মীর্জাগঞ্জে মব সন্ত্রাস
মামলার প্রস্তুতি, পুলিশের ঘটনাস্থল পরিদর্শন
Advertisement
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জে মব সন্ত্রাস করে গভীর রাতে এক্সকেভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে মালামাল লুট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। রোববার সকালে মীর্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি দল সেখানে পরিদর্শন করে।
ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মালিক মিজানুর রহমান লাভলু কাজী। তিনি ১ নম্বর মাধবখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি। রোববার তিনি বলেন, আমি সকালে গুঁড়িয়ে দেওয়ার বাড়ির পরিস্থিতি দেখে এসেছি। বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দুয়েকদিনের মধ্যে মামলা করব।
শুক্রবার মধ্যরাতে পটুয়াখালী জেলার মীর্জাগঞ্জ কাঁঠালতলী এলাকায় এই মব সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর লাভলু কাজী পরিবারসহ এলাকা ছেড়ে চলে যান। এতদিন বাড়িটিতে তার বৃদ্ধ মা একাই বসবাস করতেন।
ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান লাভলু কাজী বলেন, শুক্রবার রাত ২টার দিকে আমি ফোনে জানতে পারি যে বিএনপিদলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নির্দেশে তার ছোট ভাই শাহিন চৌধুরীর নেতৃত্বে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আমার বাড়ি এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এরপর আমি কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. তালেবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। তবে পরে ওই কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না এবং পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে চাই না। পরে তিনি দাবি করেন, বাড়িটি সরকারি জমিতে নির্মিত হয়েছিল এবং কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তিনি জানেন না। মীর্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল বলেন, শনিবার সকালে ঘটনাটি জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি, তবে তারা কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বলেন, রোববার সকালে মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
দ্রুত তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
