর করিম বলেন, ধ্বংসপ্রায় চিকিৎসা শিক্ষা ও বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করে যোগ্য চিকিৎসক এবং জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভুল চিকিৎসা ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে টাকা চুষে নেওয়ার অমানবিক সংস্কৃতি বদলে দিয়ে আমরা গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সুষম চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে চাই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এমএ ফয়েজ বলেন, ১১৬টিরও বেশি মেডিকেল কলেজ। কেবল সংখ্যা বাড়ালেও মানসম্মত চিকিৎসক তৈরিতে ব্যর্থ হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সমন্বিত, মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, যা সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং যার কোনো বিকল্প নেই। দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও যোগ্য নেতৃত্ব ছাড়া এই সংকট মোকাবেলা অসম্ভব।
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশে স্বাস্থ্য অবকাঠামো যথেষ্ট বিস্তৃত হলেও এর কার্যকারিতা বা ‘ফাংশনালিটি’ নিয়ে বড় সংকট রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ৫০০ বেডের হাসপাতালের ভবন থাকলেও সেবা মিলছে মাত্র ৫০ বেডের। তিনি বড় বড় নির্মাণ প্রকল্পের চেয়ে বিদ্যমান সুবিধাগুলোতে দক্ষ জনবল ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
হোসেন জিল্লুর রহমান সতর্ক করে বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে উপেক্ষা করলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই হবে না। গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি জানান, প্রতি বছর চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে দেশের একটি বড় অংশ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. আকরাম হোসেন, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি রাশেদ রাব্বি ও সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
