পাবনায় উদ্ধার বস্তাবন্দি লাশের রহস্য উন্মোচন
স্কুলছাত্রী রিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে প্রেমিক নাঈম
Advertisement
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় লাশ বহনকারী গাড়ি ঠেলে দিয়েছিলেন স্থানীয়রা। সেই সূত্রে পাবনার পদ্মা থেকে বুধবার সকালে হাত-পা বাঁধা এবং বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার লাশের হত্যারহস্য উদ্ঘাটিত হয়। লাশটি রিয়া খাতুন (১৫) নামের এক কিশোরীর। রিয়া পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের আজিজুল প্রামাণিকের মেয়ে এবং মাওলানা কাসিমুদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আর্থিক লেনদেনের বিরোধের জেরে প্রেমিক নাঈম তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে বন্ধুদের সহযোগিতায় লাশ বস্তায় ভরে প্রাইভেট কারে করে পদ্মায় ফেলে দেয়। এ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী নাইমসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার করা হয়েছে লাশ বহনে ব্যবহৃত গাড়ি। গ্রেফতাররা হলো-পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মৃত কাশেম প্রামাণিকের ছেলে মো. নাঈম এবং তার দুই সহযোগী একই গ্রামের শফিক শেখের ছেলে ইয়াসিন
শেখ এবং শিমুল প্রামাণিকের ছেলে তুহিন প্রামাণিক।
জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে রিয়া নাঈমের বাসায় যান। সেখানে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে নাঈম রিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশ লুকাতে সে তার বন্ধু ইয়াসিন এবং তুহিনকে ডেকে আনে। তারা রিয়ার লাশ বস্তায় ভরে পদ্মায় ফেলতে যায়। তীরে নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। তখন গাড়ির ভেতরে লাশ থাকা অবস্থাতেই চার যুবককে গাড়ি ঠেলতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। তারা গাড়িটি বলরামপুর মুজিব বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে দেন। তবে যুবকদের আচরণে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। সন্দেহের সূত্রে ঘটনার জট খুলে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপার সুফী উল্লাহ নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার সবাই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে।
