ভাঙ্গায় ৮ গ্রামের সংঘর্ষ পুলিশসহ আহত ২০০
৫০ দোকান ভাঙচুর ও লুট
Advertisement
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আট গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশসহ ২০০ আহত হয়েছে। এ সময় ৫০টি দোকান ভাঙচুর ও লুট করা হয়েছে। শুক্রবার ফুটবল খেলার মাইকিং করাকে কেন্দ্র করে চার গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেই জের ধরে শনিবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৫ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি এক সময় ভাঙ্গা থানা পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে ফরিদপুর থেকে আসা সেনাবাহিনী, র্যাব, ডিবি ও থানা পুলিশের কয়েকটি টিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সংঘর্ষে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকালে মুনসুরাবাদ, খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগারিয়া গ্রামের ছেলেরা ফুটবল খেলার জন্য মাইকিং করে। এ সময় মুনসুরাবাদের শওকতের ছেলে রাহাদ, সাদ্দাম ও তারেকের সঙ্গে খাপুরার জাহিদ ও আজিমের কথা কাটাকাটি ও এক পর্যায়ে মারামারি হয়। এরই জেরে খাপুরার ছেলেরা মুনসুরাবাদ বাজারের সেক্রেটারি জিন্নাত মাতুব্বরকে মারধর করে। জিন্নাতকে মারধরের খবর মুনসুরাবাদে ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের শত শত লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে খাপুরার লোকজনকে ধাওয়া দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আট গ্রামবাসী দুই ভাগে ভাগ হয়ে ৫ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চালায়। সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০০ লোক আহত হয়।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) আল আমিন বলেন, সকাল থেকে আট গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষ চালায়। পরিস্থিতি এক সময় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে সেনাসদস্য, র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সংঘর্ষে আমাদের কয়েকজন পুলিশসহ গ্রামের বহু লোক আহত হয়েছে।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জোবায়ের বলেন, সংঘর্ষে আহত এ পর্যন্ত ৪২ জনকে ভাঙ্গা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নগরকান্দায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২৫ : নগরকান্দা প্রতিনিধি জানান, উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের গোয়ালদী গ্রামে আধিপত্য নিয়ে তালুকদার গ্রুপের সঙ্গে মোল্লা গ্রুপের সংঘর্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গোয়ালদী গ্রামের আক্কাস মোল্লা ও তার সমর্থকদের সঙ্গে একই গ্রামের সলেমান তালুকদার ও তার সমর্থকদের শনিবার বিকালে সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয়পক্ষ ঢাল, সড়কি, রামদা ও বল্লমসহ নানা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখানে বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
