যুবদল নেতা রাকিব হত্যার জের
রংপুরে গুজব ছড়িয়ে দোকানপাট-বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুর
Advertisement
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রংপুরে মাদক ব্যবসার বিরোধে যুবদল নেতা রাকিব হাসান নিহত হওয়ার একদিন পর শুক্রবার রাতে নগরীর কামালকাছনার দাসপাড়ায় হামলা চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। গুজব ছড়িয়ে হামলার সময় সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে ২০টি বাড়ি-ঘরে ও ১০টি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর করে। শনিবার পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থল ঘুরে স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আশ্বাস দেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় বাড়ির পুরুষ ও অধিকাংশ নারী সদস্য দাসপাড়া মন্দিরে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকায় হামলাকারীরা একতরফা হামলা চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। ভয়ে অনেক পরিবারের সদস্যরা শিশু সন্তানদের বাড়ির বাইরে যেতে দিচ্ছেন না।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, ৯ এপ্রিল স্থানীয় মমিন মিয়া প্রকাশ্যে কামালকাছনা দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় রাকিব হাসানকে নির্মমভাবে হত্যা করে। মমিন বীরদর্পে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। শুক্রবার লাশ দাফন করা হয়। এ ঘটনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে রাকিব হাসানের বাড়ি বৈরাগীপাড়ার সন্ত্রাসী চক্র ‘খুনের ঘটনার সময় দাসপাড়ার কেউ এগিয়ে আসেনি ও পুলিশ কোনো তথ্য দেয়নি। তারা সন্ত্রাসীকে বাঁচাতে সহায়তা করছে’, এই গুজব ছড়িয়ে শুক্রবার দিনভর প্রচারণা চালিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পরে রাত সাড়ে ৮টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে তাণ্ডব সৃষ্টি করে।
দাসপাড়ার রুহুল আমিন, বিনোদিনী দাস, সুবর্ণা দাস ও অলোক দাসসহ অন্যরা বলেন, রাতে একদল সন্ত্রাসী আমাদের ঘরবাড়ি, দোকানপাটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। আমরা সবাই ভীত হয়ে পড়েছিলাম। অনেকে জীবন রক্ষার্থে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল।
শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, উপপুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) হাবিবুর রহমানসহ পুলিশ কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। উপপুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, রাকিব হত্যার ঘটনায় পুলিশের ডিবি, সিটিএসবি ও সিআইডি তথ্য সংগ্রহ করছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। যারা দাসপাড়ায় হামলা চালিয়েছে তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান জানান, দাসপাড়ায় হামলার ঘটনায় এখনো কেউ মামলা করেনি। মামলা করলে তদন্তে সুবিধা হবে।
