হজযাত্রীর লাগেজ না পাওয়া
কসবায় আবারও দুপক্ষের সংঘর্ষ আহত ১৫
Advertisement
কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কসবায় ওমরাহ ফেরত এক যাত্রীর লাগেজ ও মালামাল না পাওয়াকে কেন্দ্র করে ফের সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুপক্ষ। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের পাশাপাশি রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শনিবার বেলা ১১টায় উপজেলা সদরের কদমতলী এলাকায় স্থানীয় শাহপুর ও আড়াইবাড়ী গ্রামের লোকজনদের মধ্যে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এর আগে লাগেজের জেরে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কসবা পৌরসভার নতুনবাজারের ‘দ্য কসবা কো-অপারেটিভ মার্কেটে’ পালটাপালটি ধাওয়া, ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কসবা পৌরসভার শাহপুর এলাকার বাসিন্দা মরিয়ম বেগম কয়েক মাস আগে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদিতে যান। সম্প্রতি দেশে ফেরার পরও তার লাগেজ ও মালামাল হাতে না পাওয়ায় তিনি ছেলে ফয়সালকে সঙ্গে নিয়ে নতুনবাজারে অবস্থিত মোয়াল্লেম মো. গিয়াস উদ্দিনের অফিসে যান। সেখানে লাগেজের বিষয়ে জানতে চাইলে মোয়াল্লেমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মালামাল এখনো কার্গোতে রয়েছে এবং দেশে পৌঁছালে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এ নিয়ে মরিয়মের ছেলে ফয়সালের সঙ্গে মোয়াল্লেমের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অফিসটিতে ভাঙচুর এবং ফয়সালকে মারধর করে মোয়াল্লেমের লোকজন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শাহপুর ও আড়াইবাড়ী এলাকার বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনার পর কসবা থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও শনিবার সেই বিরোধের জেরে আবারও নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ চলা সংঘর্ষ অবশেষে প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহিনুর সুলতানা জানান, রাবার বুলেটের আঘাত গুরুতর হওয়ায় শাহপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম নামের একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়েছে। কসবা থানার ওসি নাজনিন সুলতানা বলেন, আগের বিরোধের জেরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ফের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
