গোদাগাড়ী বালুমহাল
বাঁধের নিচ থেকে মাটি কেটে বিক্রি
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বিদিরপুরে নিয়ম লঙ্ঘন করে পদ্মা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের নিচ থেকে পলি মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগে তিনটি এক্সেভেটর (ভেকু), ট্রাক ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুরসহ শ্রমিকদের মারধর করেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পদ্মার পাঁচ মৌজা বালুমহালের ইজারাদার বালুমহাল সীমানার বাইরে বিদিরপুর বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ির নিকটবর্তী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধের নিচ থেকে পলিমাটি কেটে দেদার বিক্রি করে আসছেন। এর ফলে বাঁধসহ সংলগ্ন সরকারি স্থাপনা ও অনেকগুলো গ্রাম বসতি নদী ভাঙনের মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
এলাকার লোকজনের আরও অভিযোগ, বালুমহালের ইজারাদার রাজু আহমেদ মামুন ও তার সহযোগীদের একাধিকবার বালুর বদলে মাটি কাটা বন্ধ করতে বলার পরও তারা কর্ণপাত করেননি। ফলে শনিবার রাতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাটি কাটা কাজে নিয়োজিত এক্সেভেটর ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন। মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের কয়েকজনকে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে গোদাগাড়ীতে পদ্মার পাঁচ মৌজা বালুমহালের বিদিরপুর পয়েন্টে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে রোববার সকাল থেকে। তবে এ বালুমহালের সেখেরটেক প্রেমতলী পয়েন্টটি দিয়ে বালু উত্তোলন ও পরিবহণ অব্যাহত রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগে আরও জানা গেছে, চলতি বাংলা ১৪৩৩ সনের জন্য গোদাগাড়ীতে পদ্মার দক্ষিণ নির্মলচর, শেখেরটেক, এলাহিনগর, চর বার্নিশ ও পদ্মা নদীর পাঁচ মৌজার ২৭০ একর আয়তনের বালুমহালটি ইজারা নেন রাজশাহীর শ্যামপুর মৌলভীপাড়ার হক এন্টারপ্রাইজের মালিক রাজু আহমেদ মামুন। ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ এবারের ইজারামূল্য ছিল ২৩ কোটি ৯৪ লাখ ২৫ হাজার ৮৯৯ টাকা। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ইজারাদারের চুক্তি মোতাবেক নদীর নির্ধারিত সীমানার ভেতরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করার কথা। কিন্তু ইজারাদার চুক্তি লঙ্ঘন করে লোকালয়ের নিকটবর্তী নদীর বাঁধের নিচ থেকে পলি মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করে আসছেন।
এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বালুমহাল ইজারা নিলেও ইজারাদার ও তার সহযোগীরা শুরু থেকেই বিদিরপুর বিজিবি ফাঁড়ির নিকটবর্তী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের নিচ থেকে পলি মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করে আসছিলেন। বিদিরপুর বিজিবি ফাঁড়ির সদস্যরাসহ এলাকার লোকজন তাদের বাঁধসংলগ্ন এলাকা বাদ দিয়ে নদীর ভেতর থেকে বালু উত্তোলনের অনুরোধ করেন। কিন্তু ইজারাদার ও তার সহযোগীরা এতে কর্ণপাত করেননি। ফলে তারা বিদিরপুর বিজিবি ফাঁড়ির সামনে বাঁধের নিচ থেকে মাটি কাটা বন্ধ করেছেন।
ইজারাদার হক এন্টারপ্রাইজের অন্যতম অংশীদার শাহিনুর রহমান শিহাব জানান, আমরা বালুমহালের নির্ধারিত এলাকার ভেতরেই সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বালু উত্তোলন করছিলাম। বাঁধসংলগ্ন এলাকায় মাটি কাটার অভিযোগ ঠিক নয়। কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় একটি মহল মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছেন। চাঁদা না পেয়ে এলাকার মানুষকে উসকে দিয়ে শনিবার রাতে হামলা চালিয়ে বালু উত্তোলনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর ও শ্রমিকদের বেশ কয়েকজনকে মারধর করেছে।
