কিষোয়ান কারখানায় জব্দ ১৬৮১ বস্তা গম অবৈধ
Advertisement
আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামে কিষোয়ান গ্রুপের কারখানায় (ইউনাইটেড ফ্লাওয়ার মিল) জব্দ করা ২ হাজার ৪০১ বস্তা গমের মধ্যে ১ হাজার ৬৮১ বস্তা গমই অবৈধ। এসব গমের বৈধ কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি মালিকপক্ষ। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গার সাইলো থেকে বের হওয়া এসব সরকারি গম যাওয়ার কথা ছিল পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির এলএসডিতে (লোকাল স্টোরেজ ডিপো)। কিন্তু সরকারি গুদামে যাওয়ার আগেই এসব গম বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হয়। যা কিষোয়ান গ্রুপ কিনে মজুত করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এসব গম সরকারের কাছে চোরাই হিসাবে চিহ্নিত।
এর আগে শনিবার বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় অবস্থিত কিষোয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের গুদামে ঢোকার সময় দুটি ট্রাক আটক করা হয়। ওই গুদামে অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৪০১ বস্তা সরকারি গম জব্দ করে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগ ও এসআরবি। এছাড়া অবৈধভাবে সরকারি গম গুদামজাত করার দায়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। নির্দেশনা দেওয়া হয়, তিন দিনের মধ্যে জব্দ করা সরকারি গমের কাগজপত্র খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দেখাতে হবে। কারখানা কর্তৃপক্ষ কিছু কাগজপত্র জমা দেয়। এতে মাত্র ৭২০ বস্তা সরকারি গমের বৈধতা পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাদ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, খাদ্য বিভাগ আন্তরিক হলে কারা কারা সরকারি গম বাইরে বিক্রি করেছেন তা বের করা কঠিন নয়। সরকারি সাইলোতে ও সংশ্লিষ্ট মিলে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। তবে ৯ অক্টোবর পতেঙ্গা সাইলো থেকে গমবাহী ট্রাক বের হওয়ার সময় সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। এটি রহস্যজনক।
সাইলোর নিরাপত্তা কর্মকর্তা মর্জিনা বেগম যুগান্তরকে বলেন, ৯ অক্টোবর রাত থেকে সাইলোর প্রধান গেটের সিসি ক্যামেরা নষ্ট ছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিএম ফারুক হোসেন পাটওয়ারী যুগান্তরকে জানান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে আমার কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
