দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হতে হবে: ডেপুটি স্পিকার
‘সেরা তরুণদের সরকারি অর্থায়নে জাতিসংঘে পাঠানো হবে’
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের সবস্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তরুণদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, শুধু জিপিএ-৫ অর্জনের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে তরুণদের সৃজনশীলতা, দক্ষতা, মানবিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে মনোযোগী হতে হবে। ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করে যুক্তি ও আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ফিউচার বাংলাদেশ আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস (বিওয়াইএমইউএন) ২০২৬ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মিডিয়া পার্টনার হিসাবে রয়েছে যুগান্তর।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, দেশের ইতিহাসে বড় বড় আন্দোলন-সংগ্রামে তরুণরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। সামাজিক মর্যাদা, সমতা ও সমান সুযোগ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকে তারা বারবার আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানেও বহু তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন। তরুণদের এই আত্মত্যাগ ও আকাঙ্ক্ষার যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।
সম্মেলনে সেরা তরুণ প্রতিনিধিদের সরকারি অর্থায়নে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পাঠানোর আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে আগামী বছর থেকে এ উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, ফিউচার বাংলাদেশের আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দিতে চায় সরকার।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার শিক্ষার মূল পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে চায়। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগে সরকার নীতিগত সহায়তা দেবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল বলেন, বর্তমান সরকারের নীতি জনগণকেন্দ্রিক। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পৃক্ত।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ড, সম্মেলনের মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মোক্তাদির রায়হান এবং ফিউচার বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক রেদোয়ান আহমেদ।
‘নীতি ও তারুণ্যের সংযোগ’ স্লোগানে আয়োজিত সম্মেলনের প্রতিপাদ্য-‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে তারুণ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে কৃষি উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়ন’। দেশের ৬৪ জেলা থেকে আসা দুই শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ তরুণ প্রতিনিধি এতে অংশ নিচ্ছেন। আজ সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হবে।
