Logo
Logo
×

Advertisement

খবর

শিশু শিক্ষার্থীকে মেরে স্কুল থেকে বের করে দিলেন শিক্ষক

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

রাজধানীর ভাটারায় দ্বীপ আইডিয়াল হাই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির এতিম এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তাকে রক্তাক্ত করে স্কুল থেকেই বের দিয়েছেন তিনি। তাকে আর স্কুলেই রাখবেন না বলে শিশুটির মাকে ডেকে জানিয়ে দিয়েছেন ওই শিক্ষক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ এনে ভাটারা থানায় অভিযোগ দেওয়ার ১০ দিন পরও প্রতিকার পায়নি এই পরিবার।

এতিম শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনা শুনে শুক্রবার তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের গুলশান জোনের ডিসি এম তানভীর আহমেদ। এ ব্যাপারে আজ শনিবার দুপুরে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে বলে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৭ এপ্রিল দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ভাটারার খন্দকারবাড়ী মোড় এলাকায় অবস্থিত দ্বীপ আইডিয়াল হাই স্কুলে টিফিন পিরিয়ডে খেলাধুলার সময় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আবীর হোসেনের সঙ্গে তার সহপাঠী কাফির (১১) ধাক্কা লাগে। এতে কাফি পড়ে গিয়ে আহত হয়। ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবদাস বিশ্বাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহত শিক্ষার্থীকে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে আবীরকে মারধর করেন। শ্রেণিকক্ষে নিয়েও তাকে পুনরায় বেধড়ক মারধর করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তাকে থাপ্পড় মেরে ফেলে দেওয়া, বুকে লাথি মারার চেষ্টা এবং পায়ে ও মাথায় আঘাত করার মতো ঘটনাও ঘটে। এতে শিশুটি শারীরিকভাবে আহত ও মানসিকভাবে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।

আবীরের খালা জাহানারা বেগম স্কুলে গেলে বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. আমিন সরকার অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। একইসঙ্গে শিশুটিকে বহিষ্কারের হুমকি দেন। পরদিন স্কুলে গেলে আবারও আবীরকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। মা শিউলি বেগম বিদ্যালয়ে গেলে তাকেও অপমান করে বের করে দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা ভাটারা থানায় গেলে দায়িত্বরত এক উপপরিদর্শক (এসআই) অভিযোগ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেন। ঘটনায় আপসে যাওয়ার জন্য চাপ দেয় থানা কর্তৃপক্ষ। আপসে রাজি না হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়।

এদিকে আহত শিক্ষার্থীর পরিবারের কাছে গিয়েও ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবীরের মা শিউলি আক্তার। যুগান্তরকে তিনি বলেন, স্কুলে গেলে বাচ্চারা ক্লাসের ফাঁকে সুযোগ পেলে খেলাধুলা করে থাকে। এ সময় খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত আহত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। আবীরের ক্ষেত্রে ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ও খেলাধুলাজনিত দুর্ঘটনা। অথচ প্রধান শিক্ষক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার সন্তানের শিক্ষাজীবন হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষকের এমন আচরণে সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দেবদাস বিশ্বাস শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা সত্য নয়। তবে আবীর অনেক দুষ্ট। তাকে স্কুলে আসতে নিষেধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

শ্যামলীতে ট্রাকের ধাক্কায় দুই নারী নিহত

শ্যামলীতে ট্রাকের ধাক্কায় দুই নারী নিহত

দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হতে হবে: ডেপুটি স্পিকার

দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হতে হবে: ডেপুটি স্পিকার

লালনের তিরোধান দিবস ঘিরে সাধুর হাট

লালনের তিরোধান দিবস ঘিরে সাধুর হাট

বেনাপোলে আজ থেকে ৮ দিন বন্ধ আমদানি-রপ্তানি

বেনাপোলে আজ থেকে ৮ দিন বন্ধ আমদানি-রপ্তানি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম