Logo
Logo
×

Advertisement

খবর

কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল

চিকিৎসক ও দালালচক্রের মারধরে আহত রোগীর স্বামী

Advertisement

Icon

কিশোরগঞ্জ ব্যুরো

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসক তার অফিস কক্ষে রোগীর সঙ্গে আসা রোগীর স্বামীকে আটকে দালালচক্রের লোকজনকে নিয়ে নির্যাতন করেছেন। ওই চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর হাসপাতালে আসায় অপেক্ষমাণ রোগীদের ভোগান্তি নিয়ে ভিডিও ধারণ করায় স্ত্রী ও শিশুসন্তানের সামনে তাকে মারধর করা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং নিন্দার ঝড় ওঠে। এ ঘটনা নজরে এলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় থেকে রোববার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, শনিবার সকালে হাসপাতালটির বহির্বিভাগের ১৩৭ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী মো. উবায়দুল্লাহ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের আব্দুস বাছেদের ছেলে। অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌ ওই হাসপাতালের চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ হিসাবে কর্মরত। তিনি শহরে স্কিন ও লেজার কেয়ার সেন্টার নামে একটি ক্লিনিকও পরিচালনা করেন।

লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে উবায়দুল্লাহ তার অসুস্থ স্ত্রী ও আট মাস বয়সি শিশুসন্তানকে নিয়ে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক উপস্থিত না হওয়ায় তিনি অপেক্ষমাণ রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়টি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন।

অভিযোগে বলা হয়, প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালে আসেন চিকিৎসক ইসরাত জাহান মৌ। তখন দালালচক্রের লোকজন ভিডিও ধারণের বিষয়টি চিকিৎসককে জানালে উবায়দুল্লাহকে তার কক্ষে ডাকা হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি কক্ষে প্রবেশ করার পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। চিকিৎসক প্রথমে তার পরিচয় জানতে চান এবং কেন ভিডিও ধারণ করেছেন সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে ভিডিও মুছে ফেলার জন্য চাপ দেন। তিনি এতে আপত্তি জানালে চিকিৎসকের নির্দেশে আগে থেকে ওই কক্ষে অবস্থানরত দালালচক্রের লোকজন তাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে। এ সময় চিকিৎসক নিজেও তার জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং স্ত্রী-শিশু সন্তানের সামনে গলা চেপে ধরেন। একপর্যায়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে তার স্ত্রী কান্নাকাটি শুরু করেন। কক্ষের বাইরে থাকা রোগী ও স্বজনরা বিষয়টি টের পেয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং তিনি সেখান থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে তিনি কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জনের কাছে গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজন জানান, হঠাৎ করে কক্ষের ভেতর থেকে উচ্চস্বরে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনতে পান তারা। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্যাতনের শিকার ওই ব্যক্তির কান্নারত অবস্থায় বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনার বিষয়ে ডা. ইসরাত জাহান মৌ বলেন, অভিযোগকারী হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং সিরিয়াল অমান্য করে জোরপূর্বক তার কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় কক্ষে থাকা অন্য রোগীদের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। অভিযোগকারী ব্যক্তি প্রথমে তার সহকারীকে এবং পরে তাকেও ধাক্কা দেন। তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা মারধর, কলার ধরা কিংবা গলা চেপে ধরার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি পালটা অভিযোগও দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

কিশোরগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম বলেন, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), ঢাকা বিভাগের কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে স্বাস্থ্য বিভাগ।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

শ্যামলীতে ট্রাকের ধাক্কায় দুই নারী নিহত

শ্যামলীতে ট্রাকের ধাক্কায় দুই নারী নিহত

দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হতে হবে: ডেপুটি স্পিকার

দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হতে হবে: ডেপুটি স্পিকার

লালনের তিরোধান দিবস ঘিরে সাধুর হাট

লালনের তিরোধান দিবস ঘিরে সাধুর হাট

বেনাপোলে আজ থেকে ৮ দিন বন্ধ আমদানি-রপ্তানি

বেনাপোলে আজ থেকে ৮ দিন বন্ধ আমদানি-রপ্তানি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম