কুমিল্লায় বিএনপিকর্মীর কাণ্ড
অনৈতিক কাজের অপবাদ তিন লাখ টাকা দাবি
Advertisement
কুমিল্লা উত্তর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার তিতাসে ধর্ম বোনের সঙ্গে অনৈতিক কাজের অপবাদ দিয়ে প্রবাসী মো. হানিফ মিয়াকে (২৫) রাতভর আটকে রেখে ৩ লাখ টাকা দাবি করেছে স্থানীয় বিএনপিকর্মী শামিম। ২৪ মে রাতের এ ঘটনার পর ৮০ হাজার টাকা দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে নিয়েছেন সাবেক ইউপি সদস্য হনুফা বেগম (৫২)।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২৪ মে সন্ধ্যায় মজিদপুর গ্রামের মিছির আলীর ছেলে হানিফ মিয়া মায়ের দেওয়া ঈদের সেমাই ও চিনি নিয়ে পাশের গ্রাম কাকিয়াখালীতে ধর্ম বোনের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে খাওয়া দাওয়া সেরে রাত ৮টার দিকে তিনি বোনের ঘর থেকে বের হন। এ সময় আগে থেকে ওতপেতে থাকা ওই গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের ছেলে ফারুক মিয়া (৪০) তাকে আটক করে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে হানিফের সঙ্গে থাকা ৬ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর হানিফ ধর্ম বোনের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করেছে অভিযোগ এনে ফারুকের সহযোগী বিএনপিকর্মী শামিম ও কামাল হানিফের বাবা-মায়ের কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ছেলেকে মেরে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর হানিফের বাবা-মা উপায় না পেয়ে কুরবানির টাকাসহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধারদেনা করে ৮০ হাজার টাকা জোগাড় করে শামিম ও কামালকে দিলে ভোররাতে তারা হানিফকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় হানিফের মা হনুফা বেগম ফারুক, শামীম ও কামালের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪ জনের নামে তিতাস থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফারুক মিয়া এলাকায় নেই। তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। আরেক অভিযুক্ত বিএনপিকর্মী শামিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ বিচার সালিশে বসে প্রমাণ করতে হবে। ৫ আগস্টের আগে তো আপনাকে বিএনপির কোনো প্রোগ্রামে দেখা যায়নি? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি আগে থেকেই বিএনপি করি।
মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তন্ময় হাসান কাজল বলেন, শামিম আগে কখনো বিএনপি করেছে কি না, আমার জানা নেই। বর্তমানে আমার জানা মতে সে বিএনপি বা অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কোনো পদে নেই। নির্বাচনের সময় সে বিএনপির পক্ষে কাজ করেছে। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওসমান গনি ভূইয়া বলেন, আমি আগে খোঁজখবর নিই। তারপর এ বিষয়ে জানাব। তিতাস থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
