মমেকে সংঘর্ষ, ১২ জনের নামে মামলা
ছাত্রদল থেকে দুজনকে অব্যাহতি
Advertisement
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) বাঘমারা ছাত্রাবাসে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মমেক ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম- আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপকে সাংগঠনিক পদ এবং নাফিউল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হাফিজুর রহমান সোহানের নেতৃত্বে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় সংসদ বরাবর জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় আটক মেডিকেল শিক্ষার্থী নাফিউল ও মীর হামিদুরসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনের নামে হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন আহত শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ মুয়াজের বড় ভাই ডা. আহমদ শফি। মমেক ৬১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মুয়াজ বর্তমানে ঢাকা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন। হামলায় আহত ৬১ ব্যাচের অপর শিক্ষার্থী মীর হামিদুর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শনিবার রাতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদকের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপকে সাংগঠনিক পদ এবং নাফিউল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। অপর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। উভয় বিবৃতিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই অনুমোদন ও নির্দেশনা প্রদান করেন।
মমেক বাঘমারা ছাত্রাবাসে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আটক মেডিকেল শিক্ষার্থী নাফিউল ও মীর হামিদুরসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনের নামে শনিবার রাতে গুরুতর আহত শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ মুয়াজের বড় ভাই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. আহমদ শফি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন। মামলায় অপর আসামিরা হলেন এমবিবিএস ৬১ ব্যাচের তিহান, নয়ন, অমিত, সাব্বির, ৬০ ব্যাচের নূরে জাওয়াত রুতাপ ও মাইনুল হাসান, ৫৭ ব্যাচের রাহি, বিডিএস-১৪ ব্যাচের ফুয়াদ হাসান বনি ও আহনাফ আবিদ, বিডিএস-১৩ ব্যাচের কাউসার আহম্মেদ সৌরভ।
জুনিয়র অনুসারীদের দিয়ে মোটরসাইকেলের তেল আনাকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের বাঘমারা ছাত্রাবাস ক্যানটিনে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ছাত্রদলের দুই কর্মী তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ মুয়াজ ও মীর হামিদুরের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মীর হামিদুর তার কক্ষে মুয়াজকে ডেকে নিয়ে জুনিয়রদের সামনে চড়থাপ্পড় মারেন। এ নিয়ে মুয়াজ ক্ষুব্ধ হয়ে রড দিয়ে মীর হামিদুরের মাথায় আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় দুপক্ষের অনুসারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় মীর হামিদুরের এক অনুসারী নাফিউল পুলিশের উপস্থিতিতেই মুয়াজকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নাফিউলকে হাতেনাতে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ঘটনার পর ভোরে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা করে সাত দিনের জন্য কলেজের সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত এবং শিক্ষার্থীদের শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আমানুল্লাহ মুয়াজ ও মীর হামিদুর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ৬১ ব্যাচের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মুয়াজ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী ও মীর হামিদুর কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের সদস্য।
